
দৃশ্য ১.
আপনার বাচ্চা ফ্লোরে গড়াগড়ি দিয়ে কাঁদছে, “আমাকে চকলেট দিতেই হবে!”
আপনি রেগে আগুন, “একদম চুপ! একটা শব্দ করলে সোজা বাথরুমে আটকে রাখবো। আমি বলছি দেবো না, মানে দেবো না!”
দৃশ্য ২.
বাচ্চা একই চকলেট নিয়ে কাঁদছে।
আপনি অসহায় মুখে বলছেন, “আচ্ছা বাবা, এই নে চকলেট! তাও তুই একটু চুপ কর, মানুষের সামনে আর মানসম্মান রাখলি না!”
দৃশ্য ৩.
বাচ্চা আবারও কাঁদছে।
আপনি ওর লেভেলে হাঁটু গেড়ে বসে, শান্ত গলায় বললেন, “আমি জানি তোমার চকলেটটা খুব খেতে ইচ্ছে করছে, তাই তোমার মন খারাপ। কিন্তু, চকলেট খেলে দাঁতে পোকা হবে, পেটে ব্যাথা হবে। তুমি চাইলে আমরা বাসায় গিয়ে তোমার পছন্দের পুডিংটা খেতে পারি।
এই দৃশ্যগুলো খুব চেনা, তাই না? মা হওয়ার পর আমরা সবাই এই পেন্ডুলামের মতো দুলতে থাকি। কখনো ‘শক্ত’ হয়ে কষে ধমক দিই, আর রাতে বাচ্চার ঘুমন্ত মুখের দিকে তাকিয়ে অপরাধবোধে কাঁদি। আবার কখনো ‘বন্ধু’ সেজে বাচ্চার সব জেদের কাছে হার মানি, আর পরে ভাবি— “বাচ্চাটা কি গোল্লায় যাচ্ছে?”
এই যে ‘বেশি শাসন’ আর ‘অতিরিক্ত ছাড়’—এর মাঝখানে আমরা যে দিশেহারা হয়ে যাই, এর সমাধান কী?
১৯৬০-এর দশকে মনোবিজ্ঞানী Diana Baumrind একটা গবেষণা করেন। তিনি হাজারো পরিবার পর্যবেক্ষণ করে দেখেন, প্যারেন্টিং স্টাইলকে মূলত ৪ টা ভাগে ভাগ করা যায়। আর এই ৪ টা স্টাইল বাচ্চার ভবিষ্যৎ ব্যক্তিত্বে সরাসরি প্রভাব ফেলে।
প্রথম স্টাইল — Authoritarian (কর্তৃত্বপরায়ণ)
এই ধরনের মা-বাবা নিয়ম মানেন খুব কঠোরভাবে। “কারণ আমি বলেছি” — এই একটা বাক্যেই সব প্রশ্নের উত্তর শেষ। ভালোবাসা থাকে, কিন্তু সেটা প্রকাশ কম হয়। বাধ্যতাই এখানে সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।
এই পরিবেশে বড় হওয়া বাচ্চারা প্রায়ই ভয় থেকে নিয়ম মানে, বুঝে না। বড় হয়ে তারা হয় বিদ্রোহী, নয়তো অতিরিক্ত ভীতু হয়ে ওঠে।
দ্বিতীয় স্টাইল — Permissive (ছাড়প্রবণ)
এখানে ভালোবাসা প্রচুর, কিন্তু নিয়ম প্রায় নেই বললেই চলে। বাচ্চা যা চায় তাই পায়। “না” শব্দটা এই পরিবারে কম শোনা যায়।
আপাতদৃষ্টিতে খুব আদুরে মনে হলেও, এই পরিবেশে বড় হওয়া বাচ্চারা বড় হয়ে হতাশা সহ্য করতে পারে না, সীমানা মানতে কষ্ট হয়।
তৃতীয় স্টাইল — Neglectful (উদাসীন)
এখানে ভালোবাসাও কম, নিয়মও কম। মা-বাবা নিজেদের জীবনে এতটাই ব্যস্ত যে বাচ্চার প্রতি মনোযোগ দেয়ার সময়ই পান না।
এই স্টাইল সবচেয়ে ক্ষতিকর। বাচ্চা মনে করে তার অস্তিত্বই গুরুত্বপূর্ণ না।
চতুর্থ স্টাইল — Authoritative (কর্তৃত্বপূর্ণ কিন্তু উষ্ণ)
এটাই সেই ব্যালেন্স যেটা নিয়ে এত কথা হচ্ছে।
এখানে ভালোবাসাও আছে, নিয়মও আছে। মা-বাবা নিয়ম করেন, কিন্তু কারণ বোঝান। “না” বলেন, কিন্তু রাগ দিয়ে না, বুঝিয়ে। বাচ্চার আবেগকে গুরুত্ব দেন, আবার সীমানাও ঠিক রাখেন।
এই পরিবেশে বড় হওয়া বাচ্চারা সবচেয়ে বেশি আত্মবিশ্বাসী, মানসিকভাবে স্থিতিশীল, এবং সামাজিকভাবে দক্ষ হয়।
আপনারা এখন কোন দলে আছেন? রাগী, বন্ধু নাকি অথরিটেটিভ? একদম সত্যি কথাটা বলুন।
রুশদানের জন্য যা বানাই, ঠিক সেটাই আপনার বাবুর জন্য — ঘরে বানানো, নো প্রিজারভেটিভ, সাদা চিনি ছাড়া।
আরও গল্প পড়ুন

বাচ্চার উচ্চতা বাড়াতে মা-বাবার করণীয়
গতকাল আমি বাচ্চার খাটো হওয়ার পেছনে দীর্ঘমেয়াদি অপুষ্টি, রোদ না লাগানো আর কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো কারণগুলো নিয়ে কথা বলেছিলাম। অনেকেই জানতে চেয়েছেন, "আপু, তাহলে এখন আমাদের করণীয় কী? কীভাবে…
পুরো গল্পটা পড়ুন →
বাইরে গেলে বাচ্চা কেন চুপ হয়ে যায়?
Rushdan-কে বাসার বাইরে নিয়ে গেলে একটা অদ্ভুত জিনিস হয়। ঘরে যে ছেলে আমার পেছনে পেছনে ঘোরে, বাইরে গেলে সে আলাদা মানুষ। দৌড়ায়, লাফ দেয়, পিঁপড়ে দেখলে বসে পড়ে, পাখি দেখলে থামে, মাটিতে…
পুরো গল্পটা পড়ুন →
বাচ্চার জন্য রুটিন কেন এত জরুরি?
আপনার বাচ্চা কখনো সকালে নাস্তা করে আটটায়, কখনো নয়টা আবার কখনো ১০ টায়। কখনো দুপুরে ঘুম, কখনো নেই। রাতে ঘুমানোর সময়ও ঠিক নাই — কোনোদিন নয়টা, কোনোদিন এগারোটা বা বারোটা।
পুরো গল্পটা পড়ুন →