
রুশদান নানা বাড়িতে বেড়াতে এসেছে কদিন হলো। রুশদান ওর নানাবাড়িতে এলে এমনিতেই একটু বেশি এক্সাইটেড থাকে, আর ওর মামাকে তো চোখের আড়াল করতেই চায় না।
কিন্তু গতকাল দুপুরে এমন একটা কাণ্ড ঘটল, যা দেখে আমি সহ বাসার সবাই আক্ষরিক অর্থেই হা হয়ে গেলাম!
রুশদান ওর মামার কোলে বসে খেলছিল। হঠাৎ করেই ও হাসতে হাসতে ওর মামার গায়ে ইচ্ছে করে প্রশ্রাব করে দিল!
আমি রীতিমতো স্তব্ধ।
কারণ রুশদান এখন বেশ বড় হয়েছে। ওর প্রশ্রাব পেলে সে নিজেই পটিতে যায় বা বাথরুমে নিয়ে যেতে বলে। ইচ্ছে করে কারও গায়ে এমন কাজ সে জীবনেও করেনি।
আমার প্রথম রিঅ্যাকশন ছিল— “এক্ষুনি একটা কষে চড় লাগাই!” মেজাজ তখন আমার সপ্তম আসমানে।
কিন্তু আমি নিজেকে অনেক কষ্টে কন্ট্রোল করলাম।
কারণ আমি জানি, এই মুহূর্তে আমি যদি রেগে গিয়ে ওকে মারি বা সবার সামনে অপমান করি, ও শুধু ভয় পাবে, নিজের ভুলটা বুঝবে না।
অনেক মা-ই আমাকে জিজ্ঞেস করেন, “আপু, বাচ্চারা যখন এমন অতিরিক্ত করে, তখন বকা বা মার না দিয়ে শাসন করব কীভাবে?”
এই জায়গাটাতেই আসে প্যারেন্টিংয়ের সবচেয়ে বড় এবং জাদুকরী একটা থিওরি— “বাচ্চার আবেগকে সম্মান করুন, কিন্তু বাজে আচরণে জিরো টলারেন্স দেখাতে হবে।”
কালকের ঘটনাটা দিয়ে বুঝাই:
আমি রুশদানকে সাথে সাথে মামার কোল থেকে নামিয়ে নিলাম। আমি চিৎকার করলাম না, কিন্তু আমার গলাটা ছিল একদম শক্ত আর গম্ভীর।
ওর চোখে চোখ রেখে বললাম, “তুমি মামার সাথে মজা করতে চেয়েছ, আমি জানি। কিন্তু তাই বলে গায়ে প্রশ্রাব করে দেওয়া একদম পচা কাজ। এটা আর কখনো করা যাবে না।”
লক্ষ করুন, আমি এখানে দুটো কাজ করেছি:
১. ওর ইমোশনকে ভ্যালিডেট করেছি: আমি ওকে বুঝিয়েছি যে আমি জানি ও মজা করছিল বা এক্সাইটেড ছিল (আবেগকে সম্মান)।
২. আচরণে বাধা দিয়েছি: কিন্তু মজা করার নামে ও যে কাজটা করেছে, সেটা যে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, তা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছি (আচরণে জিরো টলারেন্স)।
বাচ্চারা অনেক সময় আমাদের মনোযোগ পাওয়ার জন্য বা অতিরিক্ত আনন্দে এমন সব অদ্ভুত কাজ করে বসে, যা দেখলে আমাদের মনে হয় ওরা বেয়াদব হয়ে যাচ্ছে।
আসলে বাচ্চা রাগ করতে পারে, এক্সাইটমেন্টে লাফাতে পারে—এগুলো ওর আবেগ, এখানে বাধা দেওয়ার কিছু নেই।
কিন্তু রাগের মাথায় কাউকে মারা, জিনিস ভাঙা বা কালকের ওই ঘটনার মতো কিছু করা—এগুলো হলো বাজে আচরণ। আর এখানেই আমাদের শক্ত হতে হবে।
গায়ে হাত না তুলেও কিন্তু গলা শক্ত করে চোখের দিকে তাকিয়ে ‘না’ বলা যায়। আর বাচ্চারা এই ‘গম্ভীর না’-টার ভাষাই সবচেয়ে ভালো বোঝে।
আপনার বাচ্চা কি কখনো হঠাৎ করে এমন কোনো অদ্ভুত বা বাজে কাজ করেছে, যা দেখে আপনি অবাক হয়েছেন? তখন কীভাবে সামলেছিলেন?
রুশদানের জন্য যা বানাই, ঠিক সেটাই আপনার বাবুর জন্য — ঘরে বানানো, নো প্রিজারভেটিভ, সাদা চিনি ছাড়া।
আরও গল্প পড়ুন

বাচ্চার জন্য রুটিন কেন এত জরুরি?
আপনার বাচ্চা কখনো সকালে নাস্তা করে আটটায়, কখনো নয়টা আবার কখনো ১০ টায়। কখনো দুপুরে ঘুম, কখনো নেই। রাতে ঘুমানোর সময়ও ঠিক নাই — কোনোদিন নয়টা, কোনোদিন এগারোটা বা বারোটা।
পুরো গল্পটা পড়ুন →
মনোযোগ ধরে রাখতে ব্রেনের ৩টি সুপারফুড
কদিন আগের ঘটনা। আমার এক বান্ধবী এসেছিল ওর তিন বছরের ছেলেকে নিয়ে। বাচ্চাটা ড্রয়িংরুমে বসে একটা পাজল মেলাচ্ছিল। আমি খেয়াল করলাম, ঠিক ৫ মিনিট পরই সে পাজলটা ছুড়ে ফেলে দিল! এরপর গেল টিভির…
পুরো গল্পটা পড়ুন →
ভয় দেখিয়ে খাওয়ানো: শর্টকাটের আড়ালে বড় ক্ষতি
"ভাত না খেলে কিন্তু পুলিশ ডাকবো!" অথবা, "চোখ বন্ধ করো, নাহলে কিন্তু ভূত এসে ধরে নিয়ে যাবে!" আমাদের দেশে এই ডায়লগগুলো শোনেননি, এমন মানুষ মনে হয় খুঁজে পাওয়া যাবে না। ছোটবেলায় আমরা…
পুরো গল্পটা পড়ুন →