
টিভি বা সিনেমায় আমরা একটা দৃশ্য খুব দেখি। খুব সুন্দর পরিপাটি একজন মা, ঠোঁটে হালকা হাসি নিয়ে মাত্র জন্ম নেওয়া ফুটফুটে একটা বাচ্চাকে কোলে নিয়ে বসে আছেন। চারপাশের সবাই খুশিতে আত্মহারা। মনে হয় যেন এর চেয়ে সুন্দর আর জাদুকরী মুহূর্ত পৃথিবীতে আর নেই।
কিন্তু বাস্তব? বাস্তবের গল্পটা ওই সিনেমার মতো এত সুন্দর করে সাজানো থাকে না।
আমি যখন প্রথমবার রুশদানকে কোলে নিলাম, তখন আমার অনুভূতিটা খুশি আর ভয়ের একটা অদ্ভুত মিশ্রণ ছিল। কিন্তু আসল ধাক্কাটা খেলাম ডেলিভারির পর প্রথম রাতে।
২ দিনের ওই অমানুষিক লেবার পেইন বা সিজারিয়ানের পর শরীরটা তখন আক্ষরিক অর্থেই ভেঙে চুরমার। চোখের পাতা ক্লান্তিতে বুজে আসছে, মনে হচ্ছে যেন এক যুগ ধরে ঘুমাইনি। কাটা জায়গার সেলাইয়ের ব্যথায় সামান্য নড়াচড়া করাও যেন একটা শাস্তি। ঠিক সেই মুহূর্তে যখন বাচ্চাটা তীব্র স্বরে কেঁদে ওঠে, তখন প্রথম যে অনুভূতিটা হয়, তা সিনেমার মতো কোনো ম্যাজিক নয়, সেটা হলো এক চরম অসহায়ত্ব!
মনে হচ্ছিল, “আমি তো নিজেই নড়তে পারছি না, আমি এই ছোট্ট মানুষটাকে সামলাবো কীভাবে?” নার্স এসে বলছে, “বাচ্চাকে দুধ দিন।” কিন্তু আমি তো জানিই না কীভাবে ধরতে হবে! ব্যথা, ক্লান্তি আর না পারার হতাশায় সেই রাতে আমি নীরবে কতবার যে কেঁদেছি, তার কোনো হিসাব নেই।
চারপাশের আত্মীয়স্বজন তখন উৎসব করছে, কিন্তু মায়ের মনের ভেতর যে একটা বিশাল ঝড় চলছে, সেটা কেউ টেরই পায় না। হঠাৎ করে একটা মানুষের পুরো অস্তিত্ব আরেকটা ছোট্ট মানুষের ওপর নির্ভরশীল হয়ে গেল—এই ভয়টা যে কত বিশাল, তা শুধু সেই মা-ই বোঝেন যিনি সদ্য এই প্রসেসটার ভেতর দিয়ে গেছেন।
আমরা মায়েরা প্রথম রাতেই ‘সুপারওম্যান’ হয়ে যাই না। আমাদেরও ভয় লাগে, আমাদেরও কষ্ট হয়, আমাদেরও মনে হয়, “আমি কি পারব?” আর বিশ্বাস করুন, এই ভয় পাওয়াটা কোনো অপরাধ নয়। এটা খুব স্বাভাবিক।
নতুন মায়েদের বলছি, প্রথম কয়েকটা দিন খুব কঠিন যাবে। শরীর আর মন—দুটোই বিদ্রোহ করবে। কিন্তু একটু ধৈর্য ধরুন। আপনি পারবেন, আমরা সবাই পেরেছি।
আপনাদের কার কার ডেলিভারির পরের প্রথম রাতের কথা মনে আছে? সেই রাতের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল? শেয়ার করুন, হয়তো আপনার একটা কথাই আজ কোনো নতুন মাকে ভরসা জোগাবে।
বিঃদ্রঃ মাতৃত্বের আড়ালে- পর্ব ২ আগামিকাল পোস্ট করা হবে।
রুশদানের জন্য যা বানাই, ঠিক সেটাই আপনার বাবুর জন্য — ঘরে বানানো, নো প্রিজারভেটিভ, সাদা চিনি ছাড়া।
আরও গল্প পড়ুন

দেরিতে কথা বলা নিয়ে মায়ের দুশ্চিন্তা
মায়েরা মনে হয় পৃথিবীর সবচেয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত প্রাণী! মাথার ভেতর সারাক্ষণ একটা অদৃশ্য 'চেকলিস্ট' ঘুরতে থাকে— বাচ্চা ৬ মাসে বসল কি না, ১ বছরে হাঁটল কি না, আর ২ বছরে গড়গড় করে কথা বলল কি…
পুরো গল্পটা পড়ুন →
আদর আর আবদারের পার্থক্য না বুঝলেই বিপদ
Rushdan একদিন দোকানে গিয়ে একটা খেলনা চাইল। আমি বললাম, "না।"
পুরো গল্পটা পড়ুন →
মসজিদ দেখলেই রুশদানের নতুন অভ্যাস
ইদানীং রুশদানের একটা নতুন অভ্যাস হয়েছে। বাসার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় মসজিদ দেখলেই ওর ছোট্ট আঙুলটা উঁচু করে বলে, "নামাজ পড়বো!" ওর মুখে এই কথাটা শুনলে আমার বুকটা কেমন যেন শান্তিতে ভরে যায়।…
পুরো গল্পটা পড়ুন →