
রুশদান রাগ করলে মাটিতে গড়াগড়ি দেয় না।
সে করে অন্য কিছু — একটানা ঘ্যান ঘ্যান। এমন একটা সুর যেটা কানে ঢুকলে মাথা থেকে আর বের হয় না। প্রথম পাঁচ মিনিট সামলাই, দশ মিনিটে একটু কঠিন হয়, আধাঘণ্টা পর মনে হয় আমি নিজেই কাঁদব।
কিন্তু অনেক বাচ্চা আছে যারা এক ধাপ আগে চলে যায়। মাটিতে শুয়ে পড়ে, হাত-পা ছোঁড়ে, চিৎকার করে। শপিং মলে, আত্মীয়ের বাড়িতে, রাস্তার মাঝখানে।
দুটো আলাদা, কিন্তু ভেতরের কারণ একটাই।
এই আচরণ কেন হয়?
এর একটা নাম আছে — Temper Tantrum। এবং দুই থেকে চার বছর বয়সে এটা প্রায় প্রতিটা বাচ্চার মধ্যে দেখা যায়।
কারণটা সহজ। এই বয়সে বাচ্চার চাওয়া অনেক, কিন্তু ভাষা কম। হতাশা বা রাগ প্রকাশ করার উপায় সে জানে না। তার ওপর মস্তিষ্কের যে অংশ আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে সেটা এখনো পরিপক্ক হয়নি।
তাই শরীর দিয়ে বলে যা মুখে বলতে পারে না।
কেউ মাটিতে গড়াগড়ি দিয়ে বলে, কেউ ঘ্যান ঘ্যান করে বলে। ভাষা আলাদা, কষ্টটা একই।
যে ভুলটা বেশিরভাগ মা বাবা করেন!
রাগ দেখিয়ে বকা দেন। অথবা চুপ করাতে যা চেয়েছিল সেটা দিয়ে দেন।
দুটোই কাজ করে — কিন্তু উল্টো দিকে।
বকা দিলে বাচ্চা আরো উত্তেজিত হয়, কান্না বাড়ে। আর চাওয়া মাত্র পেয়ে গেলে বাচ্চা শিখে যায় — ঘ্যান ঘ্যান করলেই কাজ হয়। পরেরবার আরো বেশিক্ষণ করবে।
তাহলে সঠিক উপায় কী?
প্রথম কাজ — নিজে শান্ত থাকা। এটা সবচেয়ে কঠিন, কিন্তু সবচেয়ে জরুরি। আপনার উত্তেজনা বাচ্চার উত্তেজনায় আগুন ঢালে।
দ্বিতীয় কাজ — ঝড় থামতে দিন। Tantrum-এর একটা চক্র আছে। শুরু হয়, তীব্র হয়, তারপর থামে। জোর করে থামানো যায় না। পাশে আছ, কিন্তু রিঅ্যাক্ট করছ না — এটুকুই যথেষ্ট।
তৃতীয় কাজ — সিদ্ধান্ত বদলাবেন না। “না” মানে “না”। ঘ্যান ঘ্যান দেখে সিদ্ধান্ত বদলালে বাচ্চা বুঝে যাবে এটাই সমাধান।
চতুর্থ কাজ — ঝড় থামার পর কথা বলুন। বাচ্চা শান্ত হলে কোলে নিন। বলুন, “তুমি রাগ করেছিলে, বুঝেছি। কিন্তু এভাবে করলে হয় না। রাগ লাগলে বলবে।”
এই কথাটা ঘ্যান ঘ্যানের মাঝে বলে লাভ নেই। শান্ত মাথায় বললে তবেই বাচ্চার কাছে পৌঁছায়।
পাবলিক প্লেসে হলে কী করবেন?
শপিং মল, বাজার, আত্মীয়ের বাড়ি — এই জায়গাগুলোতে হলে বাড়তি চাপ থাকে চারপাশের মানুষের চোখ।
একটাই কাজ করুন — বাচ্চাকে নিয়ে একটু সরে যান। কোনো কোণে, বাইরে, যেখানে একটু আড়াল পাবেন। সেখানে একই কাজ করুন। শান্ত থাকুন, ঝড় থামতে দিন।
চারপাশের মানুষ কী ভাবছে সেটা ভাবার সময় এটা না।
Rushdan এখন আস্তে আস্তে শিখছে। সব Tantrum-এ সফল হই না। কোনো কোনো দিন আমিও ধৈর্য হারাই।
কিন্তু প্রতিবার শেষে মনে করিয়ে দিই নিজেকে — এই ঘ্যান ঘ্যানটা সাময়িক। বাচ্চাটা খারাপ না, সে শুধু এখনো শিখছে।
আর আমিও।
Follow করুন Parenting পেজ: Rushdan
বাচ্চাদের নিয়ে আড্ডা দিতে জয়েন করুন: Rushdan Parenting Club
রুশদানের জন্য যা বানাই, ঠিক সেটাই আপনার বাবুর জন্য — ঘরে বানানো, নো প্রিজারভেটিভ, সাদা চিনি ছাড়া।
আরও গল্প পড়ুন

“এত কোলে নিও না” — সত্যিই কি অভ্যাস খারাপ হয়?
Rushdan-কে কোলে নিলে পরিচিত কিছু কিছু মানুষজন বলে, "এত কোলে নিও না, অভ্যাস হয়ে যাবে।"
পুরো গল্পটা পড়ুন →
মাঝরাতে বাচ্চার কাশি
বাচ্চার কাশির শব্দ শুনে মাঝরাতে আপনার ঘুম ভেঙেছে কখনো? আমার তো প্রায়ই ভাঙে। আর ঘুম ভাঙার পর বাকি রাতটা দুশ্চিন্তায় কাটে—এটা কি শুধু সাধারণ ঠান্ডা লাগা, নাকি এর চেয়েও ভয়ের কিছু? শুরুটা…
পুরো গল্পটা পড়ুন →
পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন: নতুন মায়ের নীরব কষ্ট
বাচ্চার জন্মের পর প্রথম এক বছরে যে মায়েরা মা*রা যান, তাদের মধ্যে একটা বড় অংশের মৃত্যুর কারণ আত্ম*হত্যা? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ৭ জন নতুন মায়ের মধ্যে ১ জন এই ভয়াবহ…
পুরো গল্পটা পড়ুন →