
বাচ্চার জন্মের পর প্রথম এক বছরে যে মায়েরা মারা যান, তাদের মধ্যে একটা বড় অংশের মৃত্যুর কারণ আত্মহত্যা? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ৭ জন নতুন মায়ের মধ্যে ১ জন এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে যান। আর এই ভয়াবহ পরিণতির পেছনের নীরব ঘাতকটার নাম পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন।
আমার মনে আছে, রুশদান হওয়ার পরের সেই দিনগুলোর কথা। ও আমার বুকে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে থাকতো, আর আমি ওর মুখের দিকে তাকিয়ে অকারণে কাঁদতাম। বুকের ভেতরটা কেমন যেন খালি খালি লাগতো। সবাই বলতো, “মা হওয়ার আনন্দেই এমন হচ্ছে।” কিন্তু আমি বুঝতাম, এই কান্নাটা আনন্দের নয়। এর ভেতরে কোথাও একটা গভীর বিষণ্ণতা লুকিয়ে আছে।
এই বিষণ্ণতাটা কোন মানসিক দুর্বলতা বা মা হিসেবে ব্যর্থতা নয়। বাচ্চা জন্মের পর আমাদের শরীরে হরমোনের যে বিশাল তোলপাড় হয়, তার সাথে যোগ হয় টানা রাত জাগার অসহনীয় ক্লান্তি, নিজের পরিবর্তিত শরীর আর নতুন জীবনের বিশাল দায়িত্বের চাপ। সব মিলিয়েই এই মেঘটা এসে মায়েদের ঘিরে ধরে।
এর ক্ষতিটা শুধু মায়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, এর গভীর ছায়াটা পড়ে বাচ্চার উপরেও। একটা বিষণ্ণ মায়ের পক্ষে বাচ্চার সাথে সেই গভীর মানসিক সংযোগটা (Bonding) তৈরি করা খুব কঠিন হয়ে পড়ে। অথচ, বাচ্চার মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য, তার নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য মায়ের হাসি, মায়ের আদর, মায়ের সাড়া দেওয়াটা ভীষণ জরুরি। মা যখন নিজের সাথেই যুদ্ধ করতে ব্যস্ত, তখন তিনি বাচ্চার প্রয়োজনগুলো ঠিকভাবে বুঝতে পারেন না। এই শূন্যতাটা শিশুর বেড়ে ওঠায় দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলে।
এই মেঘটা থেকে বের হয়ে আসা সম্ভব। এর প্রথম ধাপটাই হলো নিজের অনুভূতিটাকে স্বীকার করে নেওয়া। চুপ করে থাকবেন না। আপনার স্বামীর সাথে বলুন, আপনার সবচেয়ে কাছের বন্ধুটির হাতটা ধরুন। তাকে বলুন, “আমার ভালো লাগছে না।” দেখবেন, বুকের ওপর থেকে বিশাল একটা পাথর নেমে গেছে। সবকিছু একা সামলানোর heroic চেষ্টাটা কিছুদিন বন্ধ রাখুন। কাছের মানুষের সাহায্য চাইতে দ্বিধা করবেন না, কারণ সাহায্য চাওয়াটা দুর্বলতা নয়।
এর পাশাপাশি নিজের জন্যও দিনে অন্তত দশটা মিনিট সময় বের করুন। ওই দশ মিনিটে আপনি শুধু আপনি, আর কেউ নন। এক কাপ ধোঁয়া ওঠা চা খান, বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ান, কিংবা পছন্দের একটা গান শুনুন। আর পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি খান, পুষ্টিকর খাবার খান। শরীরটা ভালো থাকলে মনটাও লড়াই করার শক্তি পায়। এরপরও যদি মনে হয়, এই মেঘটা কাটছেই না, তখন ডাক্তারের সাহায্য নিতে একটুও লজ্জা পাবেন না। এটা কোনো লজ্জার বিষয় নয়, বরং নিজের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার লক্ষণ।
আপনি একা একজন মায়ের সমস্যা না। আমরা প্রায় সব মা-ই এই মেঘে ঢাকা পথটা দিয়ে হেঁটেছি। এই মেঘটাও একসময় কেটে যাবে, শুধু একটু যত্ন আর একটুখানি আলো দরকার।
Follow করুন Parenting পেজ: Rushdan
বাচ্চাদের নিয়ে আড্ডা দিতে জয়েন করুনঃ Rushdan Parenting Club
রুশদানের জন্য যা বানাই, ঠিক সেটাই আপনার বাবুর জন্য — ঘরে বানানো, নো প্রিজারভেটিভ, সাদা চিনি ছাড়া।
আরও গল্প পড়ুন

“আমি যা বলছি তাই হবে!” — এই শাসন কতটা ঠিক?
"আমি যা বলছি তাই হবে! তুমি আমার কথা মানতে বাধ্য!" বাচ্চারা যখন একটু বেশি জেদ করে বা দুষ্টুমি করে, তখন আমরা হয়তো রেগে গিয়ে এমন কথা বলেই ফেলি।
পুরো গল্পটা পড়ুন →
বাচ্চার জন্য রুটিন কেন এত জরুরি?
আপনার বাচ্চা কখনো সকালে নাস্তা করে আটটায়, কখনো নয়টা আবার কখনো ১০ টায়। কখনো দুপুরে ঘুম, কখনো নেই। রাতে ঘুমানোর সময়ও ঠিক নাই — কোনোদিন নয়টা, কোনোদিন এগারোটা বা বারোটা।
পুরো গল্পটা পড়ুন →
রাত ১১টা, তবুও বাচ্চা ঘুমাতে চায় না
রাত ১১টা বাজে। আপনার সারাদিনের এনার্জি শেষ, চোখ ঘুমে বন্ধ হয়ে আসছে। কিন্তু আপনার বাচ্চার দিকে তাকিয়ে দেখলেন, সে ফুল চার্জড একটা ব্যাটারির মতো সারা ঘর দৌড়ে বেড়াচ্ছে! খেলনা নিয়ে খেলছে,…
পুরো গল্পটা পড়ুন →