
Rushdan-কে কোলে নিলে পরিচিত কিছু কিছু মানুষজন বলে,
“এত কোলে নিও না, অভ্যাস হয়ে যাবে।”
“কাঁদলে সাথে সাথে নিও না, একটু কাঁদুক।”
“এত আদর করলে মাথায় উঠবে।”
আমি চুপ করে শুনতাম। তবে দ্বিধায় পড়তাম না।
বাচ্চাকে বেশি আদর করলে নষ্ট হয় না। এটা মিথ। এবং গবেষণা এই মিথকে সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণ করেছে।
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের Center on the Developing Child-এর গবেষণা বলছে, জীবনের প্রথম বছরগুলোতে বাচ্চার সাথে যত বেশি উষ্ণ, সাড়া দেওয়া সম্পর্ক থাকে — তার মস্তিষ্কের বিকাশ তত ভালো হয়।
বাচ্চা কাঁদলে সাথে সাথে সাড়া দেওয়া, কোলে নেওয়া, আদর করা — এগুলো মস্তিষ্কে অক্সিটোসিন নামের হরমোন তৈরি করে। এই হরমোন বিশ্বাস, নিরাপত্তা আর ভালোবাসার অনুভূতি তৈরি করে। আর এই অনুভূতিটাই বাচ্চার মানসিক ভিত্তি গড়ে দেয়।
“Spoiling” আসলে কী?
বাংলায় আমরা বলি “নষ্ট করা।” কিন্তু মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, শিশু বয়সে আদর দিয়ে বাচ্চা নষ্ট হয় না।
“Spoiling” বা নষ্ট হওয়ার ধারণাটা আসে অনেক পরে — যখন বাচ্চা বড় হয় এবং তার সব আবদার পূরণ করা হয়, সীমানা শেখানো হয় না। সেটা আদরের সমস্যা না, সীমানার সমস্যা।
ছোট বাচ্চার ক্ষেত্রে বিষয়টা সম্পূর্ণ আলাদা। দুই বছরের নিচের বাচ্চা কাঁদে কারণ তার সত্যিকারের প্রয়োজন আছে। সেই প্রয়োজনে সাড়া না দেওয়া মানে বাচ্চাকে শেখানো — “তোমার কষ্টের কথা বললে কেউ আসে না।”
এই শিক্ষাটা পরবর্তী জীবনে কতটা ক্ষতিকর হতে পারে সেটা ভাবলে গায়ে কাঁটা দেয়।
Attachment Theory কী বলে?
১৯৫০-এর দশকে মনোবিজ্ঞানী John Bowlby প্রথম বলেন — বাচ্চার মানসিক বিকাশের জন্য মায়ের সাথে শক্তিশালী, নিরাপদ বন্ধন সবচেয়ে জরুরি।
এই বন্ধনকে বলে “Secure Attachment।” গবেষণায় দেখা গেছে, যে বাচ্চারা ছোটবেলায় মায়ের কাছ থেকে পর্যাপ্ত আদর, মনোযোগ আর সাড়া পেয়েছে — তারা বড় হয়ে বেশি আত্মবিশ্বাসী, বেশি স্বাধীন এবং সম্পর্কে বেশি সুস্থ থাকে।
উল্টোটাও সত্যি। যে বাচ্চাকে কাঁদিয়ে রাখা হয়েছে, আদর থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে — সে বড় হয়ে বেশি নির্ভরশীল, বেশি উদ্বিগ্ন হয়।
মানে আদর কম দিলে নষ্ট হয়, বেশি দিলে নয়।
তাহলে কোথায় সীমানা?
আদরে সীমানা নেই। কিন্তু আবদারে সীমানা আছে।
বাচ্চাকে কোলে নিন — যতবার মনে চায়। কাঁদলে সাথে সাথে সাড়া দিন। ভালোবাসা দেখান, স্পর্শ করুন, কথা বলুন।
কিন্তু সব আবদার পূরণ করবেন না। “না” বলতে শেখান। সীমানা তৈরি করুন — ভালোবাসার সাথে।
এই দুটো একসাথে থাকলে বাচ্চা নষ্ট হয় না। বরং সবচেয়ে সুন্দরভাবে বিকশিত হয়।
Rushdan-কে আমি প্রতিদিন কোলে নিই। কাঁদলে সাথে সাথে যাই। আদর করি, চুমু দিই, ভালোবাসি।
আর পাশাপাশি “না”ও বলি। সীমানাও শেখাই।
এটাই ব্যালেন্স। এটাই প্যারেন্টিং।
রুশদানের জন্য যা বানাই, ঠিক সেটাই আপনার বাবুর জন্য — ঘরে বানানো, নো প্রিজারভেটিভ, সাদা চিনি ছাড়া।
আরও গল্প পড়ুন

বাচ্চা শুধু গরুর দুধই খেতে চায়?
"বাচ্চা তো অন্য কিছুই খেতে চায় না, শুধু গরুর দুধটাই একটু খায়। আমি তাই বারবার ফিডার বা গ্লাসে করে দুধই দিই। সুজির সাথে দেই, ফিরনির সাথে একটু দেই। অন্তত পেট তো ভরছে আর পুষ্টিটাও পাচ্ছে!"
পুরো গল্পটা পড়ুন →
বুকের দুধ ছাড়ানোর ভুল পদ্ধতি
"দুধ তো ছাড়াতেই হবে। এক কাজ করো, বুকে একটু নিমপাতার রস বা করলার রস মেখে দাও। মুখে দিলেই তিতা লাগবে, আর খাবে না। অথবা একটু আলতা বা লাল রঙ মেখে বলো যে রক্ত বের হচ্ছে, মা ব্যথা পেয়েছে!"
পুরো গল্পটা পড়ুন →
নিজে নিজে জুতো পরা: ধৈর্যের ছোট্ট পরীক্ষা
সকালবেলা বের হওয়ার তাড়া। রুশদান নিজে নিজে জুতো পরার চেষ্টা করছে। একবার ডান পায়ে বাম জুতো ঢোকাচ্ছে, তো আরেকবার ফিতা আটকাতে পারছে না। আমার ঘড়ির দিকে চোখ আর মেজাজ তখন তুঙ্গে! আমি টুক করে…
পুরো গল্পটা পড়ুন →