মাঝে মাঝে রুশদানের কাণ্ডকারখানা দেখে আমি অবাক হই। সারাদিন এটা করবে না, ওটা খাবে না—খালি ঘাড়ত্যাড়ামি! মনে হয়, ছেলেটা কি আমাকে আদৌ কেয়ার করে?
আমরা মায়েরা বড্ড অদ্ভুত প্রাণী। সারাদিন বাচ্চার পেছনে গাধার খাটুনি খাটার পরও দিনশেষে বালিশে মাথা রাখলে আমাদের মনে একটা প্রশ্ন প্রায়ই উঁকি দেয়— “আমি কি ভালো মা হতে পারছি? আমার বাচ্চাটা কি আমার কাছে সত্যিই খুশি?”
বাচ্চা সারাক্ষণ আমাদের গলা জড়িয়ে বলুক, “আম্মু, আই লাভ ইউ।” আমাদের ধারণা, ভালোবাসা মানেই আদর আর চুমু। কিন্তু বাচ্চাদের ভালোবাসার ভাষা বড় অদ্ভুত। ওরা খুব নীরবে বুঝিয়ে দেয় যে ওরা আমাদের সাথে কতটা সুখী।
খেয়াল করে দেখবেন, বাচ্চা হয়তো আপনমনে খেলনা নিয়ে খেলছে। গাড়ি বা ব্লক দিয়ে একাই এক বিশাল জগত বানিয়ে বিড়বিড় করে কথা বলছে। আমরা দূর থেকে ভাবি ও বোধহয় আমাকে ভুলেই গেছে। আসলে তা নয়। যখন সে বুঝতে পারে তার চারপাশের পরিবেশটা একদম নিরাপদ, কেবল তখনই তার ব্রেন এতটা শান্ত হয়ে কল্পনার জগতে ডুব দিতে পারে। এই যে সে একা খেলছে, এটা আপনার দেওয়া ওই নিরাপদ আশ্রয়ের কারণেই।
আবার ধরুন, হঠাৎ করেই সে আপনার সামনে এসে অদ্ভুত মুখভঙ্গি করা শুরু করল। উল্টাপাল্টা নাচানাচি বা অকারণে খিলখিল হাসি। এই যে আপনার সামনে সে নিজেকে এমন ‘বোকা’ বা ‘সিলি’ হিসেবে তুলে ধরছে, এটা কিন্তু চরম একটা কমফোর্ট জোন। সে জানে, এই মানুষটার সামনে আমি যেমন খুশি তেমন থাকতে পারি, সে আমাকে জাজ করবে না।
রুশদান ইদানীং একটা নতুন খেলা ধরেছে। আমাকে ডেকে বলবে, “আম্মু দেখো, আমি কী করছি!” আমি যখন একটু সাহায্য করতে যাই, অমনি রেগে গিয়ে বলবে, “না! তুমি ধরবে না, আমি একাই পারব!” এই যে কাছে টানা, আবার পরক্ষণেই দূরে ঠেলে দেওয়া—সাইকোলজি বলে, এটাই হলো সিকিউর অ্যাটাচমেন্ট। সে চায় আমি তার পাশে থাকি, তাকে দেখি, কিন্তু তার স্বাধীনতায় যেন হাত না দিই।
বাচ্চারা কিন্তু আমাদের ছায়ার মতো। আমি যেভাবে কথা বলি, যেভাবে চায়ের কাপে চুমুক দিই—হঠাৎ দেখি রুশদানও ঠিক সেভাবেই নকল করছে। বাচ্চারা শুধু তাকেই অনুকরণ করে, যাকে তারা তাদের পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ আর গুরুত্বপূর্ণ মানুষ বলে মনে করে। আপনিই হলেন তার পৃথিবী চেনার আসল রিমোট কন্ট্রোল!
আর সবচেয়ে অবাক করা বিষয় কোনটা জানেন? তর্ক করা! “এটা তো ফেয়ার না,” “আমি কেন ঘুমাবো!”—পাকা আইনজীবীর মতো যখন তারা আমাদের সাথে তর্ক জুড়ে দেয়, আমরা ভাবি ছেলে বোধহয় বেয়াদব হয়ে যাচ্ছে। আসলে তা নয়। সে আপনার সাথে তর্ক করার সাহসটা পাচ্ছে কারণ সে জানে, এই সম্পর্কটা এতই শক্ত যে একটু দ্বিমত করলেই মা আমাকে ফেলে যাবে না। তার এই ভরসাটাই তো একজন মায়ের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
ভালোবাসা মানে সবসময় বাধ্যগত সুবোধ বালক হয়ে থাকা নয়। বাচ্চা যদি আপনার সামনে নিজের পাগলামিগুলো করতে পারে, স্বাধীনভাবে তর্ক করতে পারে আর মন খুলে জেদ দেখাতে পারে—তাহলে ধরে নিন মা হিসেবে আপনি একদম সঠিক পথেই আছেন।
আপনার সোনামণি এর মধ্যে কোন কাজটা সবচেয়ে বেশি করে? আপনার সাথে কি পাকা বুড়োর মতো তর্ক জুড়ে দেয়?
রুশদানের জন্য যা বানাই, ঠিক সেটাই আপনার বাবুর জন্য — ঘরে বানানো, নো প্রিজারভেটিভ, সাদা চিনি ছাড়া।
আরও গল্প পড়ুন

বাইরে গেলে বাচ্চা কেন চুপ হয়ে যায়?
Rushdan-কে বাসার বাইরে নিয়ে গেলে একটা অদ্ভুত জিনিস হয়। ঘরে যে ছেলে আমার পেছনে পেছনে ঘোরে, বাইরে গেলে সে আলাদা মানুষ। দৌড়ায়, লাফ দেয়, পিঁপড়ে দেখলে বসে পড়ে, পাখি দেখলে থামে, মাটিতে…
পুরো গল্পটা পড়ুন →
ঘ্যান ঘ্যান করা বাচ্চাকে সামলাবেন কীভাবে?
রুশদান রাগ করলে মাটিতে গড়াগড়ি দেয় না। সে করে অন্য কিছু — একটানা ঘ্যান ঘ্যান। এমন একটা সুর যেটা কানে ঢুকলে মাথা থেকে আর বের হয় না। প্রথম পাঁচ মিনিট সামলাই, দশ মিনিটে একটু কঠিন হয়,…
পুরো গল্পটা পড়ুন →
মনোযোগ ধরে রাখতে ব্রেনের ৩টি সুপারফুড
কদিন আগের ঘটনা। আমার এক বান্ধবী এসেছিল ওর তিন বছরের ছেলেকে নিয়ে। বাচ্চাটা ড্রয়িংরুমে বসে একটা পাজল মেলাচ্ছিল। আমি খেয়াল করলাম, ঠিক ৫ মিনিট পরই সে পাজলটা ছুড়ে ফেলে দিল! এরপর গেল টিভির…
পুরো গল্পটা পড়ুন →