
ঘড়ির কাঁটা ১১টা পার হয়েছে। আপনি হাই তুলতে তুলতে চোখের পাতা খুলে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন, আর আপনার? সে ফুল চার্জড একটা ব্যাটারির মতো বিছানায় লাফাচ্ছে! আপনি বলছেন, “বাবা ঘুমাও,” আর সে বলছে, “মা, চলো আমরা ট্রেন-ট্রেন খেলি!”
এই দৃশ্যটা আপনাদের ঘরে ঘরে কতটা পরিচিত, বলুন তো? বাচ্চাকে ঘুম পাড়ানোর এই রোজকার যুদ্ধে আমরা মায়েরা কত কৌশলই না খাটাই! গল্প বলি, পিঠে হাত বুলিয়ে দিই, এমনকি বকাও দিই।
শুনতে একটু অদ্ভুত লাগলেও, বাচ্চার রাতের ঘুম কতটা গভীর আর শান্তিময় হবে, তার একটা বড় অংশ নির্ভর করে সে রাতের বেলা কী খাচ্ছে তার উপর। কিছু খাবার শরীরের ভেতর একরকম চুপচাপ সংকেত পাঠায় — “আজকের মতো খেলা শেষ, এখন বিশ্রামের সময়।”
যেমন ধরুন কলার কথা। কলাকে কিন্তু প্রকৃতির নিজের ‘স্লিপিং পিল’ বলা যায়! কলাতে থাকা পটাশিয়াম আর ম্যাগনেসিয়াম বাচ্চার সারাদিনের ক্লান্ত মাংসপেশিগুলোকে একদম রিল্যাক্স করে দেয়। শুধু তাই নয়, এতে এমন একটা জাদুকরী উপাদান আছে যা শরীরে গিয়ে সরাসরি ‘ঘুমের হরমোন’ তৈরি করে। রাতের খাবারের পর একটা কলা বাচ্চার ঘুমে ম্যাজিকের মতো কাজ করতে পারে।
আবার নানি-দাদিদের সেই পুরোনো টোটকার কথা মনে আছে? রাতে ঘুমানোর আগে এক গ্লাস গরম দুধ! এটাও কিন্তু কোনো কুসংস্কার নয়। দুধেও ওই একই ঘুমের উপাদান থাকে। আর কুসুম গরম দুধ খাওয়ার এই রুটিনটা বাচ্চার ব্রেনকে শান্ত হতে দারুণ সাহায্য করে।
দুধেও একই ট্রিপটোফ্যান থাকে। আর কুসুম গরম দুধ খাওয়ার রুটিনটা বাচ্চার মস্তিষ্ককে শান্ত হতে সাহায্য করে। তবে ২ বছর আগে বাচ্চাকে সরাসরি গরুর দুধ দেয়া যাবে না।
পেট ভারী থাকলে ঘুমও ভাঙা ভাঙা হয়।
রাতে পেট বেশি ভারী হলে বা বদহজম হলে বাচ্চা বারবার জেগে যায়। তাই রাতে রুশদানকে খুব গুরুপাক কিছু দিই না।
ওটস, কিনোয়া খিচুড়ি বা লাল চালের মতো সহজপাচ্য খাবার পেটে গিয়ে ধীরে ধীরে শক্তি ছাড়ে। ফলে পেট শান্ত থাকে, ঘুমও হয় একটানা। মাঝে মাঝে ঘুমানোর আগে দুই-একটা কাঠবাদাম চিবোতে দিই — এতে থাকা ম্যাগনেসিয়াম স্নায়ুকে সুন্দরভাবে শান্ত করে।
বাচ্চার ঘুম ভালো হলে ওর ব্রেনের বিকাশ যেমন ভালো হয়, আমরা মায়েরাও তেমনি নিজেদের জন্য একটু সময় পাই!
তবে হ্যাঁ, কিছু খাবার কিন্তু আছে যেগুলো রাতের বেলায় দিলে বাচ্চার ঘুম একদম কর্পূরের মতো উড়ে যায়! কোনগুলো সেই ভিলেন খাবার? সেটা নিয়ে পরবর্তিতে বিস্তারিত লিখবো!
রুশদানের জন্য যা বানাই, ঠিক সেটাই আপনার বাবুর জন্য — ঘরে বানানো, নো প্রিজারভেটিভ, সাদা চিনি ছাড়া।
আরও গল্প পড়ুন

বাচ্চার রাগী স্বভাবের পেছনে আসল কারণ
আপনার বাচ্চার রাগী স্বভাবের পেছনে আসল অপরাধী কে জানেন? কথাটা শুনতে একটু তেতো লাগবে। কিন্তু সত্যিটা হলো, আমরা মাঝে মাঝেই এমন কিছু কাজ করে ফেলি, যা আমাদের অজান্তেই বাচ্চাদের রাগী আর জেদি…
পুরো গল্পটা পড়ুন →
চিপস দেখলে বাচ্চারা পাগল হয়ে যায় কেন?
চিপস দেখলে বাচ্চারা পাগল হয়ে যায় কেন — উত্তরটা জানলে অবাক হবেন। গতকাল রুশদান-কে নিয়ে বাইরে গিয়েছিলাম।
পুরো গল্পটা পড়ুন →
আগে হাঁটতে শেখা মানেই কি বাচ্চা বেশি বুদ্ধিমান?
"আমার ছেলে তো হামাগুড়ি না দিয়েই হাঁটা শুরু করেছে! ৭ মাসেই দেয়াল ধরে দাঁড়াতো, আর ১০ মাসেই সোজা হাঁটা শুরু করেছে!"
পুরো গল্পটা পড়ুন →