বইটা ছিল তোতোরো নামে একটা বিড়ালের গল্প নিয়ে। বইয়ের লেখক নিজে এই বইটা রুশদানকে উপহার দিয়েছিল। কী যে আশ্চর্য একটা উপহার ছিল সেটা, তখন বুঝিনি। এখন বুঝি।
তখন রুশদানের বয়স মাত্র ২ বছর। ভালো করে কথা বলতেও পারে না, বইয়ের গল্পের একটা অক্ষরও বোঝে না। কিন্তু বইটা হাতে পেয়ে তার চোখ দুটো চকচক করে উঠল।
গল্পের একটা শব্দও না বুঝে রুশদান পাতার পর পাতা উল্টাত। আঙুল দিয়ে ছবিগুলো ছুঁয়ে দেখত আর হাসত। তোতোরো বিড়ালটাকে দেখলেই খুশিতে লাফাত, আর মিতিনের ছবি দেখলে হাত নাড়ত, যেন কত চেনা মানুষ! বই বোঝার বয়স তখনো হয়নি, কিন্তু বইয়ের চরিত্রের সাথে বন্ধুত্ব করার বয়স ঠিকই হয়ে গিয়েছিল।
আজও রুশদান লেখককে সরাসরি দেখেনি। কিন্তু আমি নিশ্চিত—তোতোরো আর মিতিন তার কাছের দুই বন্ধু।
এই রঙিন ছবিওয়ালা বইগুলো আসলে বাচ্চাদের মস্তিষ্কে এক একটা ম্যাজিক বক্সের মতো কাজ করে।
প্রথমত, এতে ওদের বিশাল একটা কল্পনার জগত তৈরি হয়, যা পরে সৃজনশীলতার ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়।
দ্বিতীয়ত, গল্প শুনতে শুনতে আর ছবি দেখতে দেখতে নতুন অনেক শব্দ ওদের মাথায় গেঁথে যায়, ভাষার বিকাশ হয়।
তৃতীয়ত, স্ক্রিনের ঝলকানির বিপরীতে বই ওদের ধীরে ধীরে মন স্থির করতে আর মনোযোগ ধরে রাখতে শেখায়।
চতুর্থত, গল্পের চরিত্রের হাসি-কান্না দেখে বাচ্চারা নিজেদের আবেগ চিনতে শেখে।
আর সবচেয়ে বড় কথা, মা বা বাবা যখন কোলে নিয়ে বই পড়ে শোনায়, সেই সময়টা বাচ্চার কাছে সবচেয়ে নিরাপদ আর ভালোবাসার একটা মুহূর্ত হয়ে থাকে।
রুশদানের জন্য যা বানাই, ঠিক সেটাই আপনার বাবুর জন্য — ঘরে বানানো, নো প্রিজারভেটিভ, সাদা চিনি ছাড়া।
আরও গল্প পড়ুন

রাত ১১টা, তবুও বাচ্চা ঘুমাতে চায় না
রাত ১১টা বাজে। আপনার সারাদিনের এনার্জি শেষ, চোখ ঘুমে বন্ধ হয়ে আসছে। কিন্তু আপনার বাচ্চার দিকে তাকিয়ে দেখলেন, সে ফুল চার্জড একটা ব্যাটারির মতো সারা ঘর দৌড়ে বেড়াচ্ছে! খেলনা নিয়ে খেলছে,…
পুরো গল্পটা পড়ুন →
দেরিতে কথা বলা নিয়ে মায়ের দুশ্চিন্তা
মায়েরা মনে হয় পৃথিবীর সবচেয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত প্রাণী! মাথার ভেতর সারাক্ষণ একটা অদৃশ্য 'চেকলিস্ট' ঘুরতে থাকে— বাচ্চা ৬ মাসে বসল কি না, ১ বছরে হাঁটল কি না, আর ২ বছরে গড়গড় করে কথা বলল কি…
পুরো গল্পটা পড়ুন →
রুশদান হওয়ার পরের এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা
Rushdan হওয়ার কিছুদিন পর একটা অদ্ভুত জিনিস হয়েছিল। সব ঠিকঠাক ছিল। সুস্থ বাচ্চা, পাশে রুশদানের বাবা, পরিবার আছে। কিন্তু রাতে ব্রেষ্ট ফিডিংয়ের সময় হঠাৎ চোখ ভিজে যেত। কোনো কারণ নেই। কেউ…
পুরো গল্পটা পড়ুন →