
মাঝরাত পার হয়ে গেছে। চারপাশ একেবারে নিস্তব্ধ। পৃথিবীর সব মানুষ ঘুমে অচেতন, শুধু আপনি আর আপনার বাচ্চা বাদে! ওর চোখে এক ফোঁটা ঘুম নেই, উল্টো সে ফুল চার্জড ব্যাটারির মতো বিছানায় লাফঝাঁপ করছে।
আর আপনি ক্লান্তিতে, বিরক্তিতে মনে মনে ভাবছেন, “বাচ্চাটা কি পেঁচার জাত নাকি! ওর কি ঘুম পায় না?”
আমাদের অনেকের বাসাতেই মনে হয় এই দৃশ্যটা খুব চেনা। বাচ্চারা রাতে ঘুমাতে চায় না, বা ঘুম এলেও বারবার জেগে ওঠে।
আমরা মায়েরা তখন খুব সহজেই ধরে নিই, এটা নির্ঘাত বাচ্চার বদভ্যাস! কিংবা হয়তো বিকেলে বেশি ঘুমিয়েছে বা স্ক্রিন টাইম বেশি হয়েছে বলে রাতে জাগছে।
কিন্তু বাচ্চার এই রাত জাগার পেছনে সবসময় শুধু ‘বদভ্যাস’ বা রুটিন দায়ী নয়। অনেক সময় এর পেছনে লুকিয়ে থাকে শরীরের ভেতরের কোনো জরুরি পুষ্টি বা হরমোনের নীরব হাহাকার!
আমাদের ব্রেনে ‘মেলাটোনিন’ নামের একটা জাদুকরী হরমোন আছে। এর কাজই হলো শরীরকে সিগন্যাল দেওয়া যে, “রাত হয়েছে, এবার ঘুমাও।” কিন্তু এই হরমোনটা এমনি এমনি তৈরি হয় না। এটা তৈরি হতে কিছু কাঁচামাল লাগে।
বাচ্চার খাবারে যদি প্রোটিন বা প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি থাকে, তবে ব্রেন ঠিকমতো এই ঘুমের হরমোন বানাতে পারে না। ফলে বাচ্চার শরীর ক্লান্ত থাকলেও চোখে ঘুম আসে না।
আবার অনেক বাচ্চা দেখবেন ঘুমের ঘোরে খুব বেশি পা ছোঁড়ে বা এপাশ-ওপাশ করে। আমরা ভাবি বাচ্চা বোধহয় স্বপ্ন দেখছে।
কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, এর বড় একটা কারণ হতে পারে শরীরে আয়রনের ঘাটতি! আয়রন কম থাকলে বাচ্চার পা শিরশির করে বা অস্বস্তি হয়, যাকে বলে ‘রেস্টলেস লেগ সিনড্রোম’। এই অস্বস্তির কারণে বাচ্চা শান্তিতে গভীর ঘুমে তলিয়ে যেতে পারে না।
শুধু তাই নয়, যে ভিটামিন ডি-কে আমরা শুধু হাড় শক্ত করার কারিগর ভাবি, সেটা কিন্তু ঘুমেরও পাহারাদার। শরীরে ভিটামিন ডি-এর অভাব হলে বাচ্চার স্লিপ সাইকেল বা ঘুমের রুটিন পুরোপুরি এলোমেলো হয়ে যায়। বাচ্চা বারবার জেগে ওঠে।
এর পাশাপাশি ম্যাগনেসিয়াম নামের একটা খনিজ উপাদানের কথাও বলতে হয়। এটি আমাদের স্নায়ু বা নার্ভকে শান্ত রাখতে সাহায্য করে। এর অভাব হলে বাচ্চার ব্রেন সারাক্ষণ ‘অ্যালার্ট’ মোডে থাকে। ব্রেন শান্ত না হলে কি আর ঘুম আসে?
আমি রুশদানের ঘুমের রুটিন ঠিক করার পাশাপাশি ওর খাবারের দিকেও নজর দিয়েছি। ওকে নিয়মিত দুধ, ডিম, কলা (এতে ট্রিপটোফ্যান থাকে), সবুজ শাকসবজি আর ছোট মাছ দিই। আর দিনে কিছুক্ষণ রোদ লাগানোটা তো মাস্ট!
আপনার বাচ্চা কি রাতে শান্তিতে ঘুমায়, নাকি ওকে ঘুম পাড়াতে গিয়ে আপনার নিজেরই ঘুম উড়ে যায়?
রুশদানের জন্য যা বানাই, ঠিক সেটাই আপনার বাবুর জন্য — ঘরে বানানো, নো প্রিজারভেটিভ, সাদা চিনি ছাড়া।
আরও গল্প পড়ুন

রুশদান হওয়ার পরের এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা
Rushdan হওয়ার কিছুদিন পর একটা অদ্ভুত জিনিস হয়েছিল। সব ঠিকঠাক ছিল। সুস্থ বাচ্চা, পাশে রুশদানের বাবা, পরিবার আছে। কিন্তু রাতে ব্রেষ্ট ফিডিংয়ের সময় হঠাৎ চোখ ভিজে যেত। কোনো কারণ নেই। কেউ…
পুরো গল্পটা পড়ুন →
গায়ে হাত না তুলে বাচ্চাকে শাসন করবেন কীভাবে?
রুশদান ইদানীং একটা নতুন কাহিনী করে। পানি খেতে গিয়ে অর্ধেকটা খাবে, আর বাকি অর্ধেকটা ইচ্ছা করে ফ্লোরে ফেলে দেবে। তারপর ওই পানির মধ্যে ছপছপ করে পা ফেলবে আর খিলখিল করে হাসবে!
পুরো গল্পটা পড়ুন →
“বাচ্চাটা ওর বাবার মতো খাটোই হবে!”
"বাচ্চাটা মনে হয় ওর বাবার মতো খাটোই হবে!"— আশেপাশে থেকে এই কথাটা শোনার পর অনেক মা বাবাই হয়তো দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। বাচ্চার লম্বা হওয়ার ৮০% জিনের ওপর নির্ভর করে ঠিকই কিন্তু জিনের বাইরেও এমন…
পুরো গল্পটা পড়ুন →