
Rushdan একদিন দোকানে গিয়ে একটা খেলনা চাইল।
আমি বললাম, “না।”
সে ঘ্যান ঘ্যান শুরু করল। আমি কোলে নিলাম, মাথায় হাত বুলালাম, বললাম “কষ্ট লাগছে বুঝেছি।” কিন্তু খেলনাটা কিনলাম না।
পাশে দাঁড়ানো একজন বললেন, “এত কাঁদছে, কিনে দাও না।”
আমি হাসলাম। কিনলাম না।
কারণ আমি একটা জিনিস শিখেছি — বাচ্চাকে আদর করা আর বাচ্চার সব আবদার পূরণ করা এক জিনিস না।
আদরের কোনো সীমানা নেই।
কোলে নিন, চুমু দিন, ভালোবাসুন — যত খুশি। এই আদরটাই বাচ্চার মস্তিষ্কে নিরাপত্তার ভিত্তি তৈরি করে। যে বাচ্চা যত বেশি আদর পেয়েছে, সে বড় হয়ে তত বেশি আত্মবিশ্বাসী, তত বেশি স্বাধীন।
আদর বাচ্চাকে নষ্ট করে না। কখনো না।
কিন্তু আবদারে সীমানা দরকার।
এখানেই অনেক মা গুলিয়ে ফেলেন।
বাচ্চা কাঁদছে মানেই তার চাহিদা পূরণ করতে হবে — এই ধারণাটা ঠিক না। একদম ছোট বাচ্চা কাঁদলে অবশ্যই সাড়া দিন। কিন্তু তিন বছর পার হলে বাচ্চা বুঝতে শুরু করে — কান্না করলে জিনিস পাওয়া যায়। তখন থেকেই সীমানা শেখানো শুরু করতে হয়।
Rushdan এখন মাঝে মাঝে ঘ্যান ঘ্যান করে জিনিস আদায় করার চেষ্টা করে। আমি কোলে নিই, আদর করি — কিন্তু জিনিসটা দিই না।
দুটো আলাদা। সবসময় আলাদা।
সীমানা না থাকলে কী হয়?
সব আবদার পূরণ হওয়া বাচ্চারা বড় হয়ে হতাশা সহ্য করতে পারে না। ছোট্ট একটা “না” শুনলেই ভেঙে পড়ে। কারণ তারা কখনো শেখেনি — জীবনে সব চাওয়া পূরণ হয় না।
স্কুলে সমস্যা, বন্ধুত্বে সমস্যা, বড় হয়ে সম্পর্কে সমস্যা — এই সবকিছুর শিকড় অনেক সময় এই একটা জায়গায়।
সীমানা মানে কঠোরতা না। সীমানা মানে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করা।
তাহলে “না” বলবেন কীভাবে?
শান্ত থাকুন। রাগ করে “না” বললে বাচ্চা শুধু ভয় পায়, শেখে না।
কারণ বলুন। “এটা এখন নেওয়া যাবে না কারণ……” তিন বছরের বাচ্চাও কারণ বুঝতে পারে।
বিকল্প দিন। “এটা না, কিন্তু ওটা নিতে পারো।” বাচ্চা বঞ্চিত না অনুভব করেই সীমানা শেখে।
সিদ্ধান্তে অটল থাকুন। কাঁদলেই “আচ্ছা নাও” বললে বাচ্চা শিখে যাবে — কাঁদলেই কাজ হয়। এই একটা ভুল পরে সামলানো অনেক কঠিন হয়ে যায়।
Rushdan জানে আমি তাকে অনেক ভালোবাসি।
কিন্তু সে এটাও জানে — মা “না” বললে মানে “না।”
এই দুটো জিনিস একসাথে শেখাতে পারলে বাচ্চা শুধু আদুরে হয় না — সে হয় শক্ত। ভেতর থেকে শক্ত।
আদর দিয়ে ভালোবাসুন, সীমানা দিয়ে গড়ুন।
এটাই প্যারেন্টিং।
রুশদানের জন্য যা বানাই, ঠিক সেটাই আপনার বাবুর জন্য — ঘরে বানানো, নো প্রিজারভেটিভ, সাদা চিনি ছাড়া।
আরও গল্প পড়ুন

বাইরে গেলে বাচ্চা কেন চুপ হয়ে যায়?
Rushdan-কে বাসার বাইরে নিয়ে গেলে একটা অদ্ভুত জিনিস হয়। ঘরে যে ছেলে আমার পেছনে পেছনে ঘোরে, বাইরে গেলে সে আলাদা মানুষ। দৌড়ায়, লাফ দেয়, পিঁপড়ে দেখলে বসে পড়ে, পাখি দেখলে থামে, মাটিতে…
পুরো গল্পটা পড়ুন →
মা হওয়ার পর নিজের যত্ন নেওয়াটাও জরুরি
মা হওয়ার পর নিজের যত্ন নেয়াটা ঠিক ততটাই জরুরি, যতটা জরুরি বাচ্চার যত্ন নেয়া। এই সময়ে সঠিক খাবার যেমন মায়ের শরীরকে দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে, তেমনি বুকের দুধের মাধ্যমে শিশুর পুষ্টিও…
পুরো গল্পটা পড়ুন →
পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন: নতুন মায়ের নীরব কষ্ট
বাচ্চার জন্মের পর প্রথম এক বছরে যে মায়েরা মা*রা যান, তাদের মধ্যে একটা বড় অংশের মৃত্যুর কারণ আত্ম*হত্যা? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ৭ জন নতুন মায়ের মধ্যে ১ জন এই ভয়াবহ…
পুরো গল্পটা পড়ুন →