
“আমার ছেলে তো হামাগুড়ি না দিয়েই হাঁটা শুরু করেছে! ৭ মাসেই দেয়াল ধরে দাঁড়াতো, আর ১০ মাসেই সোজা হাঁটা শুরু করেছে!”
অনেক মা-বাবাই খুব গর্ব করে এই কথাটা বলেন।
অনেকে ভাবে, হামাগুড়ি না দিয়ে আগে আগে হাঁটতে শেখা মানে বাচ্চা খুব অ্যাডভান্স বা জিনিয়াস! কিন্তু, হামাগুড়ি দেয়া (Crawling) শুধু হাঁটার আগের একটা ধাপ নয়, বরং এটি বাচ্চার ব্রেন ডেভেলপমেন্টের সবচেয়ে জাদুকরী আর জরুরি একটা পর্যায়!
হামাগুড়িতে আসলে কী ঘটে?
খেয়াল করলে দেখা যায়, বাচ্চা হামাগুড়ি দেয়ার সময় ডান হাত আর বাম পা একসাথে সামনে যায়, তারপর বাম হাত আর ডান পা। শরীরের এই ক্রস প্যাটার্নটাকে বলে Cross-Lateral Movement।
এই মুভমেন্টের সময় শরীরের মাঝ দিয়ে যাওয়া একটা কাল্পনিক রেখা বারবার অতিক্রম করে বাচ্চা — যাকে বলে “Midline Crossing”। এই প্রক্রিয়াটা মস্তিষ্কের দুই পাশের (বাম আর ডান হেমিস্ফিয়ার) মধ্যে সংযোগ মজবুত করে।
মস্তিষ্কের এই দুই পাশকে যে অংশ যুক্ত করে তাকে বলে Corpus Callosum। হামাগুড়ি দেয়ার সময় এই অংশটা ঘন ঘন উদ্দীপ্ত হয়, ফলে দুই পাশের মস্তিষ্ক একসাথে কাজ করার অভ্যাস তৈরি হয়।
গবেষকরা বলছেন, এই মস্তিষ্কের সংযোগ পরবর্তীতে অনেক জরুরি দক্ষতার ভিত্তি তৈরি করে — পড়া আর লেখা, কথা বলা ও ভাষার বিকাশ, ভারসাম্য আর সমন্বয়, মনোযোগ ধরে রাখা, আবেগ নিয়ন্ত্রণ, এবং সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা।
এছাড়া হামাগুড়ি দেওয়ার সময় বাচ্চার চোখ আর হাত একসাথে কাজ করতে শেখে — দূরের একটা খেলনার দিকে তাকিয়ে সেটার দিকে এগিয়ে যাওয়া, তারপর কাছে গিয়ে হাত দিয়ে ধরা। এই চোখ-হাতের সমন্বয় পরবর্তীতে লেখা, বল ধরা বা আঁকার মতো কাজে সরাসরি সাহায্য করে।
গবেষণায় আরেকটা মজার তথ্য পাওয়া গেছে — যেসব বাচ্চা হামাগুড়ি দেয়, তাদের স্মৃতিশক্তির নমনীয়তা (Memory Flexibility) বেশি হয়। মানে তারা নতুন পরিবেশে বা নতুন পরিস্থিতিতেও আগে শেখা জিনিস মনে রাখতে পারে ভালোভাবে।
হামাগুড়ি না দিলে কী হয়?
কিছু বাচ্চা হামাগুড়ির ধাপ পুরোপুরি এড়িয়ে সরাসরি হাঁটা শুরু করে। এটা সবসময় বড় সমস্যা তৈরি করে না, কিন্তু কিছু গবেষক মনে করেন, দীর্ঘ সময় ওয়াকার, দোলনা বা ক্যারিয়ারে বসিয়ে রাখলে বাচ্চা হামাগুড়ির সুযোগ কম পায়, যেটা শারীরিক সমন্বয় আর ভারসাম্যের বিকাশে কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে প্রতিটা বাচ্চার বিকাশ আলাদা, তাই কেউ কম হামাগুড়ি দিলেই সেটা নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করার দরকার নেই।
মা হিসেবে কী করা যায়?
বাচ্চাকে বেশি সময় ফ্লোরে খেলার সুযোগ দেওয়া, ওয়াকার বা সিটে বসিয়ে না রেখে মেঝেতে হামাগুড়ি দেওয়ার জায়গা তৈরি করা, আর খেলনা কিছুটা দূরে রেখে বাচ্চাকে সেদিকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া — এই ছোট ছোট কাজগুলো হামাগুড়ির অভ্যাসটা স্বাভাবিকভাবে গড়ে উঠতে সাহায্য করে।
রুশদান যখন সারা ঘর হামাগুড়ি দিয়ে বেড়াত, তখন মনে হতো এটা শুধু একটা মিষ্টি দৃশ্য। কিন্তু এখন জানি, সেই সময়টায় তার মস্তিষ্কের ভেতরে তৈরি হচ্ছিল আগামী দিনের পড়া, লেখা, মনোযোগ আর ভারসাম্যের ভিত্তি।
ছোট্ট একটা হামাগুড়ি, কিন্তু কাজটা মোটেও ছোট না।
রুশদানের জন্য যা বানাই, ঠিক সেটাই আপনার বাবুর জন্য — ঘরে বানানো, নো প্রিজারভেটিভ, সাদা চিনি ছাড়া।
আরও গল্প পড়ুন

বাবা অফিস থেকে ফিরলে আমাদের বাসার মিষ্টি দৃশ্য
আমাদের বাসায় একটা খুব মিষ্টি দৃশ্য প্রতিদিন দেখা যায়। রুশদানের বাবা অফিস থেকে ফেরার ঠিক আগেই ও দরজার কাছে গিয়ে দাড়িয়ে থাকে। বাবার শব্দ পেলেই দৌড়! দরজা খোলার আগে থেকেই ওর একটানা ডাক…
পুরো গল্পটা পড়ুন →
বাচ্চাকে একা ঘুম পাড়ানো কবে থেকে শুরু করবেন?
Rushdan-কে এখনো বুকে নিয়ে বা পাশে শুয়ে ঘুম পাড়াই। মাঝে মাঝে ভাবি — এভাবে আর কতদিন? একা ঘুমাতে শেখানো কি এখনই শুরু করা উচিত, নাকি আরো সময় দেব?
পুরো গল্পটা পড়ুন →
ছোটবেলায় সবাই মিলে খাওয়ার সেই দিনগুলো
ছোটবেলার কিছু স্মৃতি থাকে, যেগুলো মনে পড়লে ভেতরটা কেমন যেন অদ্ভুত একটা শান্তিতে ভরে যায়। আমার এখনো খুব স্পষ্ট মনে আছে, আমরা যখন ছোট ছিলাম, তখন আমাদের বাড়িতে খাওয়ার নিয়মটা ছিল একদম অন্যরকম।
পুরো গল্পটা পড়ুন →