
Rushdan-কে এখনো বুকে নিয়ে বা পাশে শুয়ে ঘুম পাড়াই।
মাঝে মাঝে ভাবি — এভাবে আর কতদিন? একা ঘুমাতে শেখানো কি এখনই শুরু করা উচিত, নাকি আরো সময় দেব?
এই প্রশ্নটা প্রায় প্রতিটা মায়ের মনে আসে।
“একা ঘুমানো” মানে আসলে কী?
এখানে দুটো আলাদা জিনিস আছে। একটা হলো নিজের বিছানায় ঘুমানো, আরেকটা হলো নিজে নিজে ঘুমিয়ে পড়ার ক্ষমতা — মানে কোলে দুলিয়ে বা বুকের দুধ খাইয়ে না ঘুমিয়ে নিজেই চোখ বুজে ফেলা।
এই দ্বিতীয়টাকে বলে “Self-Soothing” বা নিজে নিজে শান্ত হওয়ার ক্ষমতা। এবং এটাই মূল বিষয়।
মস্তিষ্কের যে অংশ ঘুমকে নিয়ন্ত্রণ করে, সেটা জন্মের সময় পুরোপুরি পরিণত থাকে না। ৬ মাস বয়সের আগে বেশিরভাগ বাচ্চার শরীরে “Circadian Rhythm” — মানে দিন-রাতের স্বাভাবিক চক্র — ঠিকমতো তৈরি হয় না।
তাই ৬ মাসের আগে বাচ্চাকে একা ঘুমাতে শেখানোর চেষ্টা করাটা কার্যকর হয় না, কারণ শরীর তখনো প্রস্তুত না।
আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিক্সের গবেষণা বলছে, ৬ থেকে ১২ মাস বয়সের মধ্যে বেশিরভাগ বাচ্চা নিজে নিজে ঘুমানোর ক্ষমতা অর্জন করতে শুরু করে। এই সময়ে মস্তিষ্কের Self-Regulation বা নিজেকে সামলানোর অংশ যথেষ্ট বিকশিত হয়।
কেন একা ঘুমাতে শেখা জরুরি?
এটা শুধু মায়ের সুবিধার জন্য না। বাচ্চার নিজের জন্যই দরকার।
রাতে ঘুমের মধ্যে প্রতিটা মানুষ, এমনকি বড়রাও, কয়েকবার হালকা জেগে ওঠে। যে বাচ্চা নিজে নিজে ঘুমাতে শিখেছে, সে এই মুহূর্তে আবার নিজে থেকেই ঘুমিয়ে পড়ে। কিন্তু যে বাচ্চা সবসময় কোলে দুলিয়ে বা দুধ খাইয়ে ঘুম পাড়ানো হয়, সে প্রতিবার জেগে উঠলেই কাঁদে, কারণ তার কাছে “ঘুমানোর উপায়” মানেই মা লাগবে।
দীর্ঘমেয়াদে এটা মায়ের ঘুমও পুরোপুরি ভেঙে দেয়, বাচ্চার ঘুমের মানও খারাপ করে।
কখন থেকে শুরু করা উচিত?
৪ থেকে ৬ মাস বয়স থেকে ধীরে ধীরে শুরু করা যায়। পুরোপুরি “একা ছেড়ে দেওয়া” না, বরং ধাপে ধাপে।
প্রথমে ঘুমের একটা নির্দিষ্ট রুটিন তৈরি করুন — গোসল, গল্প, আলো কমানো। তারপর বাচ্চা ঘুমিয়ে পড়ার আগেই বিছানায় শুইয়ে দিন, একদম ঘুমিয়ে যাওয়ার পর না। এতে বাচ্চা নিজে নিজে ঘুমিয়ে পড়ার অভ্যাস তৈরি করে।
কান্না করলে সাথে সাথে কোলে না নিয়ে একটু অপেক্ষা করুন, পিঠে হাত বুলিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করুন। ধীরে ধীরে এই সময়টা বাড়ান।
নিজের ঘরে ঘুমানো কখন শুরু করব?
এটা সম্পূর্ণ আলাদা প্রশ্ন এবং পরিবার-নির্ভর। আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিক্স বলছে অন্তত ৬ মাস, আদর্শভাবে এক বছর পর্যন্ত বাচ্চাকে মায়ের ঘরে (একই বিছানায় না) রাখাটা নিরাপদ এবং SIDS বা হঠাৎ শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি কমায়।
কিন্তু বাংলাদেশের পারিবারিক কাঠামোয় বেশিরভাগ বাচ্চা অনেক বড় বয়স পর্যন্ত মা-বাবার সাথেই ঘুমায় — এটাও সমস্যার কিছু না, যদি বাচ্চা নিজে নিজে ঘুমাতে পারে।
তাড়াহুড়া করার দরকার নেই।
প্রতিটা বাচ্চা আলাদা। কেউ তাড়াতাড়ি শেখে, কারো বেশি সময় লাগে। জোর করলে উল্টো ফল হয় — বাচ্চা আরো বেশি আঁকড়ে ধরে।
Rushdan এখনো মাঝে মাঝে পাশে চায়। আমি জোর করি না। কিন্তু ধীরে ধীরে নিজে নিজে ঘুমানোর অভ্যাসটা তৈরি করার চেষ্টা করছি।
তাড়াহুড়া নেই। শুধু ধারাবাহিকতা দরকার।
রুশদানের জন্য যা বানাই, ঠিক সেটাই আপনার বাবুর জন্য — ঘরে বানানো, নো প্রিজারভেটিভ, সাদা চিনি ছাড়া।
আরও গল্প পড়ুন

ছোটবেলায় সবাই মিলে খাওয়ার সেই দিনগুলো
ছোটবেলার কিছু স্মৃতি থাকে, যেগুলো মনে পড়লে ভেতরটা কেমন যেন অদ্ভুত একটা শান্তিতে ভরে যায়। আমার এখনো খুব স্পষ্ট মনে আছে, আমরা যখন ছোট ছিলাম, তখন আমাদের বাড়িতে খাওয়ার নিয়মটা ছিল একদম অন্যরকম।
পুরো গল্পটা পড়ুন →
প্রথম হাঁটা, প্রথম “মা” ডাক
Rushdan যখন প্রথমবার হাঁটল, আমি কেঁদে ফেলেছিলাম। প্রথমবার "মা" বলল, বুকটা ভরে গিয়েছিল। প্রথমবার দৌড়াল, প্রথমবার গান গাইল, প্রথমবার প্রশ্ন করল — প্রতিটা "প্রথম" মনে হয়েছিল অলৌকিক।
পুরো গল্পটা পড়ুন →
মাঝরাতে বাচ্চার কাশি
বাচ্চার কাশির শব্দ শুনে মাঝরাতে আপনার ঘুম ভেঙেছে কখনো? আমার তো প্রায়ই ভাঙে। আর ঘুম ভাঙার পর বাকি রাতটা দুশ্চিন্তায় কাটে—এটা কি শুধু সাধারণ ঠান্ডা লাগা, নাকি এর চেয়েও ভয়ের কিছু? শুরুটা…
পুরো গল্পটা পড়ুন →