
আমাদের বাসায় একটা খুব মিষ্টি দৃশ্য প্রতিদিন দেখা যায়। রুশদানের বাবা অফিস থেকে ফেরার ঠিক আগেই ও দরজার কাছে গিয়ে দাড়িয়ে থাকে। বাবার শব্দ পেলেই দৌড়! দরজা খোলার আগে থেকেই ওর একটানা ডাক শুরু হয়ে যায়— “বাবা! বাবা! বাবা!” তারপর বাবাকে দেখা মাত্র খুশিতে চিৎকার দিয়ে বাবার বুকে ঝাঁপ।
দিনশেষে এই দৃশ্যটা দেখলে একজন মা হিসেবে আমার বুকটা শান্তিতে ভরে যায়। কিন্তু সব বাসায় কি এই দৃশ্যটা এমন হয়?
অফিসের হাড়ভাঙা খাটুনি শেষে একজন বাবা যখন রাত ৮টা-৯টায় ঘরে ফেরেন, তখন তার শরীরে আর এক বিন্দু এনার্জি থাকে না। অনেক বাসায় তো বাবা ফেরার আগেই বাচ্চা ঘুমিয়ে পড়ে! আর ছুটির দিনগুলোতেও জমে থাকে সারা সপ্তাহের ক্লান্তি আর পেন্ডিং কাজ।
একটা গবেষণায় দেখেছি, বাংলাদেশে কর্মজীবী বাবারা গড়ে প্রতিদিন মাত্র ৮ মিনিট সময় দেন বাচ্চাকে—সত্যিকারের মনোযোগ দিয়ে! বাকি সময়টা তারা একই ঘরে থেকেও আসলে বাচ্চার জীবনে “অনুপস্থিত” থাকেন।
আর এই দূরত্বটা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে আমাদের হাতের স্মার্টফোন। বাবা হয়তো ক্লান্ত হয়ে সোফায় বসে স্ক্রল করছেন, বাচ্চা একটা খেলনা নিয়ে পাশে এসে দাঁড়ালো। বাবা না তাকিয়েই বললেন, “একটু পরে বাবা।” অনেক বাচ্চার জীবনে বাবার সেই “একটু পরে” সময়টা আর কখনোই আসে না।
বাচ্চা বোঝে না অফিস কী, জ্যাম কী বা ক্লান্তি কী। সে শুধু বোঝে— বাবা ঘরে আছে, কিন্তু আমার দিকে তাকাচ্ছে না। এই ছোট ছোট অভিমানগুলো জমতে জমতে একদিন বাবা আর সন্তানের মাঝে বিশাল এক অদৃশ্য দেয়াল তৈরি হয়ে যায়।
বাচ্চার মানসিক বিকাশে বাবার উপস্থিতি মায়ের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। শুধু “থাকা” নয়, “মনোযোগ দিয়ে থাকা।” আর বিশ্বাস করুন, এই মনোযোগের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময়ের দরকার হয় না।
তাহলে ব্যস্ততার মাঝে এই সময়টা বাবা বের করবেন কীভাবে?
আমি রুশদানের বাবার রুটিন থেকে কিছু আইডিয়া শেয়ার করছি:
১. সকালের ৫ মিনিট: বের হওয়ার আগে রুশদানের বাবা ওকে কোলে নিয়ে বলেন, “বাবা অফিস থেকে এসে তারপর আমরা একসাথে খেলব।” এই ছোট্ট কথাটা সারাদিন ওর মনে একটা অপেক্ষা আর আনন্দ তৈরি করে।
২. ডিনার টেবিলের ১০ মিনিট: ফোনটা দূরে সরিয়ে রেখে রাতে খাওয়ার সময় বাচ্চার চোখে চোখ রেখে যদি জিজ্ঞেস করা যায়— “আজকে সারাদিন কী কী করলে?”—এই একটা প্রশ্নই বাচ্চার কাছে অনেক বড় কিছু।
৩. ঘুমানোর আগের গল্প: মায়েদের একটু ছুটি দিয়ে বাবা যদি ৫ মিনিটের একটা গল্প বলে ঘুম পাড়ান, সেটা বাচ্চার কাছে সবচেয়ে নিরাপদ আর সুন্দর স্মৃতি হয়ে থাকে।
৪. উইকেন্ডের একটা সকাল: ছুটির দিনে শুধু বাবা আর বাচ্চা মিলে ছাদে যাওয়া বা বাজারের ব্যাগ হাতে হাঁটা—এই এক সকালের স্মৃতি বাচ্চা বছরের পর বছর মনে রাখে।
বাবা-সন্তানের বন্ধন কখনো সময়ের হিসেবে তৈরি হয় না, তৈরি হয় মনোযোগের হিসেবে। বাবারা, আপনারা যত ক্লান্তই থাকুন না কেন, ওই ৫ মিনিট চোখে চোখ রেখে কথা বলুন। সেটাই আপনার সোনামণির কাছে সারাদিনের সেরা উপহার।
আপনাদের বাসায় বাবা-বাচ্চার বন্ডিং কেমন? বাবা কতটুকু সময় দেন?
Follow করুন Parenting পেজ: Rushdan
বাচ্চাদের নিয়ে আড্ডা দিতে জয়েন করুন: @Rushdan Parenting Club
রুশদানের জন্য যা বানাই, ঠিক সেটাই আপনার বাবুর জন্য — ঘরে বানানো, নো প্রিজারভেটিভ, সাদা চিনি ছাড়া।
আরও গল্প পড়ুন

যে খাবারে রাতে বাচ্চার ঘুম ভেঙে যায়
গতদিনের লেখায় আপনাদের বলেছিলাম রাতে কোন খাবারগুলো দিলে বাচ্চারা ম্যাজিকের মতো শান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। আজ বলব ঠিক উল্টো কথা। এমন কিছু খাবার আছে, যেগুলো বাচ্চার পেটে যাওয়া মাত্রই ওদের…
পুরো গল্পটা পড়ুন →
চিপস দেখলে বাচ্চারা পাগল হয়ে যায় কেন?
চিপস দেখলে বাচ্চারা পাগল হয়ে যায় কেন — উত্তরটা জানলে অবাক হবেন। গতকাল রুশদান-কে নিয়ে বাইরে গিয়েছিলাম।
পুরো গল্পটা পড়ুন →
বাচ্চার জন্য রুটিন কেন এত জরুরি?
আপনার বাচ্চা কখনো সকালে নাস্তা করে আটটায়, কখনো নয়টা আবার কখনো ১০ টায়। কখনো দুপুরে ঘুম, কখনো নেই। রাতে ঘুমানোর সময়ও ঠিক নাই — কোনোদিন নয়টা, কোনোদিন এগারোটা বা বারোটা।
পুরো গল্পটা পড়ুন →