
ছোটবেলার কিছু স্মৃতি থাকে, যেগুলো মনে পড়লে ভেতরটা কেমন যেন অদ্ভুত একটা শান্তিতে ভরে যায়। আমার এখনো খুব স্পষ্ট মনে আছে, আমরা যখন ছোট ছিলাম, তখন আমাদের বাড়িতে খাওয়ার নিয়মটা ছিল একদম অন্যরকম।
সকাল, দুপুর বা রাতে মা একটা বড় প্লেটে ভাত মাখতেন। আমরা সব ভাইবোন গোল হয়ে মায়ের চারপাশে বসতাম। মা সুন্দর করে ভাত মেখে এক একটা লোকমা বানাতেন, আর আমাদের মুখে মুখে তুলে দিতেন।
লোকমা খাওয়ার ওই সময়টাতে চলত আমাদের সারাদিনের রাজ্যের গল্প, কে কী করেছে, কার সাথে ঝগড়া হয়েছে—সব। আর মা হাসিমুখে সব শুনতেন, আর মাঝে মাঝে একটু বকাও দিতেন।
আজকাল যখন আমি রুশদানকে খাওয়াতে বসি, তখন ওই দৃশ্যটার কথা আমার খুব মনে পড়ে। এখনকার চিত্রটা কেমন? বাচ্চার এক হাতে মোবাইল বা সামনে কার্টুন চলছে, আর মা বাটি হাতে প্রাণপণ চেষ্টা করছেন বাচ্চার মুখে এক চামচ খাবার ঢোকাতেই। আমরা মায়েরা হয়তো ভাবি, “যাক বাবা, মোবাইল দেখে হলেও তো অন্তত পেট ভরে খাচ্ছে!”
কিন্তু আধুনিক শিশু মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, আমাদের আগের প্রজন্মের মা-চাচিদের ওই ‘এক থালায় বসে গল্প করতে করতে খাওয়ার’ পদ্ধতিটাই ছিল বাচ্চার ব্রেন আর পেটের জন্য সবচেয়ে সেরা সায়েন্স!
এর একটা চমৎকার নামও আছে— ‘মাইন্ডফুল ইটিং’ (Mindful Eating)।
যখন বাচ্চারা কার্টুন বা মোবাইল দেখে খায়, তখন ব্রেন কিন্তু খাবারের স্বাদ, গন্ধ বা পরিমাণ বুঝতে পারে না। ব্রেন থাকে কার্টুনের দিকে, আর পেট থাকে খাবারের দিকে।
ফলে বাচ্চা হয় প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খায়, নয়তো খাবারের প্রতি তার একটা চিরস্থায়ী অনীহা তৈরি হয়।
অন্যদিকে, আগের দিনের ওই গোল হয়ে বসে খাওয়ার সময়টাতে বাচ্চার সব মনোযোগ থাকতো মায়ের হাতের দিকে আর গল্পের দিকে। খাবারের স্বাদ, গন্ধ—সবকিছু বাচ্চার ব্রেন খুব সুন্দর করে রিসিভ করত। ফলে হজমশক্তি বাড়ত ম্যাজিকের মতো!
একসাথে বসে খাওয়ানোর আরেকটা বড় উপকার — বন্ধন!
গল্প শুনতে শুনতে খাওয়ার সময়টা শুধু খাবারের জন্য না, সম্পর্কের জন্যও জরুরি ছিল। বাচ্চা তখন অনুভব করত সে একা না, তার চারপাশে মানুষ আছে, তাকে নিয়ে সময় কাটানো হচ্ছে।
এই ইমোশনাল নিরাপত্তা বাচ্চার মানসিক বিকাশে গভীর প্রভাব ফেলে। স্ক্রিনের সামনে একা একা খাওয়া বাচ্চা এই সংযোগটা পায় না।
এখন কী করা যায়?
সবকিছু আগের মতো ফিরিয়ে আনা কঠিন। কিন্তু ছোট ছোট চেষ্টা করা যায়।
খাওয়ানোর সময় মোবাইল বা টিভি বন্ধ রাখা। গল্প বলতে বলতে বা টুকটাক কথা বলতে বলতে খাওয়ানো। সম্ভব হলে পরিবারের একাধিক মানুষ একসাথে বসে খাওয়া, শুধু বাচ্চা একা না।
আগের দিনের সেই বড় থালা, গোল হয়ে বসা, গল্প বলতে বলতে খাওয়ানো — এটা শুধু একটা অভ্যাস ছিল না।
এটা ছিল একধরনের যত্ন, যেটা আমরা না বুঝেই হারিয়ে ফেলছি।
রুশদানের জন্য যা বানাই, ঠিক সেটাই আপনার বাবুর জন্য — ঘরে বানানো, নো প্রিজারভেটিভ, সাদা চিনি ছাড়া।
আরও গল্প পড়ুন

“এত কোলে নিও না” — সত্যিই কি অভ্যাস খারাপ হয়?
Rushdan-কে কোলে নিলে পরিচিত কিছু কিছু মানুষজন বলে, "এত কোলে নিও না, অভ্যাস হয়ে যাবে।"
পুরো গল্পটা পড়ুন →
“বাচ্চাটা ওর বাবার মতো খাটোই হবে!”
"বাচ্চাটা মনে হয় ওর বাবার মতো খাটোই হবে!"— আশেপাশে থেকে এই কথাটা শোনার পর অনেক মা বাবাই হয়তো দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। বাচ্চার লম্বা হওয়ার ৮০% জিনের ওপর নির্ভর করে ঠিকই কিন্তু জিনের বাইরেও এমন…
পুরো গল্পটা পড়ুন →
মা হওয়ার পর মস্তিষ্কের অদ্ভুত রহস্য
পৃথিবীর কিছু ব্যাপার বড় অদ্ভুত। যেমন ধরুন, মায়েদের মস্তিষ্ক। মাঝে মাঝে আমার নিজেকে খুব অচেনা লাগে। মনে হয়, এই আমিটাকে তো আমি চিনি না। এই তো সেদিনকার ঘটনা। চুলোয় দুধ বসিয়ে দিয়ে রুশদানের…
পুরো গল্পটা পড়ুন →