
“আমি যা বলছি তাই হবে! তুমি আমার কথা মানতে বাধ্য!”
বাচ্চারা যখন একটু বেশি জেদ করে বা দুষ্টুমি করে, তখন আমরা হয়তো রেগে গিয়ে এমন কথা বলেই ফেলি।
আমরা ভাবি, আমি তো মা, আমি নিয়ম করেছি ওর ভালোর জন্যই। ও কেন বুঝবে না?
কিন্তু আমরা একটা খুব জরুরি বিষয় ভুলে যাই। হাজারটা নিয়ম, কড়া শাসন আর শৃঙ্খলা—এগুলো একটা বাচ্চার ওপর তখনই কাজ করবে, যখন সেই বাচ্চার সাথে আপনার ‘বন্ডিং’ বা সম্পর্কের ভিত্তিটা হবে একদম মজবুত।
মনোবিজ্ঞানের ভাষায় প্যারেন্টিংয়ের একটা দারুণ ম্যাজিক রুল আছে— “Connection before Correction” (সংশোধন করার আগে সংযোগ স্থাপন করুন)।
ব্যাপারটা একটু সহজ করে বলি। ধরুন, আপনি অফিসে কাজ করেন। আপনার বস সারাদিন আপনার কোনো খোঁজ নেন না, আপনার ভালো কাজগুলোর প্রশংসা করেন না, শুধু ভুল ধরেন আর নিয়ম চাপিয়ে দেন। আপনি কি ওই বসের কথা মন থেকে শুনবেন? নাকি ভয়ে শুনবেন?
বাচ্চার ক্ষেত্রেও ঠিক তাই!
আপনি সারাদিন বাচ্চার হাজারটা ভুল ধরছেন, এটা করো না, ওটা ধরো না বলছেন। কিন্তু দিনশেষে ওকে বুকে টেনে নেয়ার, ওর সাথে একটু মন খুলে খেলার সময় কি বের করছেন?
বাচ্চার সাথে যদি আপনার ইমোশনাল বন্ডিংটাই শক্ত না থাকে, তবে আপনার দেওয়া সব নিয়ম ওর কাছে ‘শাস্তি’ মনে হবে। ও আপনার কথা শুনবে হয়তো, কিন্তু সেটা সম্মানের জায়গা থেকে নয়, স্রেফ ভয়ের জায়গা থেকে।
তাই কোনো নিয়ম চাপিয়ে দেওয়ার আগে, বা বাচ্চাকে শাসন করার আগে ওর সাথে সম্পর্কটা মজবুত করা খুব জরুরি।
কীভাবে করবেন এই কানেকশন?
কোয়ালিটি টাইম: সারাদিন তো আমরা কাজ নিয়েই ব্যস্ত থাকি। কিন্তু দিনের অন্তত ২০টা মিনিট শুধু বাচ্চার জন্য রাখুন। ওই সময় কোনো মোবাইল বা অন্য কাজ নয়। শুধু ওর সাথে ওর মতো করে খেলা করুন।
জড়িয়ে ধরা: বাচ্চারা অনেক সময় দুষ্টুমি করে শুধু মায়ের মনোযোগ পাওয়ার জন্য। ওকে যখন-তখন জড়িয়ে ধরুন, চুমু খান। ফিজিক্যাল টাচ বাচ্চার ব্রেনে লাভ হরমোন তৈরি করে, যা ওকে মানসিকভাবে শান্ত রাখে।
লজিক দিয়ে বোঝানো: বকা দেওয়ার পর যখন বাচ্চা শান্ত হবে, তখন ওকে কাছে টেনে বুঝিয়ে বলুন— “আমি কিন্তু তোমাকে বকা দিইনি, তোমার ওই কাজটাকে বকা দিয়েছি। কারণ ওই কাজটা করলে তোমার ক্ষতি হতো।”
আমি নিজে এই রুলটা রুশদানের সাথে খুব মেনে চলার চেষ্টা করি। ও যখন খুব বড় কোনো অন্যায় করে বা জেদ করে, আমি ওকে শাসন করি ঠিকই, কিন্তু ওর সাথে আমার ভালোবাসার জায়গাটাতে কোনো গ্যাপ তৈরি হতে দিই না।
বকা খাওয়ার একটু পরেই ও যখন শান্ত হয়ে নিজেই ছুটে এসে আমার গলা জড়িয়ে ধরে বলে, “মা, আই লাভ ইউ,” তখন আমি বুঝি, আমার শাসনটা ওর মনে কোনো দাগ ফেলেনি। ও জানে, ওর মা পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি ওকেই ভালোবাসে।
দিনশেষে এটাই তো আসল, তাই না?
রুশদানের জন্য যা বানাই, ঠিক সেটাই আপনার বাবুর জন্য — ঘরে বানানো, নো প্রিজারভেটিভ, সাদা চিনি ছাড়া।
আরও গল্প পড়ুন

বাবা অফিস থেকে ফিরলে আমাদের বাসার মিষ্টি দৃশ্য
আমাদের বাসায় একটা খুব মিষ্টি দৃশ্য প্রতিদিন দেখা যায়। রুশদানের বাবা অফিস থেকে ফেরার ঠিক আগেই ও দরজার কাছে গিয়ে দাড়িয়ে থাকে। বাবার শব্দ পেলেই দৌড়! দরজা খোলার আগে থেকেই ওর একটানা ডাক…
পুরো গল্পটা পড়ুন →
‘না’ বলা মানেই বেয়াদবি নয় — এটা বাচ্চার প্রথম স্বাধীনতা
রুশদান যখন পেটে ছিল, তখন ভাবতাম বাচ্চা মানেই বোধহয় একটা নরম মাটির দলা! আমি যেদিকে কাত করব, সেদিকেই কাত হবে। আমি যা পরাব, তাই পরবে। প্রথম এক-দেড় বছর ব্যাপারটা বেশ তেমনই ছিল। কিন্তু ওর…
পুরো গল্পটা পড়ুন →
চিপস দেখলে বাচ্চারা পাগল হয়ে যায় কেন?
চিপস দেখলে বাচ্চারা পাগল হয়ে যায় কেন — উত্তরটা জানলে অবাক হবেন। গতকাল রুশদান-কে নিয়ে বাইরে গিয়েছিলাম।
পুরো গল্পটা পড়ুন →