
চিপস দেখলে বাচ্চারা পাগল হয়ে যায় কেন — উত্তরটা জানলে অবাক হবেন।
গতকাল রুশদান-কে নিয়ে বাইরে গিয়েছিলাম।
রাস্তার পাশে একটা দোকানে চিপসের প্যাকেট দেখল। তারপর যা হলো সেটা বর্ণনা করার ভাষা নেই। রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে কান্না, চিৎকার, টানাটানি। পাশ দিয়ে মানুষ যাচ্ছে, আমি দাঁড়িয়ে আছি — বিব্রত, ক্লান্ত, আর মনে মনে ভাবছি এই চিপসে এমন কী আছে যে বাচ্চা এভাবে পাগল হয়ে যায়?
চিপস, চকলেট, ক্যান্ডি — এগুলো তৈরি হয় একটা নির্দিষ্ট ফর্মুলায়। লবণ, চিনি, আর চর্বির এমন একটা সমন্বয় যেটা মস্তিষ্কে ডোপামিন নামের একটা কেমিক্যাল ছড়ায়।
ডোপামিন হলো আনন্দের হরমোন।
একবার এই অনুভূতি পেলে মস্তিষ্ক সেটা মনে রাখে এবং বারবার চায়। বড়রাও এই ফাঁদ থেকে বের হতে পারে না, বাচ্চাদের তো কথাই নেই।
খাদ্য বিজ্ঞানীরা এই কম্বিনেশনকে বলেন “Bliss Point” — এমন একটা মাত্রা যেখানে খাবারের স্বাদ এতটাই পারফেক্ট হয় যে মস্তিষ্ক “আর না” বলার সুযোগই পায় না।
বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এটা আরো তীব্র কেন?
বাচ্চাদের স্বাদগ্রহণের ক্ষমতা বড়দের চেয়ে অনেক বেশি তীব্র। জিভে টেস্ট বাড পরিপক্ক হচ্ছে, তাই মিষ্টি আর নোনতা স্বাদ তাদের কাছে বড়দের চেয়ে অনেক বেশি আকর্ষণীয় লাগে।
এর ওপর আছে রঙিন প্যাকেট, মজার শব্দ, কার্টুন ক্যারেক্টার। চিপসের প্যাকেট দেখামাত্র বাচ্চার মস্তিষ্কে একটা সিগন্যাল যায় — “এটা মজার, এটা চাই।” এটা আবেগ না, এটা নিউরোলজি।
আর একবার খাওয়ার অভ্যাস তৈরি হলে মস্তিষ্ক সেই রাস্তা মনে রাখে। দোকানের সামনে দিয়ে গেলেই সেই স্মৃতি জেগে ওঠে। তখন কান্না থামানো বাচ্চার পক্ষে আক্ষরিক অর্থেই কঠিন।
তাহলে কি একদমই দেওয়া যাবে না?
সম্পূর্ণ নিষেধ করলে উল্টো হয়। নিষিদ্ধ জিনিস আরো আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। বাচ্চা অন্য কোথাও সুযোগ পেলে আরো বেশি খাবে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন “অল ফুড ফিট” পদ্ধতির কথা। মানে কোনো খাবারকে সম্পূর্ণ খারাপ বলে ট্যাগ না করে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা। মাসে একবার বা দুইবার অল্প পরিমাণে দিলে বাচ্চার মনে এটা “নিষিদ্ধ” হয়ে থাকে না।
আসল কাজটা হলো বিকল্প তৈরি করা।
বাচ্চা চিপস চায় কারণ মুচমুচে, নোনতা কিছু খেতে চায়। এই চাহিদাটা স্বাভাবিক। কিন্তু সেটা পূরণ করা যায় ঘরে বানানো মুড়ি মাখা, ভাজা চিড়া, বা হালকা লবণ দিয়ে ভুট্টা দিয়েও।
Rushdan এখন মুড়ি মাখা পেলে চিপসের কথা অনেকটাই ভুলে যায়। সব সময় না, কিন্তু বেশিরভাগ সময়।
চিপস দেখে বাচ্চা পাগল হয়ে গেলে সেটা তার চরিত্রের সমস্যা না। কোটি টাকা খরচ করে তৈরি করা একটা ফর্মুলার কাছে ছোট্ট একটা মস্তিষ্ক হেরে যাচ্ছে।
দোষটা চিপস বা চকলেটের, বাচ্চার না।
Follow করুন Parenting পেজ: Rushdan
বাচ্চাদের নিয়ে আড্ডা দিতে জয়েন করুন: Rushdan Parenting Club
রুশদানের জন্য যা বানাই, ঠিক সেটাই আপনার বাবুর জন্য — ঘরে বানানো, নো প্রিজারভেটিভ, সাদা চিনি ছাড়া।
আরও গল্প পড়ুন

মাঝরাতে বাচ্চার কাশি
বাচ্চার কাশির শব্দ শুনে মাঝরাতে আপনার ঘুম ভেঙেছে কখনো? আমার তো প্রায়ই ভাঙে। আর ঘুম ভাঙার পর বাকি রাতটা দুশ্চিন্তায় কাটে—এটা কি শুধু সাধারণ ঠান্ডা লাগা, নাকি এর চেয়েও ভয়ের কিছু? শুরুটা…
পুরো গল্পটা পড়ুন →
ছোটবেলায় সবাই মিলে খাওয়ার সেই দিনগুলো
ছোটবেলার কিছু স্মৃতি থাকে, যেগুলো মনে পড়লে ভেতরটা কেমন যেন অদ্ভুত একটা শান্তিতে ভরে যায়। আমার এখনো খুব স্পষ্ট মনে আছে, আমরা যখন ছোট ছিলাম, তখন আমাদের বাড়িতে খাওয়ার নিয়মটা ছিল একদম অন্যরকম।
পুরো গল্পটা পড়ুন →
সিনেমার পরিপাটি মা আর বাস্তবের আমরা
টিভি বা সিনেমায় আমরা একটা দৃশ্য খুব দেখি। খুব সুন্দর পরিপাটি একজন মা, ঠোঁটে হালকা হাসি নিয়ে মাত্র জন্ম নেওয়া ফুটফুটে একটা বাচ্চাকে কোলে নিয়ে বসে আছেন। চারপাশের সবাই খুশিতে আত্মহারা।…
পুরো গল্পটা পড়ুন →