
মানুষের ব্রেন বড় অদ্ভুত একটা জিনিস। আর বাচ্চাদের ব্রেন তো আরও রহস্যময়!
এই তো এখন হাসছে, খেলছে, আবার পরমুহূর্তেই কোনো কারণ ছাড়া ফ্লোরে গড়াগড়ি দিয়ে কান্না। রুশদানের এই ‘মুড সুইং’ বা ক্ষণে ক্ষণে মেজাজ বদলানো দেখে আমি মাঝে মাঝেই খুব চিন্তায় পড়তাম। ভাবতাম, ছেলেটার কি কোনো কষ্ট হচ্ছে, নাকি এটা শুধুই জেদ?
বাচ্চাদের এই খিটখিটে মেজাজের পেছনে নাকি ওদের ব্রেনের একটা বিশেষ হরমোনের অভাব থাকতে পারে। হরমোনটার নাম ‘সেরোটোনিন’ (Serotonin)। এটা হলো ‘খুশির হরমোন’। ব্রেনে এই হরমোনটা ঠিকমতো থাকলে বাচ্চা শান্ত থাকে, হাসিখুশি থাকে আর নতুন কিছু শেখার জন্য ওর মাথাটা একদম রিল্যাক্সড থাকে।
এখন প্রশ্ন হলো, এই ‘খুশির হরমোন’ কি ফার্মেসিতে বোতলে ভরে বিক্রি হয়? যে কিনে এনে ২ চামচ খাইয়ে দিলাম আর বাচ্চা খুশি হয়ে গেল!
না, ফার্মেসিতে পাওয়া যায় না। তবে আমাদের সবার হাতের নাগালে এমন একটা জাদুকরী জিনিস প্রায়ই থাকে, যা এই হরমোন তৈরিতে ম্যাজিকের মতো কাজ করে। আর সেই জিনিসটা হলো—কলা!
হ্যাঁ, আমাদের অতি পরিচিত, সাধারণ একটা কলা।
কলাতে ‘ট্রিপটোফ্যান’ নামের একটা বিশেষ অ্যামাইনো অ্যাসিড থাকে। বাচ্চা যখন কলা খায়, তখন এই ট্রিপটোফ্যান ওর ব্রেনে গিয়ে সরাসরি ওই ‘সেরোটোনিন’ বা খুশির হরমোনে বদলে যায়!
শুধু তাই নয়, কলায় থাকা প্রচুর পটাশিয়াম বাচ্চার ব্রেনে অক্সিজেনের সাপ্লাই বাড়িয়ে দেয়, ফলে বাচ্চার ব্রেন খুব দ্রুত কাজ করতে পারে। এছাড়াও কলা বাচ্চাদের ওজন দ্রুত বাড়াতে সাহায্য করে।
আমি আগে রুশদানকে কলা দিতাম শুধু পেট ভরানোর জন্য বা এনার্জির জন্য। কিন্তু এই ‘খুশির হরমোন’-এর ব্যাপারটা জানার পর থেকে কলাকে আমি একটু অন্য চোখেই দেখি।
এখন ও যখন খুব ঘ্যানঘ্যান করে বা অকারণে জেদ ধরে, আমি চেষ্টা করি ওর হাতে একটা কলা ধরিয়ে দিতে। বিশ্বাস করুন, মিষ্টি একটা কলা খাওয়ার পর ওর মেজাজটা আসলেই একটু শান্ত হয়ে আসে।
তাছাড়া কলার মতো সহজলভ্য আর ঝামেলাহীন খাবার তো আর দুটো নেই। খোসা ছাড়াও আর গপাগপ খেয়ে নাও! আমি অনেক সময় আমার বানানো হোমমেইড সিরিয়ালের সাথেও একটা কলা ম্যাশ করে দিই। এতে খাবারের স্বাদও বাড়ে, আর ব্রেনও খুশি থাকে।
রুশদানের জন্য যা বানাই, ঠিক সেটাই আপনার বাবুর জন্য — ঘরে বানানো, নো প্রিজারভেটিভ, সাদা চিনি ছাড়া।
আরও গল্প পড়ুন

বাচ্চার কান্নার কাছে আপনিও কি নিয়ম ভেঙে ফেলেন?
এমনিতে রুশদান কার্টুন দেখার জন্য খুব একটা কান্নাকাটি করে না। টাইম শেষ হলে সুন্দরমতো টিভি বন্ধ করতে দেয়। কিন্তু গতকাল দুপুরে হঠাৎ করেই ওর একটা অদ্ভুত জেদ চাপল!
পুরো গল্পটা পড়ুন →
দুই বছর না পেরোতেই ইউটিউব: স্ক্রিন থেকে ফেরার গল্প
রুশদানের বয়স তখন ২ বছরও পার হয়নি তখন। একদিন আমার ফোন নিয়ে নিজেই ইউটিউব খুলে ফেলল। আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম। মনে মনে একটু গর্বও হলো — আহা, কত চালাক! কিন্তু পরে যখন বুঝতে পারলাম এটা…
পুরো গল্পটা পড়ুন →
ভয় দেখিয়ে খাওয়ানো: শর্টকাটের আড়ালে বড় ক্ষতি
"ভাত না খেলে কিন্তু পুলিশ ডাকবো!" অথবা, "চোখ বন্ধ করো, নাহলে কিন্তু ভূত এসে ধরে নিয়ে যাবে!" আমাদের দেশে এই ডায়লগগুলো শোনেননি, এমন মানুষ মনে হয় খুঁজে পাওয়া যাবে না। ছোটবেলায় আমরা…
পুরো গল্পটা পড়ুন →