
গত শুক্রবার বিকেলে রুশদান টিভিতে কার্টুন দেখছিল।
আধা ঘণ্টা পার হয়ে গেছে, চোখ প্রায় স্ক্রিনের সাথে লেগে আছে। আমি গিয়ে বললাম, “টিভি বন্ধ করো।”
রুশদান তাকাল না। বলল, “না, আরেকটু।”
মেজাজ চড়ে গেল। মুখ দিয়ে প্রায় বেরিয়েই যাচ্ছিল, “আমি বলেছি তাই বন্ধ করবে, কোনো কথা না!”
কিন্তু থেমে গেলাম। মনে পড়ল — এই কথাটা বললে আমি জিতব ঠিকই, কিন্তু রুশদান কিছু শিখবে না।
“আমি বলেছি” — এই বাক্যের সমস্যাটা কোথায়?
এই কথায় কোনো কারণ থাকে না। শুধু ক্ষমতা দেখানো হয়। বাচ্চা তখন নিয়মটা মানে ভয়ে বা বাধ্য হয়ে, বুঝে না কেন মানা উচিত।
এভাবে বড় হওয়া বাচ্চারা দুই ধরনের হয়। কেউ সবসময় ভয়ে ভয়ে থাকে, নিজে সিদ্ধান্ত নিতে ভয় পায়। আবার কেউ বড় হয়ে পুরোপুরি বিদ্রোহী হয়ে যায় — কারণ ওরা কখনো “কেন” প্রশ্নের উত্তর পায়নি।
তাহলে আমি কী বললাম?
শান্ত হয়ে রুশদানের পাশে বসলাম। বললাম, “বাবা, অনেকক্ষণ ধরে টিভি দেখলে তোমার চোখ ব্যথা করবে। চোখ ব্যথা করলে তুমি রাতে ভালো ঘুমাতে পারবে না, তখন কষ্ট হবে। তাই এখন বন্ধ করতে হবে।”
রুশদান একটু চুপ করে রইল। তারপর বলল, “চোখ ব্যথা করবে?”
বললাম, “হ্যাঁ, তাই একটু বিরতি দরকার।”
সে আরো ৩ মিনিট পর নিজেই রিমোট এগিয়ে দিয়ে বলল, “বন্ধ করো।”
পার্থক্যটা কোথায়?
প্রথমবার শুধু আদেশ দিলে হয়তো টিভি বন্ধ হতো, কিন্তু রুশদান শিখত না কেন। পরের বার আবার একই জেদ করত।
কিন্তু কারণ বুঝিয়ে বললে সে নিজেই সিদ্ধান্তে অংশ নিল। এবং সবচেয়ে বড় কথা — পরের দিন নিজে থেকেই বলল, “মা, অনেকক্ষণ হয়ে গেছে, চোখ ব্যথা করবে।”
এটাই Authoritative Parenting-এর আসল শক্তি। নিয়ম চাপিয়ে দেওয়া না, নিয়মের পেছনের যুক্তিটা বোঝানো।
আরো কিছু উদাহরণ যা বাসায় কাজে লাগে —
“এখন ঘুমাতে যাও” না বলে বলুন, “রাতে ভালো ঘুম হলে সকালে তুমি অনেক এনার্জি পাবে খেলার জন্য।”
“হাত ধোও” না বলে বলুন, “হাতে জীবাণু লেগে থাকে, না ধুয়ে খেলে পেট ব্যথা করতে পারে।”
“এটা করা যাবে না” না বলে বলুন, “এটা করলে তুমি ব্যথা পেতে পারো, তাই সাবধান থাকতে হবে।”
কারণ ব্যাখ্যা করলে বাচ্চা শুধু মানে না, বোঝে। আর বোঝা জিনিস মনে থাকে অনেকদিন।
রুশদানের জন্য যা বানাই, ঠিক সেটাই আপনার বাবুর জন্য — ঘরে বানানো, নো প্রিজারভেটিভ, সাদা চিনি ছাড়া।
আরও গল্প পড়ুন

বাবা অফিস থেকে ফিরলে আমাদের বাসার মিষ্টি দৃশ্য
আমাদের বাসায় একটা খুব মিষ্টি দৃশ্য প্রতিদিন দেখা যায়। রুশদানের বাবা অফিস থেকে ফেরার ঠিক আগেই ও দরজার কাছে গিয়ে দাড়িয়ে থাকে। বাবার শব্দ পেলেই দৌড়! দরজা খোলার আগে থেকেই ওর একটানা ডাক…
পুরো গল্পটা পড়ুন →
দুই বছর না পেরোতেই ইউটিউব: স্ক্রিন থেকে ফেরার গল্প
রুশদানের বয়স তখন ২ বছরও পার হয়নি তখন। একদিন আমার ফোন নিয়ে নিজেই ইউটিউব খুলে ফেলল। আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম। মনে মনে একটু গর্বও হলো — আহা, কত চালাক! কিন্তু পরে যখন বুঝতে পারলাম এটা…
পুরো গল্পটা পড়ুন →
৩ কোটি শব্দের ব্যবধান: বাচ্চার সাথে কথা বলার জাদু
১৯৯৫ সালে আমেরিকার দুজন গবেষক Betty Hart এবং Todd Risley একটা যুগান্তকারী গবেষণা করেন। তারা তিন বছর ধরে বিভিন্ন পরিবারের বাচ্চাদের পর্যবেক্ষণ করেন এবং দেখেন — যে বাচ্চারা জীবনের প্রথম…
পুরো গল্পটা পড়ুন →