
“দুধ তো ছাড়াতেই হবে। এক কাজ করো, বুকে একটু নিমপাতার রস বা করলার রস মেখে দাও। মুখে দিলেই তিতা লাগবে, আর খাবে না। অথবা একটু আলতা বা লাল রঙ মেখে বলো যে রক্ত বের হচ্ছে, মা ব্যথা পেয়েছে!”
বুকের দুধ ছাড়ানোর সময় হলে মুরুব্বিদের কাছ থেকে এই উপদেশ শোনেননি, আমাদের দেশে এমন মায়ের সংখ্যা হয়তো হাতে গোনা। বুদ্ধিটা শুনতে খুব জাদুকরী মনে হয়, তাই না? মনে হয় এক নিমেষেই বুঝি সব মুশকিল আসান!
কিন্তু শিশু বিশেষজ্ঞরা এই ‘ভয় দেখিয়ে দুধ ছাড়ানো’র পদ্ধতিকে একেবারেই না করে দিয়েছেন। এর পেছনের বিজ্ঞান বা মনস্তত্ত্বটা একটু ভেবে দেখুন তো। একটা বাচ্চা যখন পৃথিবীতে আসে, তখন মায়ের বুকটাই হয় তার সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়। ওর ক্ষুধা, ভয়, কষ্ট, ঘুম—সবকিছুর একমাত্র সমাধান ওই একটা জায়গা।
সেই সবচেয়ে আপন আর নিরাপদ জায়গাটা থেকে হঠাৎ করে যখন তেতো স্বাদ আসে, বা লাল রঙ দেখে সে ভাবে মা ভয়ংকর ব্যথা পেয়েছে, তখন বাচ্চার ছোট্ট দুনিয়াটা কেমন ওলটপালট হয়ে যায় ভাবুন তো! সে চরম বিভ্রান্তিতে পড়ে যায়। এই ভয়টা ওর অবচেতন মনে একটা বড় রকমের ট্রমা তৈরি করে। ভয়ে বা তিতা স্বাদে দুধ হয়তো সে খাওয়া ছেড়ে দেয়, কিন্তু ভেতরে ভেতরে একটা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে শুরু করে।
আসলে, বুকের দুধ ছাড়ানো কোনো জাদুর বিষয় নয়, এটা একজন মায়ের জন্য চরম ধৈর্যের পরীক্ষা! মাঝরাতে যখন বাচ্চা অভ্যাসবশত দুধের জন্য ডুকরে কেঁদে ওঠে, তখন নিজের ঘুমন্ত চোখ মেলে ওকে অন্যভাবে ভোলানো যে কত বড় যুদ্ধ, সেটা শুধু একজন মা-ই জানেন। এই সময়টায় বাচ্চা প্রচণ্ড ঘ্যানঘ্যান করবে, আপনার শাড়ির আঁচল ধরে সারাদিন ঘুরবে, আপনার নির্ঘুম রাত কাটবে। নিজের কাছেই মনে হবে, “উফ! আর পারছি না!” চরম ধৈর্যের এই পরীক্ষায় পাশ করাটা বড্ড কঠিন।
কিন্তু তাই বলে সবচেয়ে আস্থার জায়গাটাকে ওর কাছে ভয়ংকর বানিয়ে শর্টকাট খুঁজবেন না। ধীরে ধীরে সময়টা কমিয়ে আনুন, মনোযোগ অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিন। এই সময়টায় ওর বুকের দুধের চেয়েও মায়ের কোলটা বেশি দরকার। ওকে বেশি করে জড়িয়ে ধরে রাখুন।
আপনাদেরকেও কি কেউ কখনো এই নিমপাতা বা লাল রঙের বুদ্ধি দিয়েছিল? এই চরম ধৈর্যের পরীক্ষায় আপনারা কীভাবে পাশ করেছিলেন?
Follow করুন Parenting পেজ- Rushdan
বাচ্চাদের নিয়ে আড্ডা দিতে জয়েন করুনঃ Rushdan Parenting Club
রুশদানের জন্য যা বানাই, ঠিক সেটাই আপনার বাবুর জন্য — ঘরে বানানো, নো প্রিজারভেটিভ, সাদা চিনি ছাড়া।
আরও গল্প পড়ুন

মসজিদ দেখলেই রুশদানের নতুন অভ্যাস
ইদানীং রুশদানের একটা নতুন অভ্যাস হয়েছে। বাসার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় মসজিদ দেখলেই ওর ছোট্ট আঙুলটা উঁচু করে বলে, "নামাজ পড়বো!" ওর মুখে এই কথাটা শুনলে আমার বুকটা কেমন যেন শান্তিতে ভরে যায়।…
পুরো গল্পটা পড়ুন →
মা হওয়ার পর মস্তিষ্কের অদ্ভুত রহস্য
পৃথিবীর কিছু ব্যাপার বড় অদ্ভুত। যেমন ধরুন, মায়েদের মস্তিষ্ক। মাঝে মাঝে আমার নিজেকে খুব অচেনা লাগে। মনে হয়, এই আমিটাকে তো আমি চিনি না। এই তো সেদিনকার ঘটনা। চুলোয় দুধ বসিয়ে দিয়ে রুশদানের…
পুরো গল্পটা পড়ুন →
রুশদান হওয়ার পরের এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা
Rushdan হওয়ার কিছুদিন পর একটা অদ্ভুত জিনিস হয়েছিল। সব ঠিকঠাক ছিল। সুস্থ বাচ্চা, পাশে রুশদানের বাবা, পরিবার আছে। কিন্তু রাতে ব্রেষ্ট ফিডিংয়ের সময় হঠাৎ চোখ ভিজে যেত। কোনো কারণ নেই। কেউ…
পুরো গল্পটা পড়ুন →