
সকালবেলা বের হওয়ার তাড়া। রুশদান নিজে নিজে জুতো পরার চেষ্টা করছে। একবার ডান পায়ে বাম জুতো ঢোকাচ্ছে, তো আরেকবার ফিতা আটকাতে পারছে না। আমার ঘড়ির দিকে চোখ আর মেজাজ তখন তুঙ্গে! আমি টুক করে ওর হাত থেকে জুতোটা কেড়ে নিয়ে নিজেই পরিয়ে দিলাম। ও কিছু একটা বলতে গিয়েও চুপ করে গেল।
রাস্তায় যেতে যেতে আমি ভাবলাম, কাজটা কি ঠিক করলাম? ও তো নিজের কাজটা নিজেই করতে চাইছিল। আমি হয়তো ৫ মিনিট সময় বাঁচালাম, কিন্তু ওর নিজের ওপর যে একটা বিশ্বাস তৈরি হচ্ছিল, সেটা তো এক ধাক্কায় ভেঙে দিলাম!
আমাদের মায়েদের এটা একটা খুব কমন অভ্যাস। আমরা সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকি। বাচ্চা যখন নিজের হাতে এক গ্লাস পানি ঢালতে চায়, আমরা ভাবি—”পানি তো ফেলবেই, সাথে গ্লাসটাও ভাঙবে। তার চেয়ে আমিই দিয়ে দিই।” বাচ্চা যখন নিজের হাতে ভাত মেখে খেতে চায়, আমরা ভাবি—”সারা ঘর নোংরা করবে, পরিষ্কার করবে কে? আমিই খাইয়ে দিই।”
এই ‘আমিই করে দিই’ স্বভাবটা দিয়ে আমরা অজান্তেই আমাদের সোনামণিদের আত্মবিশ্বাস বা সেলফ-কনফিডেন্সটা একদম কমিয়ে দিচ্ছি। ওরা ভাবতে শুরু করে, “মা মনে হয় আমাকে বিশ্বাস করে না। আমি বোধহয় কোনো কাজই ঠিকমতো পারি না।”
২ থেকে ৫ বছরের বাচ্চাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর সেরা উপায় হলো, ওদেরকে ছোট ছোট কাজের দায়িত্ব দেওয়া। চলুন দেখি, কীভাবে আমরা খুব সহজেই আমাদের বাচ্চাদের আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে পারি:
১. ছোট কাজের দায়িত্ব দিন:
ভাত খাওয়ার সময় ওকে ওর নিজের প্লেটটা টেবিলে রাখতে বলুন। কিংবা খেলনা দিয়ে খেলা শেষে ওকে বলুন, “চলো, আমরা দুজন মিলে খেলনাগুলো বক্সে তুলে রাখি।” এই ছোট ছোট কাজগুলো ওদের মনে একটা ধারণা দেয় যে, “আমিও এই বাসার একজন গুরুত্বপূর্ণ মানুষ, আমার কাজেরও দাম আছে।”
২. ভুল করতে দিন:
ও পানি ঢালতে গিয়ে ফ্লোরে ফেলবে, জুতো উল্টো পরবে, নিজের হাতে খেতে গিয়ে অর্ধেক ভাত নিচে ফেলবে—এটাই তো স্বাভাবিক! ভুল করলেই বকা দেবেন না। বরং বলুন, “কোনো ব্যাপার না, চলো আমরা একসাথ মুছে ফেলি।” এতে ও ভুল করতে ভয় পাবে না।
৩. কাজের প্রশংসা করুন, ফলাফলের নয়:
ও হয়তো খুব বাজেভাবে ঘর গুছিয়েছে, কিন্তু ওর ‘চেষ্টা’টার প্রশংসা করুন। বলুন, “তুমি যে নিজে নিজে খেলনাগুলো গুছিয়েছ, আম্মু খুব খুশি হয়েছে!”
আমরা মায়েরা যদি ওদের এই ছোট ছোট ‘আমি পারবো’ অনুভূতিগুলোকে উৎসাহ দিই, তবেই ওরা একদিন বড় বড় চ্যালেঞ্জ নিতে শিখবে।
Follow করুন Parenting পেজ- Rushdan
বাচ্চাদের নিয়ে আড্ডা দিতে জয়েন করুনঃ Rushdan Parenting Club
রুশদানের জন্য যা বানাই, ঠিক সেটাই আপনার বাবুর জন্য — ঘরে বানানো, নো প্রিজারভেটিভ, সাদা চিনি ছাড়া।
আরও গল্প পড়ুন

৩ কোটি শব্দের ব্যবধান: বাচ্চার সাথে কথা বলার জাদু
১৯৯৫ সালে আমেরিকার দুজন গবেষক Betty Hart এবং Todd Risley একটা যুগান্তকারী গবেষণা করেন। তারা তিন বছর ধরে বিভিন্ন পরিবারের বাচ্চাদের পর্যবেক্ষণ করেন এবং দেখেন — যে বাচ্চারা জীবনের প্রথম…
পুরো গল্পটা পড়ুন →
বিনা খরচে বাচ্চার বুদ্ধি বাড়ানোর ৪টি অভ্যাস
আচ্ছা, আপনার বাচ্চার brain development এর জন্য আপনি কত টাকা খরচ করেন? দামি দামি পাজল গেম, ভালো স্কুল, নাকি কোনো স্পেশাল কোচিং?
পুরো গল্পটা পড়ুন →
বাচ্চার রাত জাগা কি শুধু বদভ্যাস, নাকি অন্য কিছু?
মাঝরাত পার হয়ে গেছে। চারপাশ একেবারে নিস্তব্ধ। পৃথিবীর সব মানুষ ঘুমে অচেতন, শুধু আপনি আর আপনার বাচ্চা বাদে! ওর চোখে এক ফোঁটা ঘুম নেই, উল্টো সে ফুল চার্জড ব্যাটারির মতো বিছানায় লাফঝাঁপ করছে।
পুরো গল্পটা পড়ুন →