
পরিবারের, বিশেষ করে ছোট্ট সোনামণির সুরক্ষার জন্য আমরা ঘরবাড়ি পরিষ্কার রাখতে কত কিছুই না করি! ঘর মোছা, বাথরুম পরিষ্কার করা, বিছানার চাদর বদলানো – চেষ্টার কোনো কমতি থাকে না। কিন্তু যদি প্রশ্ন করা হয়, “আপনার বাসার সবচেয়ে জীবাণুযুক্ত বা নোংরা জায়গা কোনটি?” বেশিরভাগ মানুষের উত্তর কী হবে? সম্ভবত, “টয়লেট সিট”! তাই না?
কিন্তু সত্যিটা জানলে আপনিও হয়তো আমার মতো চমকে উঠবেন! আমাদের ঘরের এমন কিছু জায়গা আছে যা আমরা আপাতদৃষ্টিতে পরিষ্কার মনে করলেও, সেখানে টয়লেট সিটের চেয়েও কয়েকশ গুণ বেশি জীবাণু লুকিয়ে থাকতে পারে।
আসুন দেখি, জীবাণুরা আসলে কোথায় বেশি আড্ডা জমায়:
১. রান্নাঘরের সিঙ্ক, স্পঞ্জ ও মেঝে:
ইনি হলেন তালিকার টপ বস!
খাবারের কণা, ভেজা পরিবেশ—এককথায় জীবাণুদের পার্টি সেন্টার! আর মেঝেতে তরকারির ঝোল, মাছের পানি, খাবারের কণা— কত কিছুই না পড়ে এখানে! যতই মুছি না কেন, কোণায় কোণায় জীবাণুরা ঠিকই ওঁত পেতে থাকে।
২. সোনামণির খেলনা ও পুতুল:
রুশদান ওর পুতুলকে আদর করে, চুমু খায়, মাটিতে ফেলে আবার মুখে দেয়! ভাবুন তো কী অবস্থা! এগুলো জীবাণুদের দারুণ এক লুকানোর জায়গা।
৩. টুথব্রাশ হোল্ডার:
বাথরুমের ভেজা পরিবেশে টুথব্রাশ হোল্ডারের নিচে প্রায়ই পানি জমে থাকে, যা জীবাণুদের জন্য একটি আদর্শ জায়গা।
৪. ফ্রিজের হ্যান্ডেল আর ড্রয়ার:
আমরা সারাদিন কাঁচা মাছ-মাংস ধরে, এটা-ওটা নেড়ে তারপর ফ্রিজ খুলি। হ্যান্ডেলটা তো জীবাণুতে ভর্তি থাকেই, সবজির ড্রয়ারেও কিন্তু কম যায় না!
৫. মোবাইল, রিমোট, দরজার হাতল:
এগুলো তো আমাদের সবার হাতের “কমন প্রপার্টি”! কে কখন কী ধরে এগুলো স্পর্শ করছে, তার কোনো হিসাব নেই।
৬. কাটিং বোর্ড:
বিশেষ করে কাঁচা মাছ-মাংস কাটার পর এটা হয়ে ওঠে ব্যাকটেরিয়ার এক আদর্শ আবাস।
৭. কিচেন টাওয়েল বা মোছামুছির কাপড়:
হাত মোছা বা রান্নাঘরের কাউন্টার মোছার কাপড়গুলো ভেজা থাকার কারণে খুব দ্রুত জীবাণুর বংশবৃদ্ধি ঘটায়।
তাহলে আমি এখন কী করি?
সত্যি বলতে, সব সময় সবকিছু পারফেক্ট রাখা সম্ভব না। তবে আমি চেষ্টা করি, রান্নাঘরের স্পঞ্জটা গরম পানিতে ফুটিয়ে নিতে, রুশদানের প্লাস্টিকের খেলনাগুলো সপ্তাহে একবার সাবান-পানি দিয়ে ধুয়ে দিতে, আর ফ্রিজের হ্যান্ডেল বা মোবাইলটা প্রতিদিন একবার মুছে নিতে।
আসলে, একটু বাড়তি সতর্কতা আর জানা থাকলেই হয়। আমাদের সোনামণিদের সুস্থ রাখতে এর বেশি আর কী চাই, তাই না?
রুশদানের জন্য যা বানাই, ঠিক সেটাই আপনার বাবুর জন্য — ঘরে বানানো, নো প্রিজারভেটিভ, সাদা চিনি ছাড়া।
আরও গল্প পড়ুন

‘না’ বলা মানেই বেয়াদবি নয় — এটা বাচ্চার প্রথম স্বাধীনতা
রুশদান যখন পেটে ছিল, তখন ভাবতাম বাচ্চা মানেই বোধহয় একটা নরম মাটির দলা! আমি যেদিকে কাত করব, সেদিকেই কাত হবে। আমি যা পরাব, তাই পরবে। প্রথম এক-দেড় বছর ব্যাপারটা বেশ তেমনই ছিল। কিন্তু ওর…
পুরো গল্পটা পড়ুন →
নিজে নিজে জুতো পরা: ধৈর্যের ছোট্ট পরীক্ষা
সকালবেলা বের হওয়ার তাড়া। রুশদান নিজে নিজে জুতো পরার চেষ্টা করছে। একবার ডান পায়ে বাম জুতো ঢোকাচ্ছে, তো আরেকবার ফিতা আটকাতে পারছে না। আমার ঘড়ির দিকে চোখ আর মেজাজ তখন তুঙ্গে! আমি টুক করে…
পুরো গল্পটা পড়ুন →
বাচ্চা শুধু গরুর দুধই খেতে চায়?
"বাচ্চা তো অন্য কিছুই খেতে চায় না, শুধু গরুর দুধটাই একটু খায়। আমি তাই বারবার ফিডার বা গ্লাসে করে দুধই দিই। সুজির সাথে দেই, ফিরনির সাথে একটু দেই। অন্তত পেট তো ভরছে আর পুষ্টিটাও পাচ্ছে!"
পুরো গল্পটা পড়ুন →