
এমনিতে রুশদান কার্টুন দেখার জন্য খুব একটা কান্নাকাটি করে না। টাইম শেষ হলে সুন্দরমতো টিভি বন্ধ করতে দেয়। কিন্তু গতকাল দুপুরে হঠাৎ করেই ওর একটা অদ্ভুত জেদ চাপল!
ওর নির্ধারিত ২০ মিনিট কার্টুন দেখার পর আমি যখন টিভিটা বন্ধ করে রিমোটটা টেবিলে রাখলাম, সে দৌড়ে এসে বলল, “মা, আর একট্টু কার্টুন দেখি?”
আমি খুব স্বাভাবিক গলায় বললাম, “না, তোমার ২০ মিনিট তো শেষ। এখন আর না।”
ব্যাস, শুরু হলো ঘ্যানঘ্যান! আমি ওর কথায় পাত্তা না দিয়ে আমার কাজে মন দিলাম। ভাবলাম, একটু ঘ্যানঘ্যান করে ঠিকই থেমে যাবে। কিন্তু না! ২ মিনিট পর ওর ওই ঘ্যানঘ্যান রূপ নিল চিৎকারে। আর ঠিক ৫ মিনিট পর শুরু হলো আসল কুরুক্ষেত্র! সে আক্ষরিক অর্থেই ফ্লোরে গড়াগড়ি খাচ্ছে আর পা ছুড়ে কাঁদছে।
আমার মাথার রগ তখন দপদপ করছে। মনে হচ্ছিল, “উফ! আর পারছি না! এই অশান্তির চেয়ে টিভিটা ছেড়েই দিই, আমার মাথাটা অন্তত শান্তিতে থাকুক!”
কিন্তু নিজের রাগটা কন্ট্রোল করলাম এবং শান্ত থাকলাম। কারণ আমি জানতাম, আজ যদি আমি ওর এই গড়াগড়ি কান্নার কাছে হার মেনে রিমোটটা ওর হাতে তুলে দিই, তাহলে আমি ওকে আসলে কী মেসেজ দেব?
বাচ্চাদের ব্রেন খুব শার্প হয়! আমি রিমোটটা দিলেই ওর ছোট্ট ব্রেন হিসেব কষে ফেলত— “মায়ের ‘না’ মানে আসলে পুরোপুরি না নয়। একটু বেশি জোরে ফ্লোরে গড়াগড়ি দিলে কিংবা ১৫ মিনিট একটানা ঘ্যানঘ্যান করলেই মায়ের এই ‘না’ টা ম্যাজিকের মতো ‘হ্যাঁ’ হয়ে যায়!”
এবং বিশ্বাস করুন, এর পরেরবার সে আর ১৫ মিনিটে থামতো না। সে আরও দ্বিগুণ জেদ করতো, কারণ সে চিনে গেছে যে আমাকে কীভাবে হারাতে হয়।
তাই গতকাল আমি হার মানিনি। আমি ফ্লোরে ওর পাশে গিয়ে বসলাম। ওর পিঠে হাত বুলিয়ে খুব শান্ত গলায় বললাম, “আমি জানি কার্টুন দেখতে না পারায় তোমার খুব মন খারাপ হচ্ছে, তুমি খুব রেগে আছ। কিন্তু আমাদের কথা ছিল তুমি শুধু ২০ মিনিটই দেখবে, আর তোমার সময় শেষ। তুমি চাইলে এখন কাঁদতে পারো, কিন্তু টিভি আর অন হবে না।”
ও আরও কিছুক্ষণ কাঁদল। আমি চুপচাপ বসে ওর কান্না দেখলাম, কিন্তু রিমোট দিলাম না। একটা সময় ও নিজেই বুঝতে পারল যে, ও যতই গড়াগড়ি দিক না কেন, আমার মুখের ওই ‘না’ কোনোভাবেই বদলাবে না। কিছুক্ষণ পর সে নিজেই চোখ মুছে তার গাড়ির বক্স নিয়ে খেলতে বসে গেল!
আমরা অনেক সময়ই বাচ্চার জেদ বা ঘ্যানঘ্যান সহ্য করতে না পেরে নিয়ম ভেঙে ফেলি। কিন্তু মনে রাখবেন, আপনি যতবার নিয়ম ভাঙবেন, আপনার বাচ্চার জেদ তত বাড়বে। তাই নিয়ম যখন বানাবেন, ভেবেচিন্তে বানাবেন। আর একবার ‘না’ বললে সেটা যেন কান্নার বন্যায় ভেসে ‘হ্যাঁ’ না হয়ে যায়।
আপনাদের কার কার বাসায় বাচ্চার জেদের কাছে নিয়ম হেরে যাওয়ার এই নাটকটা মাঝে মাঝেই চলে? সত্যি করে বলুন তো!
রুশদানের জন্য যা বানাই, ঠিক সেটাই আপনার বাবুর জন্য — ঘরে বানানো, নো প্রিজারভেটিভ, সাদা চিনি ছাড়া।
আরও গল্প পড়ুন

বুকের দুধ ছাড়ানোর ভুল পদ্ধতি
"দুধ তো ছাড়াতেই হবে। এক কাজ করো, বুকে একটু নিমপাতার রস বা করলার রস মেখে দাও। মুখে দিলেই তিতা লাগবে, আর খাবে না। অথবা একটু আলতা বা লাল রঙ মেখে বলো যে রক্ত বের হচ্ছে, মা ব্যথা পেয়েছে!"
পুরো গল্পটা পড়ুন →
ঘ্যান ঘ্যান করা বাচ্চাকে সামলাবেন কীভাবে?
রুশদান রাগ করলে মাটিতে গড়াগড়ি দেয় না। সে করে অন্য কিছু — একটানা ঘ্যান ঘ্যান। এমন একটা সুর যেটা কানে ঢুকলে মাথা থেকে আর বের হয় না। প্রথম পাঁচ মিনিট সামলাই, দশ মিনিটে একটু কঠিন হয়,…
পুরো গল্পটা পড়ুন →
সিনেমার পরিপাটি মা আর বাস্তবের আমরা
টিভি বা সিনেমায় আমরা একটা দৃশ্য খুব দেখি। খুব সুন্দর পরিপাটি একজন মা, ঠোঁটে হালকা হাসি নিয়ে মাত্র জন্ম নেওয়া ফুটফুটে একটা বাচ্চাকে কোলে নিয়ে বসে আছেন। চারপাশের সবাই খুশিতে আত্মহারা।…
পুরো গল্পটা পড়ুন →