
“ভাত না খেলে কিন্তু পুলিশ ডাকবো!” অথবা, “চোখ বন্ধ করো, নাহলে কিন্তু ভূত এসে ধরে নিয়ে যাবে!”
আমাদের দেশে এই ডায়লগগুলো শোনেননি, এমন মানুষ মনে হয় খুঁজে পাওয়া যাবে না। ছোটবেলায় আমরা শুনেছি, আর এখন মা হয়ে আমরাও আমাদের বাচ্চাদের ঠিক এই কথাগুলোই বলছি। কারণটা খুব সোজা—বাচ্চা খাচ্ছে না বা ঘুমাচ্ছে না, আর এদিকে আমাদের মেজাজ গরম হয়ে যাচ্ছে। হঠাৎ করে এই পুলিশ বা ভূতের ভয় দেখালে বাচ্চা কেমন সুবোধ বালকের মতো মুখ হাঁ করে ভাত গিলে নেয় বা চোখ শক্ত করে বন্ধ করে ফেলে! আমরা মায়েরা তখন হাফ ছেড়ে বাঁচি, “যাক বাবা, ফাইনালি ঘুমালো!”
কিন্তু, এই ‘শর্টকাট’ সমাধানটা বাচ্চার কচি মনে কী মারাত্মক প্রভাব ফেলছে, তা কি আমরা কখনো ভেবে দেখেছি?
আমরা বড়রা তো জানি যে পুলিশ ভাত না খাওয়ার জন্য আসে না বা ভূত বলে কিছু নেই। কিন্তু আপনার ওই ২-৪ বছরের পিচ্চিটার কাছে আপনার কথাই হলো ১০০% সত্যি। ওর কাছে পুলিশ, জুজুবুড়ি বা ভূত—সবই বাস্তব।
যখন আপনি তাকে ভয় দেখান, তখন সাময়িকভাবে আপনার কাজ হাসিল হলেও, বাচ্চার অবচেতন মনে একটা স্থায়ী ভয় বা ‘অ্যাংজাইটি’ (Anxiety) তৈরি হতে শুরু করে। সে মনে করে পৃথিবীটা একটা ভয়ংকর জায়গা, যেখানে একটু ভুল করলেই তাকে কেউ না কেউ এসে ধরে নিয়ে যাবে!
এর ক্ষতিকর দিকগুলো জানলে আপনি আজ থেকেই এই ভয় দেখানো বন্ধ করবেন:
রাতের দুঃস্বপ্ন আর ঘুমের বারোটা:
যে বাচ্চাকে জুজুবুড়ি বা অন্ধকারের ভয় দেখিয়ে ঘুম পাড়ানো হয়, তার ঘুম কখনোই শান্তির হয় না। সে হয়তো ভয়ে চোখ বন্ধ করে রাখে, কিন্তু রাতে হঠাৎ চমকে ওঠে বা দুঃস্বপ্ন দেখে কাঁদে। এই ভীতি অনেক বাচ্চার মধ্যে বড় হওয়া পর্যন্ত থেকে যায়, ওরা একা বা অন্ধকারে ঘুমাতে ভয় পায়।
নিজের ঘরেই নিরাপত্তাহীনতা:
বাড়ি হলো একটা বাচ্চার সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা, আর মা-বাবা হলো তার সবচেয়ে বড় আশ্রয়। কিন্তু যখন মা-বাবাই বাইরের কোনো ভয়ংকর কিছুর ভয় দেখায়, তখন বাচ্চা তার নিজের নিরাপদ ঘরেও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে শুরু করে।
রক্ষক যখন ভক্ষক:
পুলিশ হলো বিপদের বন্ধু, আর ডাক্তার হলেন জীবন রক্ষাকারী। অথচ আমরা পুলিশে দেওয়ার বা ইনজেকশন দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বাচ্চাদের মনে এদের প্রতি একটা স্থায়ী আতঙ্ক তৈরি করে ফেলি। ফলে ভবিষ্যতে সত্যিই কোনো বিপদে পড়লে বাচ্চা এদের কাছে যেতে বা সাহায্য চাইতে ভয় পায়।
আমি জানি, ক্লান্ত শরীরে বাচ্চার জেদ সামলানো ভীষণ কঠিন। রুশদানও যখন খেতে বা ঘুমাতে চায় না, আমারও মাথা গরম হয়ে যায়। কিন্তু আমি ওকে কখনো ভয় দেখাই না। আমি হয়তো বলি, “তুমি না খেলে তোমার পেটের ব্যাটারি তো শেষ হয়ে যাবে, কাল গাড়ি চালাবে কীভাবে?” অথবা ঘুমের সময় বলি, “চলো, আমরা চোখ বন্ধ করে পরীদের দেশে যাওয়ার গল্প বানাই।”
আপনার বাচ্চাকে কন্ট্রোল করার জন্য ভয়ের দরকার নেই, দরকার একটু বুদ্ধি আর ভালোবাসার। আমরা তো চাই আমাদের বাচ্চারা সাহসী হয়ে বড় হোক, তাই না? তাহলে ওদের মনে ছোটবেলা থেকেই এই ভয়ের বীজ কেন বুনব?
আপনার বাচ্চাকে খাওRushdan ঘুম পাড়াতে আপনি কোন ট্রিকস খাটান?
রুশদানের জন্য যা বানাই, ঠিক সেটাই আপনার বাবুর জন্য — ঘরে বানানো, নো প্রিজারভেটিভ, সাদা চিনি ছাড়া।
আরও গল্প পড়ুন

গায়ে হাত না তুলে বাচ্চাকে শাসন করবেন কীভাবে?
রুশদান ইদানীং একটা নতুন কাহিনী করে। পানি খেতে গিয়ে অর্ধেকটা খাবে, আর বাকি অর্ধেকটা ইচ্ছা করে ফ্লোরে ফেলে দেবে। তারপর ওই পানির মধ্যে ছপছপ করে পা ফেলবে আর খিলখিল করে হাসবে!
পুরো গল্পটা পড়ুন →
বাইরে গেলে বাচ্চা কেন চুপ হয়ে যায়?
Rushdan-কে বাসার বাইরে নিয়ে গেলে একটা অদ্ভুত জিনিস হয়। ঘরে যে ছেলে আমার পেছনে পেছনে ঘোরে, বাইরে গেলে সে আলাদা মানুষ। দৌড়ায়, লাফ দেয়, পিঁপড়ে দেখলে বসে পড়ে, পাখি দেখলে থামে, মাটিতে…
পুরো গল্পটা পড়ুন →
“আমি যা বলছি তাই হবে!” — এই শাসন কতটা ঠিক?
"আমি যা বলছি তাই হবে! তুমি আমার কথা মানতে বাধ্য!" বাচ্চারা যখন একটু বেশি জেদ করে বা দুষ্টুমি করে, তখন আমরা হয়তো রেগে গিয়ে এমন কথা বলেই ফেলি।
পুরো গল্পটা পড়ুন →