
ধরুন, আপনি রাগে গিজগিজ করছেন। ছেলে সারা ঘর খেলনা দিয়ে ময়লার ভাগাড় বানিয়েছে, কিংবা টানা এক ঘণ্টা ধরে ফোনে কার্টুন দেখছে। আপনি আর সহ্য করতে না পেরে দিলেন এক ধমক— “ফোনটা রাখবে নাকি আমি আছাড় মারব?”
ব্যস, ছেলের ঠোঁট উল্টে গেল। চোখ দিয়ে টপটপ করে দুই ফোঁটা কুমিরের কান্না পড়া শুরু হতেই কোত্থেকে যেন বাবা নামের ‘সুপারম্যান’ হাজির! এসে বাচ্চাকে কোলে তুলে নিয়ে আপনার দিকে এমন এক বিরক্তির দৃষ্টি দিলেন যেন আপনি পৃথিবীর সবচেয়ে পাষাণ মা। গদগদ গলায় বললেন, “আহা, ধমকাও কেন ছেলেটাকে? বাচ্চা মানুষ, একটু দেখছেই তো! থাক বাবা, মা পচা। চলো আমরা অন্য রুমে যাই।”
খেয়াল করে দেখবেন, ঠিক তখন বাবার কাঁধে মাথা রেখে ছেলে আপনার দিকে তাকিয়ে একটা মিটিমিটি হাসি দেয়। হাসিটার মানে হলো— “দেখলে তো, আমার বস আছে!”
আমাদের মনে হয়, আহা, বাপ-ছেলের কী ভালোবাসা! কিন্তু বিশ্বাস করুন, ঠিক এই মুহূর্তটায় আমরা নিজেদের অজান্তেই বাচ্চার হাতে একটা ভয়ংকর অস্ত্র তুলে দিচ্ছি।
বাচ্চাদের ব্রেন কিন্তু অসম্ভব শার্প। ওরা এক সেকেন্ডে বুঝে যায়, মা আর বাবা এক দলে নেই। ওরা খুব সুন্দর করে আমাদের ম্যানিপুলেট করতে শেখে। মায়ের কাছে ‘না’ শুনলে সোজা বাবার কাছে গিয়ে ঘ্যানঘ্যান করে ‘হ্যাঁ’ আদায় করে নেয়। এতে বাচ্চার কাছে মায়ের কথার ওজন একেবারে জিরো হয়ে যায়। সে ধরে নেয়— “মায়ের কথার তো কোনো দামই নেই, বাবাকে দিয়ে সব ম্যানেজ করা যায়!”
এই মহা বিপদ থেকে বাঁচতে আমি আর রুশদানের বাবা এখন একটা কড়া গোপন চুক্তি করেছি। আমাদের নিয়ম হলো— বাচ্চার সামনে আমরা একদম সলিড একটা ‘টিম’। আমি যদি রুশদানকে কোনো কারণে বকা দিই, ওর বাবা তখন ভুলেও আমার কথার ওপর দিয়ে গিয়ে ওকে আদর করবেন না। উনিও গম্ভীর মুখে বলেন, “মা তো ঠিকই বলেছে। তোমার কাজটা একদম পচা হয়েছে। স্যরি বলো।”
প্যারেন্টিং নিয়ে আমাদের দুজনের মধ্যে মতের অমিল হতেই পারে। হয়তো আমার বকা দেওয়াটা ওর বাবার একটুও পছন্দ হয়নি। তার হয়তো মনে হয়েছে আমি বেশি রিয়্যাক্ট করে ফেলেছি। কিন্তু সেই ঝগড়াটা বাচ্চার সামনে হবে না। রুশদান ঘুমানোর পর, ঘরের দরজা আটকে তিনি আমাকে বলবেন, “আজকে কিন্তু তুমি ছেলেকে একটু বেশিই বকেছ!”
অর্থাৎ, বাচ্চার সামনে আমরা কখনোই একে অপরের ভুল ধরি না বা তর্ক করি না।
বাচ্চা বড় করার এই জার্নিতে মা-বাবাকে এক দলে খেলতেই হবে, নইলে গোলটা কিন্তু আপনার নিজের পোস্টেই হবে!
আপনাদের বাসায় কী অবস্থা? ‘গুড কপ’ আর ‘ব্যাড কপ’-এর ডিউটি কে কে পালন করছেন?
Follow করুন Parenting পেজ- Rushdan
বাচ্চাদের নিয়ে আড্ডা দিতে জয়েন করুনঃ Rushdan Parenting Club
রুশদানের জন্য যা বানাই, ঠিক সেটাই আপনার বাবুর জন্য — ঘরে বানানো, নো প্রিজারভেটিভ, সাদা চিনি ছাড়া।
আরও গল্প পড়ুন

আদর আর আবদারের পার্থক্য না বুঝলেই বিপদ
Rushdan একদিন দোকানে গিয়ে একটা খেলনা চাইল। আমি বললাম, "না।"
পুরো গল্পটা পড়ুন →
রাত ১১টা, তবুও বাচ্চা ঘুমাতে চায় না
রাত ১১টা বাজে। আপনার সারাদিনের এনার্জি শেষ, চোখ ঘুমে বন্ধ হয়ে আসছে। কিন্তু আপনার বাচ্চার দিকে তাকিয়ে দেখলেন, সে ফুল চার্জড একটা ব্যাটারির মতো সারা ঘর দৌড়ে বেড়াচ্ছে! খেলনা নিয়ে খেলছে,…
পুরো গল্পটা পড়ুন →
বাচ্চা শুধু গরুর দুধই খেতে চায়?
"বাচ্চা তো অন্য কিছুই খেতে চায় না, শুধু গরুর দুধটাই একটু খায়। আমি তাই বারবার ফিডার বা গ্লাসে করে দুধই দিই। সুজির সাথে দেই, ফিরনির সাথে একটু দেই। অন্তত পেট তো ভরছে আর পুষ্টিটাও পাচ্ছে!"
পুরো গল্পটা পড়ুন →