প্রতিদিন আমার পেইজে কতশত কমেন্ট মেসেজ আসে। কিন্তু কিছু কিছু মেসেজ বা কমেন্ট দেখলে আমি রীতিমতো থমকে যাই। মনে হয়, পর্দার ওপাশ থেকে কোনো একজন মা তার বুকের ভেতরের সবটুকু চাপা কষ্ট ঢেলে দিয়েছেন।
আজ তেমনই একটা কমেন্ট আপনাদের সাথে শেয়ার করছি (ছবিতে)। আপু লিখেছেন— “আমি আমার বাচ্চার গায়ে যখন-তখন হাত তুলি, বকা দিই। ওর ওপর আমার এত রাগ, ক্ষোভ কেন? আমি কি দিন দিন পাগল হয়ে যাচ্ছি? কোনো কারণ ছাড়াই হুটহাট মেজাজ গরম হয়, তাও আবার আমার আদরের সন্তানের ওপর!”
আপনি সাইকো না। আপনি পাগলও হয়ে যাচ্ছন না।
মা হওয়ার পর ঘুম নেই, শরীর ক্লান্ত, মানসিক চাপ প্রচুর। এই অবস্থায় মস্তিষ্কে যে হরমোনগুলো রাগ নিয়ন্ত্রণ করে, সেগুলো ঠিকমতো কাজ করে না। ফলে সহনশীলতা কমে যায়, ছোট জিনিসেও রাগ উঠে যায়।
এটাকে বলা হয় “Mom Rage” — এখন এটা নিয়ে অনেক গবেষণা হচ্ছে। এবং এটা কোনো বিরল ঘটনা না। বেশিরভাগ মা-ই এটা অনুভব করেন, কিন্তু বলেন না। কারণ সমাজ শেখায় — মা মানে সবসময় শান্ত, ধৈর্যশীল, ভালোবাসাময়।
বাস্তবে মা-ও মানুষ। ক্লান্ত মানুষ। ঘুম না হওয়া মানুষ।
কিন্তু বাচ্চার গায়ে হাত তোলা কি ঠিক আছে?
না। এবং এটা স্বীকার করাটাই প্রথম সাহসের কাজ। যে মা লিখেছেন উনি নিজে বুঝতে পারছেন এটা ঠিক না, এবং সাহায্য খুঁজছেন — এটাই সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ।
গায়ে হাত তোলা বাচ্চার শারীরিক ব্যথার চেয়ে বেশি ক্ষতি করে মানসিকভাবে। কিন্তু এই আচরণ বদলাতে হলে প্রথমে বুঝতে হবে — এটা মায়ের চরিত্রের সমস্যা না, এটা ক্লান্তি আর চাপের বহিঃপ্রকাশ।
তাহলে কী করবেন?
রাগ ওঠার মুহূর্তে বাচ্চা থেকে একটু দূরে সরে যান। এক মিনিট নিজেকে সামলান, তারপর ফিরে আসুন।
ঘুম আর বিশ্রামের ব্যবস্থা করুন। শরীর ক্লান্ত থাকলে মস্তিষ্ক রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। একা সব সামলানোর চেষ্টা করবেন না। পরিবারের কাছে সাহায্য চান।
আর সবচেয়ে জরুরি — এই অনুভূতি নিয়ে চুপ থাকবেন না। কাছের কাউকে বলুন। প্রয়োজনে একজন মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলুন।
যে মায়েরা এই লেখাটা পড়ে নিজেকে খুঁজে পাচ্ছেন — আপনি কিন্তু একা না।
এটা আপনার দোষ না। কিন্তু এটা নিয়ে কথা বলাটা আপনার দায়িত্ব, নিজের জন্য আর আপনার সন্তানের জন্য।
সাহায্য চাওয়া দুর্বলতা না। এটাই সবচেয়ে বড় মাতৃত্ব।
রুশদানের জন্য যা বানাই, ঠিক সেটাই আপনার বাবুর জন্য — ঘরে বানানো, নো প্রিজারভেটিভ, সাদা চিনি ছাড়া।
আরও গল্প পড়ুন

রুশদানের প্রথম মাসগুলো আর নির্ঘুম রাত
রুশদানের প্রথম কয়েকটা মাস আমার জন্য ছিল এক দুঃস্বপ্নের মতো। ওর ঘুমের কোনো নির্দিষ্ট রুটিন ছিল না। দিনের বেলা কুম্ভকর্ণের মতো ঘুমাতো, আর রাত হলেই ওর চোখ ড্যাবড্যাব করে জ্বলে উঠতো! আমি…
পুরো গল্পটা পড়ুন →
রাগের মাথায় বকার আগে একটু থামুন
ধরুন, আপনি রাগে গিজগিজ করছেন। ছেলে সারা ঘর খেলনা দিয়ে ময়লার ভাগাড় বানিয়েছে, কিংবা টানা এক ঘণ্টা ধরে ফোনে কার্টুন দেখছে। আপনি আর সহ্য করতে না পেরে দিলেন এক ধমক— "ফোনটা রাখবে নাকি আমি…
পুরো গল্পটা পড়ুন →
আদর আর আবদারের পার্থক্য না বুঝলেই বিপদ
Rushdan একদিন দোকানে গিয়ে একটা খেলনা চাইল। আমি বললাম, "না।"
পুরো গল্পটা পড়ুন →