
রাত ১১টা বাজে। আপনার সারাদিনের এনার্জি শেষ, চোখ ঘুমে বন্ধ হয়ে আসছে। কিন্তু আপনার বাচ্চার দিকে তাকিয়ে দেখলেন, সে ফুল চার্জড একটা ব্যাটারির মতো সারা ঘর দৌড়ে বেড়াচ্ছে! খেলনা নিয়ে খেলছে, বা আপনার সাথে গল্প জুড়ে দিয়েছে।
আমাদের এখনকার ব্যস্ত জীবনে এটা খুব চেনা একটা দৃশ্য। বাবা-মা কাজ শেষ করে ফিরতে ফিরতে রাত হয়, এরপর বাচ্চার সাথে একটু সময় কাটাতে গিয়ে ওর ঘুমাতে ঘুমাতে বেজে যায় রাত ১২টা বা ১টা। আমরা অনেকেই ভাবি, “ক্ষতি কী? রাতে দেরিতে ঘুমালে সকালে তো দেরিতেই উঠছে। ঘুমের হিসাব তো সমানই হলো!”
কিন্তু গবেষণা বলছে একদম অন্য কথা। ঘুমের ‘পরিমাণ’ যেমন জরুরি, ঘুমের ‘সময়’ তার চেয়েও অনেক বেশি জরুরি। রাতে দেরিতে ঘুমানো বাচ্চার শারীরিক ও মানসিক বিকাশে যে কী মারাত্মক প্রভাব ফেলে, তা শুনলে আপনি হয়তো আজ থেকেই রুটিন বদলাতে চাইবেন।
সবচেয়ে বড় ক্ষতিটা হয় বাচ্চার শারীরিক বৃদ্ধিতে।
আমাদের শরীরে ‘গ্রোথ হরমোন’—যা বাচ্চাকে লম্বা ও বড় হতে সাহায্য করে—তা সবচেয়ে বেশি নিঃসৃত হয় রাত ১০টা থেকে রাত ২টার মধ্যে।
কিন্তু শর্ত হলো, এই সময় বাচ্চাকে গভীর ঘুমে থাকতে হবে। বাচ্চা যদি রাত ১২টায় ঘুমায়, তবে সে এই হরমোন নিঃসরণের সবচেয়ে দামি সময়টা মিস করে ফেলে। ফলে বাচ্চার শারীরিক বৃদ্ধি বা গঠন বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
শুধু শরীর নয়, ব্রেনের ওপরও এর বড় প্রভাব পড়ে।
সারাদিন বাচ্চা যা কিছু দেখে বা শেখে, গভীর ঘুমের সময় ব্রেন সেগুলোকে স্মৃতিতে সেভ করে। দেরিতে ঘুমালে ব্রেনের এই প্রসেসিং ক্ষমতা কমে যায়।
খেয়াল করে দেখবেন, যে বাচ্চা রাতে দেরিতে ঘুমায়, পরের দিন সে অকারণে ঘ্যানঘ্যান করে, মেজাজ খিটখিটে থাকে এবং অতিরিক্ত জেদ করে। কারণ তার স্নায়ুগুলো ঠিকমতো বিশ্রাম পায়নি। এর পাশাপাশি, দেরিতে ঘুমানোর কারণে বাচ্চার শরীরে স্ট্রেস হরমোন বেড়ে যায়, যা তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। ফলে আবহাওয়া একটু বদলালেই এসব বাচ্চা দ্রুত সর্দি-জ্বরে আক্রান্ত হয়।
রুশদানকেও একটা সময় তাড়াতাড়ি ঘুম পাড়ানো আমার জন্য রীতিমতো যুদ্ধ ছিল। কিন্তু আমি রুটিনে কিছু বদল আনি। রাত ৯টার পর ঘরে টিভি বা মোবাইল একদম বন্ধ করে দিই। কারণ স্ক্রিনের আলো ঘুমের হরমোন নষ্ট করে দেয়।
ঘরের মূল লাইট বন্ধ করে ডিম লাইট জ্বালিয়ে পরিবেশটা শান্ত করে ফেলি। আর সবচেয়ে জরুরি হলো, ওকে নিয়ে আমি নিজেও শুয়ে পড়ি। আমি যদি মোবাইল চাপি বা গল্প করি, ও কখনোই ঘুমাবে না।
দেরিতে ঘুমানোর এই অভ্যাসটা একদিনে বদলাবে না, সময় লাগবে। কিন্তু বাচ্চার সুস্থ ভবিষ্যতের জন্য এই রুটিনটা ঠিক করা খুব জরুরি।
রুশদানের জন্য যা বানাই, ঠিক সেটাই আপনার বাবুর জন্য — ঘরে বানানো, নো প্রিজারভেটিভ, সাদা চিনি ছাড়া।
আরও গল্প পড়ুন

বাচ্চা শুধু গরুর দুধই খেতে চায়?
"বাচ্চা তো অন্য কিছুই খেতে চায় না, শুধু গরুর দুধটাই একটু খায়। আমি তাই বারবার ফিডার বা গ্লাসে করে দুধই দিই। সুজির সাথে দেই, ফিরনির সাথে একটু দেই। অন্তত পেট তো ভরছে আর পুষ্টিটাও পাচ্ছে!"
পুরো গল্পটা পড়ুন →
বাইরে গেলে বাচ্চা কেন চুপ হয়ে যায়?
Rushdan-কে বাসার বাইরে নিয়ে গেলে একটা অদ্ভুত জিনিস হয়। ঘরে যে ছেলে আমার পেছনে পেছনে ঘোরে, বাইরে গেলে সে আলাদা মানুষ। দৌড়ায়, লাফ দেয়, পিঁপড়ে দেখলে বসে পড়ে, পাখি দেখলে থামে, মাটিতে…
পুরো গল্পটা পড়ুন →
ছোটবেলায় সবাই মিলে খাওয়ার সেই দিনগুলো
ছোটবেলার কিছু স্মৃতি থাকে, যেগুলো মনে পড়লে ভেতরটা কেমন যেন অদ্ভুত একটা শান্তিতে ভরে যায়। আমার এখনো খুব স্পষ্ট মনে আছে, আমরা যখন ছোট ছিলাম, তখন আমাদের বাড়িতে খাওয়ার নিয়মটা ছিল একদম অন্যরকম।
পুরো গল্পটা পড়ুন →