
প্রিয় নতুন মায়েরা,
মাতৃত্বের এই নতুন পথচলায় আপনাদের সবাইকে অভিনন্দন!
আমি জানি, এই সময়টা কতটা আনন্দের, আবার একই সাথে কতটা চ্যালেঞ্জিং। ছোট্ট সোনামণিকে নিয়ে সারাদিন হাজারো চিন্তা, অসংখ্য প্রশ্ন – আমি কি সব ঠিকঠাক করছি? রুশদানের জন্মের পর আমারও ঠিক একই অনুভূতি হতো।
নতুন মা হিসেবে আমরা অনেক সময় না জেনেই বা প্রচলিত ভুল ধারণার বশবর্তী হয়ে এমন কিছু কাজ করে ফেলি, যা আমাদের বাচ্চাদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। আজ তেমনই কিছু সাধারণ ভুল নিয়ে আলোচনা করবো, যা এড়িয়ে চললে আমাদের বাচ্চাদের বেড়ে ওঠা হবে আরও নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর।
১. দুধ খাওয়ানোর সময় সতর্কতা:
শুয়ে দুধ খাওয়ানো:
শুয়ে শুয়ে বাচ্চাকে বুকের দুধ বা ফিডারে দুধ খাওয়াবেন না। এতে দুধ বাচ্চার কানে ঢুকে ইনফেকশন (Ear Infection) হতে পারে অথবা গলায় আটকে গিয়ে বিপদ হতে পারে। সবসময় পা থেকে মাথাটা একটু উঁচু রেখে খাওয়ান।
মোবাইল চালাবেন না:
দুধ খাওয়ানোর সময় মোবাইল চালানো বা অন্য কাজ করা থেকে বিরত থাকুন। এই সময়টা আপনার ও বাচ্চার বন্ধন তৈরির জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। আপনার মনোযোগ বাচ্চার দিকে থাকলে সে নিরাপদ বোধ করে এবং আপনিও বুঝতে পারবেন সে ঠিকমতো খাচ্ছে কিনা।
২. শিশুর ত্বকের যত্নে ভুল:
চোখে কাজল দেওয়া:
এটি একটি বহুল প্রচলিত ভুল ধারণা। কাজলে থাকা লেড ও অন্যান্য রাসায়নিক বাচ্চার চোখের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এতে ইনফেকশন, অ্যালার্জি এমনকি দৃষ্টিশক্তিও নষ্ট হতে পারে।
সরিষার তেল মাখানো:
সরিষার তেল বেশ ঘন এবং অনেক বাচ্চার নরম ত্বকের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে। এতে র্যাশ, চুলকানি বা ত্বকের লোমকূপ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। বাচ্চার জন্য অলিভ অয়েল, নারকেল তেল বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বেবি অয়েল ব্যবহার করা নিরাপদ।
পাউডার ব্যবহার:
ট্যালকম পাউডারের ছোট ছোট কণা বাচ্চার শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে ফুসফুসে ঢুকে মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। বাচ্চার ত্বক শুকনো রাখতে ডায়াপার র্যাশ ক্রিম বা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী নিরাপদ কোনো অয়েন্টমেন্ট ব্যবহার করুন।
৩. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় যা খেয়াল রাখবেন:
জিহ্বা পরিষ্কার না করা:
দুধ খাওয়ার পর বাচ্চার জিহ্বায় দুধের সাদা আস্তরণ জমে ছত্রাকের (Oral Thrush) সংক্রমণ হতে পারে। তাই প্রতিদিন পরিষ্কার, নরম, ভেজা কাপড় বা গজ দিয়ে আলতো করে শিশুর জিহ্বা ও মাড়ি পরিষ্কার করে দিন।
ভুল তাপমাত্রার পানিতে গোসল:
অতিরিক্ত ঠান্ডা বা খুব গরম পানি বাচ্চার নরম ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। সবসময় কুসুম গরম পানি ব্যবহার করুন। পানি দেওয়ার আগে নিজের কনুই দিয়ে তাপমাত্রা পরীক্ষা করে নিন।
৪. অন্যান্য প্রচলিত ভুল:
কপালে টিপ দেওয়া:
টিপের আঠায় থাকা কেমিক্যাল বাচ্চার ত্বকে র্যাশ বা অ্যালার্জির কারণ হতে পারে। অনেক সময় বাচ্চা হাত দিয়ে টিপ তুলে মুখে দিয়ে ফেলতে পারে, যা বিপদজনক।
অতিরিক্ত ডায়াপার পরিয়ে রাখা:
বেশিক্ষণ ভেজা ডায়াপার পরিয়ে রাখলে র্যাশ বা ইনফেকশন হয়। নিয়মিত ডায়াপার চেক করুন এবং প্রয়োজন হলেই পাল্টে দিন। কিছুক্ষণ ডায়াপার ছাড়াও রাখুন।
অপ্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিক:
সামান্য সর্দি-কাশিতে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বাচ্চাকে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়াবেন না। এতে ওর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।
নতুন মা হিসেবে ভুল হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। আমরা কেউই সবকিছু জেনে জন্মাই না, ঠেকে ঠেকেই শিখি। উদ্দেশ্য হলো, সঠিক তথ্য জেনে আমাদের বাচ্চাদের জন্য সেরাটা নিশ্চিত করা।
এই বিষয়গুলো নিয়ে আপনাদের কোনো অভিজ্ঞতা বা প্রশ্ন থাকলে কমেন্টে জানাতে পারেন। আসুন, একে অপরের কাছ থেকে শিখি এবং আমাদের মাতৃত্বের যাত্রাকে আরও সুন্দর করে তুলি।
নতুন মা হয়েছেন কে কে?
ফলো করুন আপনাদের নতুন পেইজ- Rushdan Baby Shop
বাচ্চা কাচ্চা নিয়ে আড্ডা দিতে জয়েন করুন- Rushdan Parenting Club
রুশদানের জন্য যা বানাই, ঠিক সেটাই আপনার বাবুর জন্য — ঘরে বানানো, নো প্রিজারভেটিভ, সাদা চিনি ছাড়া।
আরও গল্প পড়ুন

ঘ্যান ঘ্যান করা বাচ্চাকে সামলাবেন কীভাবে?
রুশদান রাগ করলে মাটিতে গড়াগড়ি দেয় না। সে করে অন্য কিছু — একটানা ঘ্যান ঘ্যান। এমন একটা সুর যেটা কানে ঢুকলে মাথা থেকে আর বের হয় না। প্রথম পাঁচ মিনিট সামলাই, দশ মিনিটে একটু কঠিন হয়,…
পুরো গল্পটা পড়ুন →
যে খাবারে রাতে বাচ্চার ঘুম ভেঙে যায়
গতদিনের লেখায় আপনাদের বলেছিলাম রাতে কোন খাবারগুলো দিলে বাচ্চারা ম্যাজিকের মতো শান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। আজ বলব ঠিক উল্টো কথা। এমন কিছু খাবার আছে, যেগুলো বাচ্চার পেটে যাওয়া মাত্রই ওদের…
পুরো গল্পটা পড়ুন →
দুই বছর না পেরোতেই ইউটিউব: স্ক্রিন থেকে ফেরার গল্প
রুশদানের বয়স তখন ২ বছরও পার হয়নি তখন। একদিন আমার ফোন নিয়ে নিজেই ইউটিউব খুলে ফেলল। আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম। মনে মনে একটু গর্বও হলো — আহা, কত চালাক! কিন্তু পরে যখন বুঝতে পারলাম এটা…
পুরো গল্পটা পড়ুন →