
Rushdan হওয়ার কিছুদিন পর একটা অদ্ভুত জিনিস হয়েছিল।
সব ঠিকঠাক ছিল। সুস্থ বাচ্চা, পাশে রুশদানের বাবা, পরিবার আছে। কিন্তু রাতে ব্রেষ্ট ফিডিংয়ের সময় হঠাৎ চোখ ভিজে যেত। কোনো কারণ নেই। কেউ কিছু বলেনি, কেউ কষ্ট দেয়নি। শুধু চোখ দিয়ে পানি পড়ছে।
নিজেই নিজেকে বলতাম — “কী হচ্ছে আমার? এত সুন্দর একটা বাচ্চা পেয়েছি, কাঁদছি কেন?”
কাউকে বলিনি। মনে হয়েছিল বললে ভুল বুঝবে।
এই অনুভূতিটার একটা নাম আছে।
বাচ্চা হওয়ার পর অনেক মা এই অদ্ভুত কান্না, ক্লান্তি, শূন্যতা অনুভব করেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানে এটাকে বলে Postpartum Depression বা PPD।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ৫ জন নতুন মায়ের মধ্যে ১ জন Postpartum Depression-এ ভোগেন। কিন্তু বাংলাদেশে এই সংখ্যা আরো বেশি বলে ধারণা করা হয় — কারণ বেশিরভাগ মা চুপ করে থাকেন।
লজ্জায়, ভয়ে, অথবা নিজেই বুঝতে পারেন না।
Baby Blues আর Postpartum Depression — দুটো কিন্তু আলাদা।
বাচ্চা হওয়ার পর প্রথম দুই সপ্তাহ অনেক মায়ের মেজাজ ওঠানামা করে, কান্না আসে, অস্থির লাগে। এটাকে বলে Baby Blues। হরমোনের হঠাৎ পরিবর্তনের কারণে হয়। এটা স্বাভাবিক এবং সাধারণত দুই সপ্তাহের মধ্যে ঠিক হয়ে যায়।
কিন্তু দুই সপ্তাহের পরেও যদি থাকে — তাহলে সেটা PPD।
PPD-র লক্ষণগুলো হলো কারণ ছাড়া কান্না, বাচ্চার প্রতি আগ্রহ না লাগা, নিজেকে খারাপ মা মনে হওয়া, ঘুম না হওয়া বা বেশি ঘুমানো, কিছুতে ভালো না লাগা, সবকিছু থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া।
এগুলো দুর্বলতার লক্ষণ না। এগুলো অসুস্থতার লক্ষণ।
কেন হয়?
বাচ্চা হওয়ার পর শরীরে ইস্ট্রোজেন আর প্রোজেস্টেরন হরমোন হঠাৎ করে অনেক কমে যায়। মস্তিষ্কে সেরোটোনিন — যেটা ভালো লাগার হরমোন — সেটাও ব্যালেন্স হারায়। পাশাপাশি ঘুম নেই, শরীর দুর্বল, নতুন দায়িত্বের চাপ — সব মিলিয়ে মস্তিষ্ক একটা ধাক্কা খায়।
এটা মায়ের দোষ না। শরীরের ভেতরে যা হচ্ছে তার বাইরের প্রকাশ।
বাংলাদেশের মায়েরা কেন বলেন না?
কারণ আমাদের সমাজে মা মানে সর্বংসহা। মা কষ্ট পেলেও হাসবে, ক্লান্ত হলেও সামলাবে, ভেঙে পড়লেও কাউকে বুঝতে দেবে না।
“বাচ্চা হয়েছে, এখন কীসের কষ্ট?” — এই একটা কথার ভয়ে হাজারো মা চুপ করে থাকেন।
আর চুপ করে থাকতে থাকতে ভেতরে ভেতরে আরো ডুবে যান।
যদি এই লক্ষণগুলো চেনা লাগে —
তাহলে কাছের মানুষকে বলুন। হাজবেন্ড কে বলুন। বান্ধবীকে বলুন। প্রয়োজনে ডাক্তারের কাছে যান।
PPD চিকিৎসাযোগ্য। কাউন্সেলিং, সাপোর্ট আর প্রয়োজনে ওষুধে অনেক মা সম্পূর্ণ সুস্থ হয়েছেন।
সাহায্য নেওয়া দুর্বলতা না। সাহায্য নেওয়াটাই সবচেয়ে সাহসী কাজ।
Rushdan-এর মা হওয়া আমার জীবনের সেরা ঘটনা।
কিন্তু সেই প্রথম কয়েক সপ্তাহের রাতের কান্নাগুলোও সত্যি ছিল। দুটো একসাথে সত্যি হতে পারে।
ভালো মা হওয়া মানে কখনো কষ্ট না পাওয়া না। ভালো মা হওয়া মানে কষ্টের মধ্যেও টিকে থাকা।
আপনি টিকে আছেন। এটাই যথেষ্ট।
রুশদানের জন্য যা বানাই, ঠিক সেটাই আপনার বাবুর জন্য — ঘরে বানানো, নো প্রিজারভেটিভ, সাদা চিনি ছাড়া।
আরও গল্প পড়ুন

রাতে কী খাওয়ালে বাচ্চা দ্রুত গভীর ঘুমে তলিয়ে যায়?
ঘড়ির কাঁটা ১১টা পার হয়েছে। আপনি হাই তুলতে তুলতে চোখের পাতা খুলে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন, আর আপনার? সে ফুল চার্জড একটা ব্যাটারির মতো বিছানায় লাফাচ্ছে! আপনি বলছেন, "বাবা ঘুমাও," আর সে…
পুরো গল্পটা পড়ুন →
বাচ্চার জন্য রুটিন কেন এত জরুরি?
আপনার বাচ্চা কখনো সকালে নাস্তা করে আটটায়, কখনো নয়টা আবার কখনো ১০ টায়। কখনো দুপুরে ঘুম, কখনো নেই। রাতে ঘুমানোর সময়ও ঠিক নাই — কোনোদিন নয়টা, কোনোদিন এগারোটা বা বারোটা।
পুরো গল্পটা পড়ুন →
বাচ্চার রাগী স্বভাবের পেছনে আসল কারণ
আপনার বাচ্চার রাগী স্বভাবের পেছনে আসল অপরাধী কে জানেন? কথাটা শুনতে একটু তেতো লাগবে। কিন্তু সত্যিটা হলো, আমরা মাঝে মাঝেই এমন কিছু কাজ করে ফেলি, যা আমাদের অজান্তেই বাচ্চাদের রাগী আর জেদি…
পুরো গল্পটা পড়ুন →