
বাচ্চার প্রস্রাবের রঙ বা পরিমাণ নিয়ে কি কখনও ভেবেছেন? ছোট্ট এই বিষয়টি কিন্তু ওর স্বাস্থ্য সম্পর্কে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে, বিশেষ করে ও পর্যাপ্ত দুধ বা পানি পাচ্ছে কিনা তা বোঝার জন্য এটি একটি সহজ উপায়।
আসুন, আজ শিশুর প্রস্রাব নিয়ে কিছু জরুরি বিষয় জেনে নিই।
শিশুর প্রস্রাবের স্বাভাবিক অবস্থা:
স্বাভাবিক রঙ:
সাধারণত হালকা হলুদ বা প্রায় বর্ণহীন (সাদা পানির মতো) হয়। এটি নির্দেশ করে যে শিশু পর্যাপ্ত তরল (বুকের দুধ বা পানি) পাচ্ছে এবং তার শরীর হাইড্রেটেড আছে।
পরিমাণ:
একটি সুস্থ নবজাতক দিনে কমপক্ষে ৬-৮ বার প্রস্রাব করে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে এই সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে। নিয়মিত ভেজা ডায়াপার পাওয়ার মানে হলো, সে ঠিকমতো ও পর্যাপ্ত পরিমাণে খাচ্ছে।
গন্ধ:
স্বাভাবিক প্রস্রাবে হালকা বা প্রায় কোনো গন্ধই থাকে না।
কখন একটু সতর্ক হবেন বা চিন্তার কারণ হতে পারে?
১. গাঢ় হলুদ রঙ:
* কারণ: এটি পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশনের প্রথম লক্ষণ। এর মানে হলো, শিশু তার প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত তরল পাচ্ছে না। গরমকালে বা শিশুর জ্বর থাকলে এমনটা হতে পারে।
* করণীয়: শিশুকে আরও বেশি করে বুকের দুধ/ফর্মুলা বা পানি (বয়স অনুযায়ী) খাওয়ান।
২. কম পরিমাণে প্রস্রাব:
* কারণ:
যদি দেখেন শিশু ২৪ ঘণ্টায় ৬ বারের কম ডায়াপার ভেজাচ্ছে বা প্রস্রাবের পরিমাণ হঠাৎ খুব কমে গেছে, তাহলে বুঝতে হবে সে যথেষ্ট তরল পাচ্ছে না।
* করণীয়:
দ্রুত ডাক্তারের সাথে কথা বলুন, বিশেষ করে যদি এর সাথে শিশু নিস্তেজ থাকে বা খেতে না চায়।
৩. লালচে বা গোলাপি আভা:
* কারণ:
অনেক সময় প্রস্রাব খুব ঘন হলে ইউরেট ক্রিস্টাল (Urate Crystals) বেরিয়ে আসে, যা দেখতে ইটের গুঁড়োর মতো লালচে বা গোলাপি হয়। এটি সাধারণত নবজাতকদের ক্ষেত্রে ডিহাইড্রেশনের কারণে হতে পারে।
* করণীয়:
শিশুকে বেশি করে খাওয়ান। তবে, যদি প্রস্রাবে রক্তের মতো লাল ছোপ দেখেন, তাহলে দেরি না করে অবশ্যই ডাক্তার দেখান।
৪. তীব্র বা বাজে গন্ধ:
* কারণ:
প্রস্রাবে তীব্র বা অস্বাভাবিক দুর্গন্ধ ইউরিন ইনফেকশন (Urinary Tract Infection – UTI) এর লক্ষণ হতে পারে।
* করণীয়:
যদি এর সাথে জ্বর বা প্রস্রাবের সময় কান্নাকাটির মতো লক্ষণ থাকে, তাহলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
শেষ কথা:
শিশুর ডায়াপার আপনাকে ওর স্বাস্থ্য সম্পর্কে অনেক কিছুই বলতে পারে। তাই ডায়াপার বদলানোর সময় রঙ ও পরিমাণের দিকে একটু খেয়াল রাখুন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পর্যাপ্ত পরিমাণে খাওয়ালে প্রস্রাব স্বাভাবিক থাকে। তবে কোনো অস্বাভাবিকতা দেখলে বা মনে কোনো সন্দেহ জাগলে দ্বিধা না করে আপনার শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলাই সবচেয়ে নিরাপদ।
রুশদানের জন্য যা বানাই, ঠিক সেটাই আপনার বাবুর জন্য — ঘরে বানানো, নো প্রিজারভেটিভ, সাদা চিনি ছাড়া।
আরও গল্প পড়ুন

চিপস দেখলে বাচ্চারা পাগল হয়ে যায় কেন?
চিপস দেখলে বাচ্চারা পাগল হয়ে যায় কেন — উত্তরটা জানলে অবাক হবেন। গতকাল রুশদান-কে নিয়ে বাইরে গিয়েছিলাম।
পুরো গল্পটা পড়ুন →
বাচ্চার রাগী স্বভাবের পেছনে আসল কারণ
আপনার বাচ্চার রাগী স্বভাবের পেছনে আসল অপরাধী কে জানেন? কথাটা শুনতে একটু তেতো লাগবে। কিন্তু সত্যিটা হলো, আমরা মাঝে মাঝেই এমন কিছু কাজ করে ফেলি, যা আমাদের অজান্তেই বাচ্চাদের রাগী আর জেদি…
পুরো গল্পটা পড়ুন →
মনোযোগ আর স্মৃতিশক্তির জন্য ওমেগা-৩
"আমার বাচ্চাটা তো এক জায়গায় দুই মিনিটও স্থির হয়ে বসে না! আর যা শেখাই, পরদিন সব ভুলে যায়!" মায়েদের মুখে এই অভিযোগটা খুব কমন। আমরা অনেক সময় ভাবি, পিচ্চিগুলো বোধহয় একটু বেশিই দুষ্টু বা…
পুরো গল্পটা পড়ুন →