
আপনার বাচ্চার রাগী স্বভাবের পেছনে আসল অপরাধী কে জানেন?
কথাটা শুনতে একটু তেতো লাগবে। কিন্তু সত্যিটা হলো, আমরা মাঝে মাঝেই এমন কিছু কাজ করে ফেলি, যা আমাদের অজান্তেই বাচ্চাদের রাগী আর জেদি বানিয়ে দিচ্ছে।
বাচ্চারা তো আসলে আয়নার মতো। ওরা আমাদের কথাগুলো ততটা শেখে না, যতটা আমাদের কাজগুলো শেখে। আপনি যখন স্ট্রেসে থাকেন, বিরক্ত হন, বা কোনো কারণে রেগে যান—তখন আপনি কীভাবে রিঅ্যাক্ট করেন, সেটাই ওরা স্পঞ্জের মতো শুষে নেয়।
আপনার ওই রিঅ্যাকশনগুলোই একসময় ওদের জীবনের ‘ব্লু-প্রিন্ট’ বা নিয়ম হয়ে দাঁড়ায়।
রুশদান যখন একটু একটু করে কথা বলতে আর জেদ করতে শিখল, তখন ওর কিছু আচরণ দেখে আমি বেশ অবাক হয়েছিলাম। ওর কাজগুলোর সাথে যখন সাইকোলজির ৩টি লক্ষণ মিলিয়ে দেখলাম, তখন আমার আক্ষরিক অর্থেই চোখ খুলে গিয়েছিল!
প্রথমত ছোটখাটো বিষয়েই চিৎকার করা:
হয়তো খেলনা নিয়ে একটু ঝামেলা হলো, আর আপনার বাচ্চা গলা ফাটিয়ে চিৎকার শুরু করল! কেন জানেন? কারণ সে তার ছোট্ট জীবনে এটাই শিখেছে যে, নিজের কথা কাউকে বোঝাতে হলে বা নিজের ইচ্ছেমতো কিছু না হলে—চিৎকার করাই হলো একমাত্র উপায়।
দ্বিতীয়ত দরজা ধড়াম করে বন্ধ করা বা জিনিস ছোঁড়া:
পছন্দের কিছু পেল না বা আপনি টিভি বন্ধ করে দিলেন, আর অমনি সে রাগে ফেটে পড়ল! দরজা সজোরে আটকাল বা ফ্লোরে ধুপধাপ পা ফেলে চলে গেল। এই যে ইমোশনাল বিস্ফোরণ, এটা কিন্তু আকাশ থেকে আসেনি। সে তার আশেপাশে কাউকে ঠিক এভাবেই তীব্র আবেগ প্রকাশ করতে দেখেছে এবং সেটাই কপি করছে।
তৃতীয়ত খুব কঠিন শব্দ ব্যবহার করা:
“তুমি পচা!”, “তুমি কথা শোনো না!”, “আমি তোমাকে একদম ভালোবাসি না!”—রাগের মাথায় বাচ্চার মুখ থেকে এই কথাগুলো শুনলে বুকের ভেতরটা কেমন যেন দুমড়েমুচড়ে যায়, তাই না? রুশদানের মুখে প্রথম যেদিন এমন কথা শুনেছিলাম, আমার বুকটা কেঁপে উঠেছিল। কিন্তু একটু শান্ত হয়ে ভেবে দেখলাম, যখন আমার নিজের ইমোশন খুব হাই থাকে বা আমি রেগে যাই, তখন আমিও কি ঠিক এমনই কোনো কঠিন শব্দ ব্যবহার করি না?
কথাগুলো গায়ে লাগছে, তাই না? আমার নিজেরও লেগেছিল।
কিন্তু, এই কথাগুলো আপনাকে গিল্ট ফিল বা অপরাধবোধে ভোগানোর জন্য বলছি না। এটা শুধু একটা রিয়েলাইজেশন। আপনার বাচ্চা কঠিন পরিস্থিতিগুলো কীভাবে হ্যান্ডেল করবে, সেটা সে শিখছে আপনাকে দেখে। আপনি যদি আজ এই প্যাটার্নটা না বদলান, তবে কাল এই রাগটাই সে তার বন্ধুদের সাথে বা ভবিষ্যৎ সম্পর্কের সাথেও ব্যবহার করবে।
সুখবর হলো, এই অভ্যাসগুলো বদলানো সম্ভব। বাচ্চার কোনো ‘পারফেক্ট’ মায়ের দরকার নেই। ওর শুধু এমন একজন মা দরকার, যে নিজের ভুল বুঝতে পেরে সেটা শোধরানোর চেষ্টা করবে।
রাগের মাথায় যখন মনে হবে এখনই একটা চিৎকার দিই, তখন নিজেকে একটু থামান। একটা লম্বা শ্বাস নিন। আপনি শান্ত থাকলে, আপনার বাচ্চাও শান্ত হতে শিখবে।
আপনার বাচ্চা রেগে গেলে সাধারণত কী করে?
রুশদানের জন্য যা বানাই, ঠিক সেটাই আপনার বাবুর জন্য — ঘরে বানানো, নো প্রিজারভেটিভ, সাদা চিনি ছাড়া।
আরও গল্প পড়ুন

‘না’ বলা মানেই বেয়াদবি নয় — এটা বাচ্চার প্রথম স্বাধীনতা
রুশদান যখন পেটে ছিল, তখন ভাবতাম বাচ্চা মানেই বোধহয় একটা নরম মাটির দলা! আমি যেদিকে কাত করব, সেদিকেই কাত হবে। আমি যা পরাব, তাই পরবে। প্রথম এক-দেড় বছর ব্যাপারটা বেশ তেমনই ছিল। কিন্তু ওর…
পুরো গল্পটা পড়ুন →
গায়ে হাত না তুলে বাচ্চাকে শাসন করবেন কীভাবে?
রুশদান ইদানীং একটা নতুন কাহিনী করে। পানি খেতে গিয়ে অর্ধেকটা খাবে, আর বাকি অর্ধেকটা ইচ্ছা করে ফ্লোরে ফেলে দেবে। তারপর ওই পানির মধ্যে ছপছপ করে পা ফেলবে আর খিলখিল করে হাসবে!
পুরো গল্পটা পড়ুন →
বাচ্চার জন্য রুটিন কেন এত জরুরি?
আপনার বাচ্চা কখনো সকালে নাস্তা করে আটটায়, কখনো নয়টা আবার কখনো ১০ টায়। কখনো দুপুরে ঘুম, কখনো নেই। রাতে ঘুমানোর সময়ও ঠিক নাই — কোনোদিন নয়টা, কোনোদিন এগারোটা বা বারোটা।
পুরো গল্পটা পড়ুন →