
রুশদানের বাবা যখনই বাজারে বা বাইরে যাওয়ার জন্য তৈরি হয়, আমাদের ঘরে যেন একটা ছোটখাটো যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়!
রুশদানও কোমর বেঁধে তৈরি, “বাবা, আমিও যাবো!” – ওর এই জেদের কাছে আমরা প্রায়ই হেরে যাই। সত্যি বলতে, প্রথম প্রথম খুব বিরক্ত লাগতো। মনে হতো, ওকে নিয়ে গেলে শুধু সময় নষ্ট, আর বাড়তি ঝামেলা!
কিন্তু সেদিন বারান্দায় দাঁড়িয়ে ওদের বাবা-ছেলের বাজার থেকে ফেরার দৃশ্যটা দেখছিলাম। রুশদানের ছোট্ট হাতে একটা ধনেপাতার আঁটি, আর মুখে রাজ্যের গল্প! “মা জানো, আমি না আজকে একটা সবুজ গাড়ি দেখেছি!”, “আর বাবা না ওই আঙ্কেলটাকে টাকা দিলো!” – ওর চোখেমুখে কী যে উত্তেজনা আর আনন্দ!
সেদিন আমি বুঝতে পারলাম, রুশদানের এই বাইরে যাওয়ার জেদটা শুধু জেদ নয়, এটা ওর পৃথিবীটাকে আবিষ্কার করার তীব্র আকাঙ্ক্ষা। আমরা যেটাকে ‘ঝামেলা’ ভাবি, সেটাই আসলে ওর জন্য শেখার সবচেয়ে বড় সুযোগ।
তখনই বুঝলাম, বাচ্চাদের জন্য সেরা ক্লাসরুমটা আসলে চার দেয়ালের বাইরে।
আমরা হয়তো ভাবি, বাচ্চারা বাইরে গিয়ে কী আর এমন শিখবে? কিন্তু সত্যিটা হলো:
ওদের ছোট্ট ব্রেইনটা যেন একটা স্পঞ্জ:
বাইরে গেলে নতুন নতুন দৃশ্য, শব্দ, মানুষ দেখে ওদের মস্তিষ্ক সব শুষে নেয়। এতে ওদের শেখার ক্ষমতা বাড়ে। সাধারণ একটা সবজির দোকানও ওদের কাছে একটা আস্ত গবেষণাগার! লাল, সবুজ, হলুদ – এত রঙের মেলা দেখে ওদের মস্তিষ্কের কোষগুলো যেন নেচে ওঠে। এটাই ওদের ব্রেইন স্টিমুলেশন।
বাস্তব গুগল হয়ে ওঠা:
“এটা কী? ওটা কেন?” – ওদের হাজারো প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতেই ওদের শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ হয়। ওদের কমিউনিকেশন স্কিল বাড়ে।
আত্মবিশ্বাসের প্রথম পাঠ:
যখন ওরা দেখে ওদের বাবা-মা কীভাবে অন্যদের সাথে কথা বলছে, কেনাকাটা করছে, তখন ওরাও সামাজিক হতে শেখে। ওদের ভেতরের ভয়, জড়তা কাটে।
বইয়ের পাতা থেকে বাস্তবে:
বইয়ের ছবিতে দেখা রঙবেরঙের ফল-সবজি যখন ওরা বাস্তবে ধরে দেখে, তখন ওদের শেখাটা একেবারে পাকা হয়ে যায়।
তাই এখন রুশদানের বাবা যখন ওকে নিয়ে বের হয়, আমি আর বিরক্ত হই না। বরং ওর জন্য অপেক্ষা করি, নতুন কী গল্প নিয়ে ও ফিরবে সেটা শোনার জন্য।
তাই বলছি, পরেরবার যখন আপনার সোনামণি বাইরে যাওয়ার জন্য জেদ করবে, তখন ওকে ‘ঝামেলা’ না ভেবে, ওর ছোট্ট পৃথিবীর আবিষ্কারক হিসেবে দেখুন। আপনার একটু বাড়তি ধৈর্যই হয়তো ওর ভবিষ্যৎ আত্মবিশ্বাসের সবচেয়ে বড় ভিত্তি গড়ে দেবে।
আপনাদের সোনামণিরাও কি বাইরে যাওয়ার জন্য এমন জেদ করে? কমেন্টে শুনতে চাই আপনাদের মজার অভিজ্ঞতাগুলো!
রুশদানের জন্য যা বানাই, ঠিক সেটাই আপনার বাবুর জন্য — ঘরে বানানো, নো প্রিজারভেটিভ, সাদা চিনি ছাড়া।
আরও গল্প পড়ুন

মনোযোগ ধরে রাখতে ব্রেনের ৩টি সুপারফুড
কদিন আগের ঘটনা। আমার এক বান্ধবী এসেছিল ওর তিন বছরের ছেলেকে নিয়ে। বাচ্চাটা ড্রয়িংরুমে বসে একটা পাজল মেলাচ্ছিল। আমি খেয়াল করলাম, ঠিক ৫ মিনিট পরই সে পাজলটা ছুড়ে ফেলে দিল! এরপর গেল টিভির…
পুরো গল্পটা পড়ুন →
“বাচ্চাটা ওর বাবার মতো খাটোই হবে!”
"বাচ্চাটা মনে হয় ওর বাবার মতো খাটোই হবে!"— আশেপাশে থেকে এই কথাটা শোনার পর অনেক মা বাবাই হয়তো দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। বাচ্চার লম্বা হওয়ার ৮০% জিনের ওপর নির্ভর করে ঠিকই কিন্তু জিনের বাইরেও এমন…
পুরো গল্পটা পড়ুন →
রাগের মাথায় বকার আগে একটু থামুন
ধরুন, আপনি রাগে গিজগিজ করছেন। ছেলে সারা ঘর খেলনা দিয়ে ময়লার ভাগাড় বানিয়েছে, কিংবা টানা এক ঘণ্টা ধরে ফোনে কার্টুন দেখছে। আপনি আর সহ্য করতে না পেরে দিলেন এক ধমক— "ফোনটা রাখবে নাকি আমি…
পুরো গল্পটা পড়ুন →