
রুশদানের দাদা প্রায়ই রুশদানকে সাথে নিয়ে বিকেলে হাঁটতে বের হয়। গতকাল উনি বাসায় এসে বললেন, “তোমার ছেলে তো বাইরে একদম দেবদূত! কী শান্ত, কী লক্ষ্মী!”
আমি কথাগুলো শুনছিলাম আর মনে মনে ভাবছিলাম, “উনি কি আমার ছেলের কথাই বলছেন?”
কারণ, ওই ‘দেবদূত’ ছেলেটাই বাইরে থেকে ফিরে আমাকে দেখামাত্রই এমন সব জেদ আর কান্নার মেলা বসায় যে ইচ্ছে করে আমিও এক সাথে কান্না করি।
আমার মনে হয়, এই অপরাধবোধটা সব মায়েরই থাকে। আমরা ভাবি, “বাইরে ও এত শান্ত, আর আমার কাছে এলেই এত ঘ্যানঘ্যান করে কেন?
শিশু মনোবিজ্ঞানীরা এই পুরো ব্যাপারটা নিয়ে যা বলেন, তা শুনলে আপনি অবাকই হবেন কিছুটা। একটা বাচ্চা যখন তার মায়ের সামনে সবচেয়ে বেশি কান্নাকাটি বা জেদ করে, তার মানে এই নয় যে মা ব্যর্থ। বরং এর মানে হলো, মা সফল!
চলুন, বিষয়টা একটু সহজ করে বুঝাই।
১.
ওই যে বললাম, বাইরের দুনিয়ায় সে লক্ষ্মী, কিন্তু আপনাকে দেখলেই সে ইমোশনাল হয়ে ভেঙে পড়ে বা জেদ করে। এর মানে হলো, বাইরের পৃথিবীতে সে নিজেকে গুটিয়ে রাখে, কারণ ওটা তার জন্য পুরোপুরি নিরাপদ নয়।
কিন্তু আপনি হলেন তার ‘সফট ল্যান্ডিং’। সে জানে, দুনিয়ার সবাই জাজ করলেও তার মা তাকে করবে না।
২.
আপনি বললেন “সোফায় লাফাবে না”, সে ঠিকই লাফাবে!
এটা বেয়াদবি নয়। বাচ্চারা নিয়ম ভাঙে শুধু এটা দেখার জন্য যে, আপনি আপনার সিদ্ধান্তে কতটা অটল।
আপনি যখন শান্তভাবে তাকে বারবার মানা করেন, তখন তার ব্রেন সিগন্যাল পায়—”যাক, মায়ের কথাগুলো শক্ত, আমি নিরাপদ।”
৩.
পার্কে খেলতে খেলতে সে হয়তো অনেকটা দূরে চলে গেল, কিন্তু হঠাৎ ফিরে তাকিয়ে দেখল আপনি আছেন কি না।
এই যে আপনার উপস্থিতি চেক করা, এটাই প্রমাণ করে আপনি তার সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়। সে জানে আপনি আছেন বলেই সে সাহস করে পৃথিবীটা দেখতে পারছে।
৪.
ব্যথা পেলে বা ভয় পেলে সে অন্য কারও কোলে শান্ত হয় না, শুধু আপনাকে খোঁজে। এটা কোনো সাধারণ ব্যাপার নয়, এটা হলো ‘সিকিউর অ্যাটাচমেন্ট’ বা আপনার প্রতি তার গভীর নির্ভরতার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
৫.
“আমি ভাত খাবো না!”—এই কথাটা শুনলে আমাদের রাগ লাগে। কিন্তু একটা বাচ্চা যখন আপনাকে ‘না’ বলার সাহস পায়, তার মানে সে বিশ্বাস করে যে তার মতামতের দাম আপনার কাছে আছে। সে স্বাধীন হতে শিখছে।
৬.
শুধু কান্না নয়, একটা ছোট ফড়িং দেখলে বা একটা খেলনার ঘর বানালেও সে দৌড়ে এসে আগে আপনাকেই দেখায়। এর মানে হলো, আপনি শুধু তার বিপদের বন্ধুই নন, তার আনন্দেরও সবচেয়ে বড় সঙ্গী।
৭.
আপনি হয়তো রেগে গিয়ে তাকে বকা দিলেন, কিন্তু একটু পরেই দেখবেন সে আবার আপনার কোলে এসে বসেছে। এই ফিরে আসাটাই হলো বিশ্বাস। সে জানে, আপনার রাগটা সাময়িক, কিন্তু আপনার ভালোবাসাটা চিরস্থায়ী।
আমরা মায়েরা নিজেদের যতটুকু খারাপ ভাবি, আমরা আসলে তার চেয়ে অনেক, অনেক বেশি ভালো মা। আপনার সোনামণির সাথে এই লক্ষণগুলোর কয়টা মেলে?
রুশদানের জন্য যা বানাই, ঠিক সেটাই আপনার বাবুর জন্য — ঘরে বানানো, নো প্রিজারভেটিভ, সাদা চিনি ছাড়া।
আরও গল্প পড়ুন

পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন: নতুন মায়ের নীরব কষ্ট
বাচ্চার জন্মের পর প্রথম এক বছরে যে মায়েরা মা*রা যান, তাদের মধ্যে একটা বড় অংশের মৃত্যুর কারণ আত্ম*হত্যা? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ৭ জন নতুন মায়ের মধ্যে ১ জন এই ভয়াবহ…
পুরো গল্পটা পড়ুন →
প্রথম হাঁটা, প্রথম “মা” ডাক
Rushdan যখন প্রথমবার হাঁটল, আমি কেঁদে ফেলেছিলাম। প্রথমবার "মা" বলল, বুকটা ভরে গিয়েছিল। প্রথমবার দৌড়াল, প্রথমবার গান গাইল, প্রথমবার প্রশ্ন করল — প্রতিটা "প্রথম" মনে হয়েছিল অলৌকিক।
পুরো গল্পটা পড়ুন →
মনোযোগ ধরে রাখতে ব্রেনের ৩টি সুপারফুড
কদিন আগের ঘটনা। আমার এক বান্ধবী এসেছিল ওর তিন বছরের ছেলেকে নিয়ে। বাচ্চাটা ড্রয়িংরুমে বসে একটা পাজল মেলাচ্ছিল। আমি খেয়াল করলাম, ঠিক ৫ মিনিট পরই সে পাজলটা ছুড়ে ফেলে দিল! এরপর গেল টিভির…
পুরো গল্পটা পড়ুন →