
বাচ্চাকে খাওয়ানোটা কি আপনার কাছেও মাঝে মাঝে একটা যুদ্ধক্ষেত্রের মতো মনে হয়?
রুশদানের মা হিসেবে আমিও এই কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে গেছি। কখনও ও খেতেই চাইতো না, কখনও এক খাবার ছাড়া অন্য কিছু মুখেও নিত না। এই নিয়ে কত যে চিন্তা, কত যে হতাশা কাজ করতো!
পরে অনেক কিছু জেনে, ধৈর্য ধরে চেষ্টা করে বুঝতে পেরেছি, কিছু ছোট ছোট বিষয় খেয়াল রাখলেই এই খাওয়ার সময়টাকে আনন্দময় করে তোলা যায় এবং বাচ্চার সাথে খাবারের একটি সুন্দর সম্পর্ক তৈরি হয়। চলুন, আজ সেইরকম ৭টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করি:
১. বাচ্চাকে পরিবারের সবার সাথে একসাথে খাওয়ান!
বাচ্চারা অনুকরণ করতে ভালোবাসে। যখন সে দেখে পরিবারের সবাই একসাথে বসে আনন্দ করে খাচ্ছে, তখন তার মধ্যেও খাবারের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। এটা তাকে শুধু খেতে শেখায় না, পারিবারিক বন্ধনকেও দৃঢ় করে।
২. খাবার দেখতে রঙিন ও আকর্ষণীয় করে সাজান!
একই খাবার একটু ভিন্নভাবে, রঙিন করে সাজিয়ে দিলে বাচ্চারা খেতে বেশি আগ্রহী হয়। গাজর, বিট, ব্রোকলি দিয়ে খাবারের প্লেটটা সাজিয়ে দিন, কিংবা ফলের টুকরোগুলোকে মজার কোনো আকারে কেটে দিন। দেখবেন, ওদের আগ্রহ বেড়ে গেছে!
৩. ধাপে ধাপে নতুন খাবার যোগ করুন ও প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করুন!
একবারে অনেক নতুন খাবার না দিয়ে, প্রতি সপ্তাহে একটি বা দুটি নতুন খাবারের সাথে পরিচয় করান। নতুন খাবার দেওয়ার পর অন্তত ৩ দিন দেখুন বাচ্চার কোনো অ্যালার্জি বা পেটের সমস্যা হচ্ছে কিনা। এতে সহজেই বোঝা যাবে কোন খাবারে ওর সমস্যা হচ্ছে।
৪. চাপ না দিয়ে ধীরে ধীরে খাবার খাওয়ান!
খাওয়ানোর সময় তাড়াহুড়ো করবেন না। বাচ্চাকে তার নিজের গতিতে খেতে দিন। চাপ দিলে বা জোর করলে খাবারের প্রতি ওর একটা ভয় বা অনীহা তৈরি হতে পারে।
৫. প্রতিদিন একই খাবার খাওয়াবেন না!
একই খাবার প্রতিদিন খেতে বড়দেরও ভালো লাগে না, বাচ্চাদেরও ঠিক তাই! খাবারে বৈচিত্র্য আনুন। এতে সে যেমন বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি পাবে, তেমনি নতুন নতুন স্বাদের সাথেও পরিচিত হবে।
৬. বাচ্চা খেতে না চাইলে জোর করে খাওয়াবেন না!
এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়! বাচ্চারা তাদের পেটের খিদে বুঝতে পারে। যদি সে মুখ ফিরিয়ে নেয় বা খেতে না চায়, তাহলে জোর করবেন না। কিছুক্ষণ পর আবার চেষ্টা করুন। জোর করে খাওয়ালে বাচ্চার সাথে খাবারের একটি নেতিবাচক সম্পর্ক তৈরি হয়।
৭. খাওয়ানোর সময় মোবাইল বা টিভি একদম নয়!
খাওয়ার সময় বাচ্চার মনোযোগ যদি স্ক্রিনে থাকে, তাহলে সে বুঝতেই পারে না সে কী খাচ্ছে বা তার পেট ভরেছে কিনা। এতে হজমের সমস্যা হতে পারে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার বা কম খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। খাওয়ার সময়টা হোক শুধু আপনার আর আপনার বাচ্চার।
রুশদানের ক্ষেত্রে আমি যা করি:
আমি চেষ্টা করি রুশদানকে আমাদের সাথে বসিয়ে খাওয়াতে। ওর প্লেটে খাবারটা একটু সুন্দর করে সাজিয়ে দিই আর খাওয়ার সময় ওর সাথে গল্প করি। যেদিন খেতে চায় না, সেদিন জোর না করে কিছুক্ষণ বিরতি দিই। এই ছোট ছোট পরিবর্তনগুলোই কিন্তু অনেক বড় পার্থক্য গড়ে দিয়েছে!
মনে রাখবেন, বাচ্চাকে খাওয়ানোটা শুধু ওর পেট ভরানো নয়, এটা ওর সাথে সুন্দর সম্পর্ক তৈরি করার এবং ভালো অভ্যাস গড়ে তোলার একটা দারুণ সুযোগ। ধৈর্য আর সঠিক পদ্ধতিই কিন্তু আসল ম্যাজিক!
আপনার বাচ্চাকে খাওয়াতে গিয়ে আপনার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কোনটি? অথবা আপনার কোনো বিশেষ টিপস আছে? কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না!
আমার নতুন যাত্রায়, নতুন স্বপ্নে পাশে থাকতে ফলো করুন- Rushdan Baby Shop
বাচ্চা কাচ্চা নিয়ে আড্ডা দিতে জয়েন করুন- Rushdan Parenting Club
রুশদানের জন্য যা বানাই, ঠিক সেটাই আপনার বাবুর জন্য — ঘরে বানানো, নো প্রিজারভেটিভ, সাদা চিনি ছাড়া।
আরও গল্প পড়ুন

আপনি কেমন মা? রাগী, অসহায় নাকি বন্ধু?
দৃশ্য ১. আপনার বাচ্চা ফ্লোরে গড়াগড়ি দিয়ে কাঁদছে, "আমাকে চকলেট দিতেই হবে!"
পুরো গল্পটা পড়ুন →
বাচ্চা শুধু গরুর দুধই খেতে চায়?
"বাচ্চা তো অন্য কিছুই খেতে চায় না, শুধু গরুর দুধটাই একটু খায়। আমি তাই বারবার ফিডার বা গ্লাসে করে দুধই দিই। সুজির সাথে দেই, ফিরনির সাথে একটু দেই। অন্তত পেট তো ভরছে আর পুষ্টিটাও পাচ্ছে!"
পুরো গল্পটা পড়ুন →
“বাচ্চাটা ওর বাবার মতো খাটোই হবে!”
"বাচ্চাটা মনে হয় ওর বাবার মতো খাটোই হবে!"— আশেপাশে থেকে এই কথাটা শোনার পর অনেক মা বাবাই হয়তো দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। বাচ্চার লম্বা হওয়ার ৮০% জিনের ওপর নির্ভর করে ঠিকই কিন্তু জিনের বাইরেও এমন…
পুরো গল্পটা পড়ুন →