
“আর দুইটা লোকমা খাও, তাহলেই প্লেট খালি!”
“সবজিটা শেষ করো, তারপর চকলেট দেব।”
আমাদের দেশের প্রায় সব মায়েরাই এই কথাগুলো দিনে অন্তত ১৭-২৩ বার বলেন, তাই না?
আমরা মায়েরা বাচ্চার খাওয়ার ব্যাপারে এতটাই সিরিয়াস যে, প্লেট খালি না হওয়া পর্যন্ত আমাদের মনের শান্তি ফেরে না। আমরা ভাবি, প্লেট খালি মানেই বাচ্চা সুস্থ, বাচ্চা পুষ্টি পেল।
কিন্তু সত্যিই কি তাই? আমরা কি কখনো ভেবে দেখেছি, এই “জোর করে প্লেট খালি করানো”র অভ্যাসের পেছনে বাচ্চার ব্রেনে কী ভয়ংকর একটা পরিবর্তন হচ্ছে?
আমরা যখন বারবার বলি, “খেতেই হবে, প্লেট খালি করো,” তখন আমরা আসলে খুব ভালো একটা উদ্দেশ্য নিয়েই বলি। আমরা চাই না খাবার নষ্ট হোক, আর আমরা চাই বাচ্চার যেন পুষ্টির অভাব না হয়।
কিন্তু সমস্যাটা হলো, আমাদের এই ভালো উদ্দেশ্য বাচ্চার একটা খুব জরুরি প্রাকৃতিক শিক্ষাকে নষ্ট করে দিচ্ছে।
বাচ্চারা যখন ছোট থাকে, তাদের ব্রেন একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ জিনিস শেখে—”ক্ষুধা কী?” আর “পেট ভরা কী?”
এটা একটা সংকেত, যা ব্রেন শরীরকে দেয়। কিন্তু আমরা যখন বারবার বলি, “তোমার পেট এখনো ভরেনি, আরও খাও,” তখন আমরা আসলে বাচ্চার ব্রেনের ওই সিগন্যালটাকে ইগনোর করতে শেখাচ্ছি।
বাচ্চা তখন ভাবতে শুরু করে, “আমার পেট ভরেছে কি না, সেটা আমি বুঝবো না, মা বলবে।”
এর ফলে কী হয় জানেন? বাচ্চা বড় হয়েও বুঝতে পারে না কখন তার খাওয়া থামানো উচিত। আর এই ওভার ইটিংয়ের কারণেই আজকের দিনে বাচ্চাদের মধ্যে স্থূলতা বা ওবেসিটির সমস্যা এত বেড়ে গেছে।
তাহলে উপায় কী?
খুব সহজ! আমাদের কাজ আর বাচ্চার কাজটাকে আলাদা করতে হবে।
আমাদের কাজ কী?
আমাদের কাজ হলো বাচ্চাকে স্বাস্থ্যকর, পুষ্টিকর আর সুস্বাদু খাবার দেওয়া। কখন খাবে, কী খাবে, আর কোথায় খাবে—এটা আমরা ঠিক করব।
বাচ্চার কাজ কী?
বাচ্চার কাজ হলো, সেই খাবার থেকে সে কতটুকু খাবে, সেটা সে নিজে ঠিক করবে। ওর শরীর যদি বলে, “আমার পেট ভরে গেছে,” তাহলে ওকে থামতে দিন। জোর করে ওর গলা দিয়ে খাবার ঠেলবেন না।
আমি নিজে রুশদানের সাথে এই বিষয়টা খুব কড়াকড়িভাবে মেনে চলার চেষ্টা করি। আমি ওকে কখনো জোর করি না। ও যতটুকু খায়, ততটুকুতেই আমি খুশি। কারণ আমি জানি, আমি যদি ওকে জোর করি, তাহলে ওর ব্রেন আর শরীর কনফিউজড হয়ে যাবে।
আমরা তো আর বাচ্চার পেটের ভেতরের কথা জানতে পারি না। ওর ব্রেন আর শরীরকে ওর কাজটা করতে দিন। আমাদের কাজ শুধু ভালো খাবারটা সামনে দেওয়া।
রুশদানের জন্য যা বানাই, ঠিক সেটাই আপনার বাবুর জন্য — ঘরে বানানো, নো প্রিজারভেটিভ, সাদা চিনি ছাড়া।
আরও গল্প পড়ুন

বাচ্চার বেয়াদবি বা অদ্ভুত আচরণ সামলাবেন কীভাবে?
রুশদান নানা বাড়িতে বেড়াতে এসেছে কদিন হলো। রুশদান ওর নানাবাড়িতে এলে এমনিতেই একটু বেশি এক্সাইটেড থাকে, আর ওর মামাকে তো চোখের আড়াল করতেই চায় না।
পুরো গল্পটা পড়ুন →
রুশদানের প্রথম মাসগুলো আর নির্ঘুম রাত
রুশদানের প্রথম কয়েকটা মাস আমার জন্য ছিল এক দুঃস্বপ্নের মতো। ওর ঘুমের কোনো নির্দিষ্ট রুটিন ছিল না। দিনের বেলা কুম্ভকর্ণের মতো ঘুমাতো, আর রাত হলেই ওর চোখ ড্যাবড্যাব করে জ্বলে উঠতো! আমি…
পুরো গল্পটা পড়ুন →
ঘ্যান ঘ্যান করা বাচ্চাকে সামলাবেন কীভাবে?
রুশদান রাগ করলে মাটিতে গড়াগড়ি দেয় না। সে করে অন্য কিছু — একটানা ঘ্যান ঘ্যান। এমন একটা সুর যেটা কানে ঢুকলে মাথা থেকে আর বের হয় না। প্রথম পাঁচ মিনিট সামলাই, দশ মিনিটে একটু কঠিন হয়,…
পুরো গল্পটা পড়ুন →